তিন দিনের লালন মেলা সমাপ্ত

Lalon Mela: Kushtia

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও লালন একাডেমির আয়োজনে ১৬, ১৭ এবং ১৮ অক্টোবর বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার এ মেলা চলে। ১৬ অক্টোবর বুধবার তিন দিনব্যাপী বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, লালন সংগীতানুষ্ঠান ও লালন মেলা পালিত হয়।

তিরোধান দিবস উপলক্ষে লালন মাজারকে সাজানো হয়েছিল নতুন সাজে। মাজারের ভেতরে লালন একাডেমির আশপাশ এলাকায় বসে বাউল ফকিরদের আলাদা আলাদা আসর। বাইরে উন্মুক্ত লালন মঞ্চে চলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসবকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় কালি নদীর পাড়ে বসে তিন দিনের লালন মেলা। বাউল দর্শনের ভাবাবেগ আর উৎসুক দর্শকদের ভিড় সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আলোক সজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, মঞ্চ তৈরিসহ আরো নানা আয়োজন করা হয়। দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, সাধক ও আয়োজকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছিল পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

লালন শাহের আখড়া বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে জড়ো হয়েছিল অগণিত লালন ভক্ত-অনুসারীরা। আখড়াবাড়ি চত্বর ও আশে পাশে লালন ভক্তরা আসন গেঁড়ে বসেন। তাদের মুখে মুখে ছিল সাঁইজির বাণী।

মূল উৎসব শুরু হওয়ার আগেই আখড়ায় আসা বাউল সাধকরা মাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। কালিগঙ্গা নদীর তীরে হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে ব্যবসায়ীরা।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত জানান, লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিবারের মতো এবারও বিপুল পুলিশ সদস্য, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুরো মেলা পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতাধীনে ছিল। তিনি বলেন, “মেলায় প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশের ৬টি চেকপোস্ট বসানো ছিল।”

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, “গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাতজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মেলা চলাকালীন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।”

উল্লেখ্য, বাংলা ১২৯৭ সালের পহেলা কার্তিক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ দেহধাম ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায় কালিগঙ্গা নদীর তীরে পালিত হয়ে আসছে লালন তিরোধান দিবস। অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিবছর লালনের আখড়া বাড়ি কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায় সমাগম হয় হাজার হাজার মানুষের। এ উৎসবকে ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে দলে দলে মানুষ ছুটে আসেন লালনের আখড়ায়। কয়েক দিন আগ থেকেই লালন ভক্ত ও বাউলরা আখড়াবাড়িতে হাজির হন।

  • প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ।
  • দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মস্তফা কামাল।
  • তৃতীয় দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া।

লালন একাডেমির সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক (খাদেম) মোহাম্মদ আলী জানান, সাঁইজির ১২৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তার সাধন-ভজনের তীর্থস্থান ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে সকল আয়োজন করা হয়েছে।

Source:The Independent

Photo: Collected