SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

তেঁতুল মস্তিষ্কের জন্য উপকারী ফল

স্বাস্থ্য ২৬ জুন ২০২০
তেঁতুল
ID 31205989 © Jamraslamyai | Dreamstime.com

টক, ঝাল, মিষ্টির স্বাদে আহ্লাদে ভরপুর এই বাংলা। তবে টক বলতেই যার কথা মনে আসে সেটি হল তেঁতুল। যার নাম শুনলে জিভেও জল চলে আসে। কম বেশি সবাইই এই ফল খেতে পছন্দ করে। আর এটা বসন্তের ফল হলেও শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সবসময়ই পাওয়া যায়। তাই যারা এটা পছন্দ করে তাদের খাদ্যতালিকায় তেঁতুলের আচার সবসময় উপস্থিত থাকে। জানা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে মূল্যবান খাবারের মধ্যে তেঁতুল অন্যতম। সারাবিশ্বে রস আস্বাদন ফল হিসেবে পরিচয় লাভ করেছে এই ফল।

কিন্তু অনেকের ধারণা যে এই ফল  খেলে নাকি রক্ত জল হয়ে যায় ও শরীরের নানারকম ক্ষতি সাধিত হয়। তা একেবারেই ভুল বা বাজে ধারণা বলা যেতে পারে। তেঁতুলে থাকে নানা ভেষজ উপাদান যা শরীরের পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ ও দামীও বটে। এছাড়া নানারকম উপকার হয়। তবে হ্যাঁ টাটকা তেঁতুলের থেকে পুরোন তেঁতুল শরীরে বেশি কার্যকর ও উপকারী।

তেঁতুলের বিবরণঃ

তেঁতুল বৈজ্ঞানিক নাম: Tamarindus indica, ইংরেজি নাম: Melanesian papeda  এটি Fabaceae পরিবারের Tamarindus গণের অন্তর্ভুক্ত টক ফল।

“তামর-ই-হিন্দ” ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে তেঁতুল নামটি যার অর্থ “ভারতের খেজুর”।  আফ্রিকার স্থানীয়রা বলেন, এই বহিরাগত ফল অতি লম্বা একধরনের গাছে জন্মায় যা এশিয়া, মেক্সিকো, ভারত এবং বাংলাদেশের শুষ্ক অঞ্চলে জন্মায়।

তেঁতুল মস্তিষ্কের ক্ষতি করে বলে অনেকেই মনে করে থাকেন কিন্তু তাও ভুল বরং মস্তিষ্কের জন্য উপকারি এই ফল । তেঁতুলের মধ্যে থাকা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, যা খাবার থেকে আয়রন সংগ্রহ করে বিভিন্ন কোষে তা পরিবহণ করে, এটি মস্তিষ্কের জন্য খুব দরকার। আয়রনের সঠিক পরিমাণ মস্তিষ্কে পৌঁছলে  চিন্তা ভাবনার গতি আগের থেকে অনেক বেশি বেড়ে যায়। তেঁতুলগাছের পাতা, ছাল, ফলের শাঁস (কাঁচা ও পাকা), পাকা ফলের খোসা, বীজের খোসা সব কিছুই শরীরে উপকারী । এই গাছের কচিপাতায়  রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে অ্যামাইনো অ্যাসিড। পাতার রসের শরবত সর্দি-কাশি, পাইলস ও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় বেশ কাজ করে রোগ উপশম করার।

গর্ভাবস্থায় তেঁতুলঃ

গর্ভবতী মহিলারা টক খেতে পছন্দ করেন। আর এই টক হয় সাধারনত তেঁতুল না হয় তেঁতুলের আচার। গর্ভবতী থাকাকালীন যে বমি বমি ভাব বা বমি হয়, সেটা এই ফল কাটাতে সক্ষম হয়।

তেঁতুলের ভেষজ গুণঃ

তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ভেষজ গুণ। তেঁতুল দেহে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী। তেঁতুল দিয়ে কবিরাজি, আয়ূর্বেদিক, হোমিও ও এলোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করা হয়। পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ সব ফলের চেয়ে অনেক বেশি। নারাকেল ও খেঁজুর বাদ দিলে মোটামুটি সব ফলের থেকে খাদ্যশক্তির পরিমাণ অনেক বেশি। এছাড়া পুরানো তেঁতুল হজমে খুব কাজ করে। বাসি তেঁতুল এক কাপ জলে ভিজিয়ে সামান্য নুন, চিনি বা গুড় মিশিয়ে খেলে কারোর পেট ফাঁকা বা বদহজম একেবারে সেরে যায়।

শুধু তাই নয়, ক্যালসিয়ামের পরিমাণ  ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি এই তেঁতুলে। এই তেঁতুলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান স্বাভাবিক পরিমাণে বিদ্যমান। স্কার্ভি রোগ, কোষ্ঠবদ্ধতা, শরীর জ্বালা করা প্রভৃতি রোগে তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী। তেঁতুল রক্তের কোলস্টেরল কমায়। মেদভুঁড়ি কমায়। পেটে গ্যাস হলে তেঁতুলের শরবত খেলে ভালো হয়। তেঁতুল খেলে কোনো ক্ষতি হয় না। তবে বেশি খেলে রক্তের চাপ কমে যেতে পারে।