‘তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বাঁচো’

Ramadan dan amalan Nabi © Mohamed Ahmed Soliman | Dreamstime.com

মানুষের যেসব খারাপ অভ্যাস রয়েছে, হিংসা ও বিদ্বেষ তার মধ্যে খুবই ক্ষতিকারক। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক, সামাজিক জীবনে হিংসা-বিদ্বেষের ফলে দ্বন্দ্ব-কলহ, ঝগড়া ঝগড়া-বিবাদ শান্তিপূর্ণ জীবনকে অশান্তি দিয়ে ভরিয়ে দেয়।

মানুষের নিচু মনমানসিকতা, ঈর্ষাপরায়ণতা, ধন সম্পদের প্রতি লোভ, পদমর্যাদার প্রতি লালসা, নিজেকে বড় মনে করা থেকে হিংসা বিদ্বেষের উৎপত্তি বা বিকাশ হয়। এই হিংসা বিদ্বেষ মানুষের সৎকর্ম কে তার অজান্তেই নষ্ট করে ফেলে।

প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) বলেন, তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বাঁচো। কেননা, হিংসা মানুষের নেক আমলকে এমনভাবে ধ্বংস করে, যেভাবে আগুন লাকড়িকে জ্বালিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ)

অন্যের সুখ-শান্তি, ধন-সম্পদ, অর্থাৎ অন্য কেউ সফল হলে আর সে সফলতা ভেতর থেকে মেনে না নিয়ে তা ধ্বংস কামনা করা, অথবা এর মালিক হবার কামনা বাসনাকে ‘হাসাদ’ বা বাংলায় হিংসা বলা হয়।

নিজেদের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ না করে এর স্থলে সামাজিক শান্তি ও সমমর্মিতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, ‘তবে কি আল্লাহ মানুষকে নিজ অনুগ্রহে যা যা দিয়েছেন তা নিয়ে ওরা ঈর্ষা করে?’ (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৪)

আসলে হিংসা একজনকে কত নিচে নিয়ে যেতে পারে তার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। একজন হিংসুক ব্যক্তি অন্যের ভালো সহ্য করতে পারে না। সে কারো উন্নতি দেখলেই তার অন্তরের জ্বালা অনুভব করে। এইরকম অন্তর এবং তার থেকে সৃষ্ট আচরণ ইসলামের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একজন হিংসুক ব্যক্তি যখন ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত থাকে তখন তাকে পরিত্যাগ করাই শ্রেয়। এজন্যই পবিত্র কোরআনে হিংসুকের হিংসা থেকে মুক্ত থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়ার বিষয়টি রয়েছে, ‘আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই, যখন সে হিংসা করে।’ (সূরা আল ফালাক, আয়াত: ৫)

রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা অন্যের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে বেঁচে থাকবে, কেন না এরূপ ধারণা জঘন্যতম মিথ্যা। আর কারও দোষ অনুসন্ধান করবে না, কারও গোপনীয় বিষয় অন্বেষণ করবে না, একে অন্যকে ধোঁকা দেবে না, পরস্পর হিংসা করবে না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ মনোভাব পোষণ করবে না, পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করবে না, বরং তোমরা সবাই এক আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

হিংসা-বিদ্বেষের কঠিন পরিণতি সম্বন্ধে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমলগুলো পেশ করা হয় এবং সব মুমিন বান্দার গুনাহখাতা মাফ করে দেওয়া হয়; কিন্তু যাদের পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ ও দুশমনি আছে, তাদের ক্ষমা করা হয় না। তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন তাদের ছেড়ে দাও, যেন তারা ফিরে আসে অর্থাৎ মিলে যায়।’ (মুসলিম)

সুতরাং আমরা ভালোভাবে বুঝতে পারছি যে আমাদের কারোই হিংসা বিদ্বেষ করা উচিত নয়। আমাদের নিজের যা কিছু আছে তা নিয়েই সব সময় শুকরিয়ার সাথে থাকতে হবে। অন্যের দিকে না তাকিয়ে সবসময় নিজের দিকে তাকাতে হবে। আমার কি নেই এ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে , আল্লাহ আমাকে কি কি দিয়েছেন তা নিয়ে ভাবতে হবে। অন্তর থেকে সকল ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে সমাজের সকলের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে শান্তিতে মিলেমিশে থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য বলেছেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মুণ্ডনকারী (ধ্বংসকারী) রোগ ঘৃণা ও হিংসা তোমাদের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে আসছে। আমি চুল মুণ্ডনের কথা বলছি না, বরং তা হলো দ্বীনের মুণ্ডনকারী’ (তিরমিজি ও আহমাদ)। আসলে সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করে আল্লাহর সকল সৃষ্টির সেবা করাই হচ্ছে ইসলামের অনুশীলন। তাই আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে চাইলে, আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাইলে, অবশ্যই সর্বাবস্থায় হিংসা বিদ্বেষ ত্যাগ করে শুভ্র সুন্দর মন মানসিকতা নিয়ে জীবন যাপন করাই একান্ত বাঞ্ছনীয়।