তোমরা সকলেই পথভ্রষ্ট, শুধুমাত্র সে ছাড়া যাকে আমি হেদায়াত দান করি: রাজত্ব, কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর

dreamstime_s_99310444

(২য় পর্ব)

প্রতিপালক তিনি

আল্লাহ তা’আলা হলেন এককভাবে সমস্ত কিছুর মালিক ও প্রতিপালক। তিনিই সকলকিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি সমগ্র বিশ্বকে এককভাবে পরিচালনা করেন। সর্বভৌমত্ব ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর।

অর্থাৎ সার্বভৌমত্বে, প্রতিপালনে, কর্তৃত্বে একমাত্র আল্লাহই অধিপতি ও মালিক; এতে তাঁর কোনো শরীক নেই। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহই তোমাদের রব, সর্বময় কর্তৃত্ব ও রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।” (আল কুরআন-৩৯:৬)

আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র বলেন, “তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব, সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁরই, আর আল্লাহকে ছেড়ে তোমরা যাদেরকে ডাকো তারা খেজুরের আঁটির আবরণেরও মালিক নয়।” (আল কুরআন-৩৫:১৩)

মহান আল্লাহ বলেন, “বিধান দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন শুধু তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করতে; এটাই শাশ্বত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” (আল কুরআন-১২:৪০)

এখানে আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজত্ব ও হুকুম সবই একমাত্র আল্লাহর। 

ফয়সালা তিনি করেন

আল্লাহই ফায়সালা করেন তাঁর ইচ্ছানুযায়ী। তিনিই আদেশ করেন অর্থাৎ তিনি তাঁর সৃষ্টিকে তাঁর ইচ্ছামত নির্দেশ দেন। কাউকে মর্যাদা দেন আবার কাউকে নীচু করেন, কাউকে জীবিত রাখেন আবার কাউকে মৃত্যুদান করেন, কাউকে ধনসম্পদ দান করেন আবার কাউকে সহায় সম্বলহীন করেন। তিনিই এটি ফায়সালা দিয়েছেন যে, ইসলাম সম্মানিত হবে এবং সমস্ত ধর্মের উপর বিজয়ী থাকবে। কেউ সেটাকে বাতিল করতে বা পরিবর্তন করতে পারবে না।

আল্লাহ বলেন, “সেদিনের (অর্থাৎ, কিয়ামতের দিবসের) বাদশাহ একমাত্র আল্লাহ। তিনি মানুষের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করবেন। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাঁরা নিয়ামতে ভরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যারা কুফরী করেছে আর আমার নির্দশনসমূহকে অস্বীকার করেছে অচিরেই তারা আস্বাদন করবে অপমানজনক শাস্তি।” (আল কুরআন-১৫:৫৬-৫৭)

আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র বলেন, “যেদিন তাদের জিহ্বা, তাদের হাত এবং তাদের পা তারা যা করত সে ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। সেদিন আল্লাহ তাদের ন্যায্য প্রতিদান দিয়ে দেবেন, আর তারা জানবে যে, আল্লাহর ফয়সালা সুস্পষ্ট সত্য।” (আল কুরআন-২৪:২৪)

অর্থাৎ, কিয়ামতের দিবসে তাদের জিহ্বা, হাত ও পা কথা বলবে এবং স্বয়ং তাদের বিরুদ্ধে তাদের অপরাধসমূহের সাক্ষ্য দিবে।

আনাস রাযিঃ বলেন, আমরা একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ছিলাম। এমন সময় তিনি এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। তারপর তিনি বললেন, “তোমরা কি জানো আমি কেন হাসছি?” আমরা বললাম, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।” তিনি বললেন, “কিয়ামতের দিন বান্দা তার প্রভুর সাথে যে ঝগড়া করবে তা জানতে পেরে আমি হাসছি।” সে বলবে, “হে প্রভু! আমাকে কি আপনি জুলুম থেকে নিরাপত্তা দেননি?”

তিনি বলবেন, “হ্যাঁ।” তখন সে বলবে, “আমি আমার বিরুদ্ধে নিজের ছাড়া অন্য কারও সাক্ষ্য গ্রহণ করবো না।” তখন আল্লাহ বলবেন, “তুমি নিজেই তোমার হিসাবের জন্য যথেষ্ট।” তারপর তার মুখে মোহর মেরে দেওয়া হবে এবং তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে কথা বলার ক্ষমতা প্রদান করা হবে। এরপর সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তার কর্মের বিবরণ দিবে। অতঃপর তাকে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হবে। তখন সে বলবে, “তোদের ধ্বংস হোক, তোদের উপর ভরসা করেই তো আমি আল্লাহর সাথে বিবাদের লিপ্ত হয়েছিলাম।” (মুসলিম)

সমস্ত রাজত্ব আল্লাহর

আল্লাহর জন্যই সমস্ত রাজত্ব। এমন কোন রাজা বা বাদশাহ নেই যে আল্লাহর অধীনে নয়। আসমান ও জমিনে এমন কোন কল্যাণ নেই যা তাঁর দান ও অনুগ্রহ নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই আল্লাহর।” (আল কুরআন-২:২৫৫)

তিনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। আল্লাহ বলেন, “বলুন, হে আল্লাহ! আপনিই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। আপনারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।” (আল কুরআন-৩:২৬)

তিনিই মালিক ও অধিপতি। অগণিত তাঁর দান, বান্দাদের প্রতি অঢেল দানের কারণে তাঁর রাজত্বে সামান্যতমও ঘাটতি হয় না এবং কোনো কাজ তাঁকে অপর কোনো কাজ থেকে বিরত বা বিস্মৃত রাখতে পারে না। আল্লাহ তা’আলা এই সকল গুণাবলিকে উল্লেখ করেই হাদিসে কুদসীটিতে তাঁর পরিচয় তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন।

(সমাপ্ত)