ত্বকের সমস্যা থাকলে খেতে পারেন ফুটি ফলের রস

dreamstime_s_122481076

ফুটি এই ফলটাকে আমরা অনেকেই ‘বাঙ্গী’ নামে চিনে থাকি। দেখতে অনেকটা কুমড়োর মতো হয়। কাঁচা অবস্থায় এর বাইরের রং সবুজ হলেও ফল পাকতে শুরু করলে বাইরের রং হয়ে যায় হলুদ। বাঙ্গী বা ফুটি ফলের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হল এতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় পদার্থ থাকে, যা আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত জলের ঘাটতি পূরণে সহায়ক।

ফুটি বা বাঙ্গী প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলা যেতে পারে। যেহেতু গ্রীষ্মকালে বা গরমের সময়ে ফুটি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় তাই অনেকেই বাঙ্গী টুকরো টুকরো করে কেটে তাতে চিনি মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খেয়ে থাকেন। এতে ফলের একটা অন্যরকমের স্বাদ পাওয়া যায়, আর বাঙ্গীর যে একটা বিশেষ পানসে স্বাদ তাও খানিকটা কেটে যায়(যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা এইভাবে খাবেন না, তারা সামান্য বিটনুন বা মরিচ ব্যবহার করে দেখতে পারেন)। সাধারণভাবে মাটির উপরে নির্ভর করে দুইধরনের বাঙ্গীর ফলন আমাদের চোখে পড়ে। এক, এঁটেল বাঙ্গী। দুই, বেলে বাঙ্গী।

প্রোটিন, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজ সমৃদ্ধ ফুটি ভারতের রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব এবং তেলেঙ্গনা প্রদেশে চাষ করা হয়ে থাকে।

বাঙ্গী বা চলতি ভাষায় এই ফুটি ফল বহুগুণসমৃদ্ধ। সেই বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা যেতে পারে।

ভিটামিনের পর্যাপ্ততা

ফুটিতে রয়েছে ভিটামিন সি। আমরা সকলেই জানি ভিটামিন সি-এর উপস্থিতির কারণে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এছাড়া এই ভিটামিনের উপস্থিতি দেহের কোনও ক্ষয় নিরাময়েও সাহায্য করে।

জলীয় উপাদান

আলোচনা শুরুতেই বলা হয়েছে ফুটিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে পানি। যা আমাদের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। গরমের সময়ে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ার পাশাপাশি এই ফুটি খাওয়াও বিশেষভাবে জরুরি।

ফাইবারের উপস্থিতি

ফুটি বা বাঙ্গীতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফাইবার। ফাইবারের অন্যতম প্রধান কাজই হল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা। এছাড়া হজমেও এটি বিশেষভাবে সাহায্য করে।

দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রত্যেকেরই অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। এক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকেই বিভিন্নরকম পদ্ধতি বা নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করে থাকি। এই প্রসঙ্গে বলা যায় ফুটিতে কিন্তু অতিরিক্ত কোনও ফ্যাট নেই। সুতরাং, দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণেও এই ফলটি কার্যকরী।

ত্বকের সমস্যা নিরাময়

ত্বকের সমস্যাতেও ফুটির রসকে আপনি কাজে লাগাতে পারবেন। একটা মিক্সার গ্রাইন্ডারে ভাল করে ফুটির কয়েকটি টুকরো নিয়ে, সেই থেকে প্রয়োজনীয় রস তৈরি করে ফেলুন। এই রস ত্বকের যে সমস্যা সেইখানে প্রয়োগ করুন দেখবেন তাতে অনেকটাই সমস্যা নির্মূল হয়েছে। একজিমা জাতীয় রোগের ক্ষেত্রেও এই ফুটির রস অনেক ভাল কাজ করে।

চুলের সমস্যা নিরাময়ে

ভিটামিন বি সমৃদ্ধ ফুটি ত্বকের সমস্যার পাশাপাশি চুলের সমস্যা নির্মূলেও সহায়ক। চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে, একইসঙ্গে চুলের বৃদ্ধি বাড়াতেও এটি কার্যকরী।

অন্যান্য সমস্যা

অনিদ্রা, খিদে না পাওয়া বা খাবার ঠিকমতো হজম না হওয়া এই জাতীয় সমস্যাতেও ফুটি ভাল কাজ করে এমনটা বলা যেতে পারে। চিনির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরা স্বচ্ছন্দে এই ফলটি খেতে পারেন।

বার্ধক্য প্রতিরোধ

ফুটির রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ বের করে দিতে যেমন সাহায্য করে, তেমনই অন্যদিকে বার্ধক্য প্রতিরোধে এই ফল বা এই ফল দিয়ে তৈরি স্যালাড বিশেষভাবে উপকারি।

চোখের সমস্যাতে এবং রক্তাল্পতা রোধে

ফুটিতে থাকে বিটা ক্যারোটিন, যা আমাদের চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারি এমনটা বলা যেতে পারে। এছাড়া এরমধ্যে উপস্থিতি ফোলিক অ্যাসিড শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। সুতরাং, রক্তাল্পতা নির্মূলেও এর ভূমিকা রয়েছে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

বিভিন্ন খনিজের পদার্থের মধ্যে ফুটিতে উপস্থিত পটাশিয়াম আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। একইসঙ্গে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় রাখতেও এই ফলের ভূমিকা রয়েছে।

মানসিক অবসাদ প্রতিরোধে

আমাদের এখনকার জীবন অত্যন্ত ব্যস্তময়, গতিময়। তাই অনেকসময়েই নানা কারণে আমরা মানসিক অবসাদের শিকার হয়ে থাকি। কিন্তু তারও সুনির্দিষ্ট নিরাময় রয়েছে। ফ্রুট স্যালাডের মধ্যে আপনি এই ফলটিকে রাখতে পারেন, যেহেতু ফুটি আমাদের শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ সঠিক পদ্ধতিতে সঞ্চালিত করে থাকে, তাই আমাদের মস্তিষ্কের কোশগুলোতেও অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম। কাজেই অনেক সময়েই মানসিক অবসাদ বা স্ট্রেস নির্মূল হয়ে যায়।

পরিশেষে একটা কথা ফুটি বা বাঙ্গী হল অত্যন্ত সহজলভ্য। কাজেই আপনি নিজেদের খাদ্যতালিকাতে অবশ্যই এই ফলটিকে রাখুন।