SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

দাঁতের জন্য অত্যন্ত উপকারী আতা ফল

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ০৪ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
আতা ফল
© Pleprakaymas | Dreamstime.com

দাঁত নিয়ে আপনারা অনেকেই কমবেশি ভোগেন। বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মেই হাড়ের ক্ষয়ের সঙ্গে দাঁতের ক্ষয় হতে শুরু করে। কিন্তু আজকাল কমবয়সীদের মধ্যেও দাঁতের সমস্যা বাড়ছে। এর জন্য মূলত দায়ী খাদ্যাভ্যাস। অতিরিক্ত কোল্ডড্রিঙ্কস, চকোলেট, ক্যান্ডিজাতীয় খাবার ছোট থেকে খাওয়ার ফলে দাঁত দ্রুত ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। আর তা বাচ্চাদের বাবা-মায়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার ভালভাবে ব্রাশ করলেও অনেকের ক্ষেত্রে জিনগত কারণে দাঁতের সমস্যা দেখা যায়। তবে এমন অনেক খাবার আছে, যা দাঁতকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে এবং দাঁতকে অকালে ক্ষয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এরকমই একটি ফল আতা। আতাকে হিন্দিতে বলা হয় ‘সীতাফল’, উর্দুতে এর পরিচিতি ‘শরিফা’ নামে, ইংরাজিতে একে ‘সুগার অ্যাপল’ বা ‘কাস্টার্ড অ্যাপল’ বলা হয়ে থাকে। আতা ফল কীভাবে দাঁতের উপকারে লাগে, আজ আমরা সেই নিয়ে আলোচনা করব।

ইতিহাসে আতা ফল

আতার জন্মস্থান সম্ভবত আমেরিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে। সেখানকার নিরক্ষীয় জলবায়ুতে আতার চাষ ভাল হত। তবে সেখান থেকে আতা কীভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে এল, সে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকে মনে করেন, পর্তুগিজ, স্পেনীয় বণিকদের হাত ধরেই আতা খ্রিস্টিয় পঞ্চদশ শতক নাগাদ ভারতীয় উপমহাদেশ সহ গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। আবার কেউ-কেউ মনে করেন, আতা প্রাচীন ভারতেও উৎপাদিত হত। কারণ অজন্তার গুহাচিত্রে এবং মথুরার ভাস্কর্যে আতা ফলের সন্ধান মেলে। ষোড়শ শতকে আবুল ফজলের লেখা ‘আইন-ই-আকবরি’-তেও ফলের কথা পাওয়া যায়। বর্তমানে এই জনপ্রিয় ফল এশিয়া, আমেরিকা সহ পৃথিবীর নানা দেশে উৎপন্ন হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানোনা স্কোয়ামোসা।

কেন খাবেন আতা?

আতায় আমাদের শরীরে ক্যালোরির যোগান দেয়। এছাড়া এই ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬। ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানে ভরপুর এই ফল আমাদের শরীরের নানা রোগকে প্রতিরোধ করতে পারে। কথায় আছে, দিনে একটা আপেল খেলে তা নাকি যাবতীয় অসুখ-বিসুখ এবং ডাক্তারকে দূরে রাখতে সাহায্য করে! এই কথাটা আতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আতা ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো রোগের সম্ভাবনা কমায়, হজমে সহায়তা করে, এবং ক্যানসার প্রতিরোধ করে। সুন্দর ত্বক ও চুল যদি চান, তাহলে আতা আপনার কাজে লাগতে পারে। তবে আতার অন্যতম উপকারিতা হল, এটি দাঁত ও মাড়ি ভাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দাঁতের সমস্যায় উপকারী আতা ফল

আতায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে, যা আমাদের দাঁতের প্রধান উপাদান। তাই নিয়ম করে আতা খেলে দাঁতের ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায় তো বটেই, কিন্তু তার পাশাপাশি আতার বাইরের খোসাটি দিয়ে যদি সপ্তাহে অন্তত একবার দাঁত মেজে নিতে পারেন, তাহলে ম্যাজিকের মতো ফল পাবেন। দাঁতের মধ্যে খাবার জমে থাকায় দাঁত অনেকসময়েই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়াকলাপে ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। দামি টুথপেস্ট ব্যবহার করেও অনেকসময় এই ক্ষয় আটকানো যায় না। ফলে অনিবার্যভাবেই শরণ নিতে হয় ডাক্তারের, যার ফলস্বরূপ হয়তো দাঁতটা তুলেই ফেলতে হয়! দাঁতের এই অবাঞ্ছিত ক্ষয় আটকাতে এবার থেকে আতার খোসা দিয়ে দাঁত মাজুন। এটি শুধু দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধেই কার্যকরী তা না, নানা ইনফেকশনের কারণে দাঁতে ব্যথা হলেও আতা সেই ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

মাড়ি ভাল রাখে আতা

দাঁতের সমস্যা ছাড়াও, মাড়ির ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যাতেও আতা দারুণ কাজে দেয়। আমরা জানি দাঁতের মাড়ি ভাল রাখতে, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে ভিটামিন সি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আতায় প্রচুর পরিমাণে থাকা ভিটামিন সি এক্ষেত্রে সহায়ক। মাড়ির ক্ষত, ইনফেকশনকে দ্রুত সারিয়ে তুলতে আতার জুড়ি নেই। তাই যারা দাঁতের সমস্যা ভুগছেন, অথচ দাঁত তোলার ভয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের খাদ্যতালিকায় আতা ফলকে রাখুন। তবে আতা মরশুমি ফল, সারাবছর বাজারে পাবেন না। তাই যখনই আতা পাওয়া যাবে, নিয়ম করে খেতে ভুলবেন না। আর আপনার সন্তান আতা খেতে ভাল না বাসলে ওকে আতা খাওয়ানো অভ্যেস করুন। দেখবেন, ওর দাঁতের সমস্যা থেকে থাকলে তা শীঘ্রই দূর হয়ে যাবে।