SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

দান-সদকা: যেখানে বিনিয়োগ করা সত্যিই খুব প্রয়োজন

যাকাত ২২ জানু. ২০২১
ফিচার
দান-সদকা
© Wavebreakmedia Ltd | Dreamstime.com

আপনাকে যদি কেউ এমন একটি অফারের কথা বলে যেখানে আপনি কাঙ্ক্ষিত পণ্যের পাশাপাশি দ্বিগুণ অর্থও ফেরত পাবেন এবং আরও অতিরিক্ত পুরষ্কার পাবেন তাহলে আপনি কি করবেন? অবশ্যই পণ্যটি কেনার জন্য ছুটে যাবেন। কারণ না জানি পণ্যের মজুত আবার শেষ হয়ে যায়।

আমাদের সকলেরই দুনিয়ার এরকম বিশেষ অফারের পিছনে ঝোঁক রয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য প্রায়শই আমরা এই একই রকমের বিষয়কে উপেক্ষা করি যখন এটা আখিরাতের সাথে সম্পর্কিত হয়। আল্লাহ আমদেরকে যেসকল বিশেষ অফারের কথা বলেছেন আমরা সেগুলিকে খুব একটা গুরুত্বের চোখে দেখি না। এর একটি অন্যতম কারণ হল শয়তানের ধোঁকা এবং এগুলি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে রয়েছে। কিন্তু আমরা কি কখনও চিন্তা করেছি যে, এগুলি কতটা বাস্তবসম্মত! দুনিয়াতে কোনো অফারের মজুদ ফুরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আল্লাহর খাজানা তো অফুরন্ত।

নিম্নে সদকার এমন কিছু দিক তুলে ধরা হল যেগুলির মাধ্যমে আপনি অনুধাবন করতে পারবেন যে, দান-সদকা করা প্রকৃতপক্ষে আমাদের জন্য কতটা জরুরী।

দান-সদকা সম্পদকে বৃদ্ধি করে

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ ব্যয় করার উদাহরণ হচ্ছে সেই বীজের মত যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায়। আর প্রত্যেকটি শীষে একশতটি করে দানা থাকে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা (এর চেয়েও) অতিরিক্ত দান করেন। তিনি সুপ্রশস্ত, সুবিজ্ঞ।” (২:২৬১)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

“যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো সম্পদ ব্যয় করবে তাকে সাতশ গুণ পর্যন্ত সওয়াব প্রদান করা হবে।” (মুসনাদে আহমাদ)

দানকারীর জন্য ফেরেশতা দু’আ করে আবু হুরায়রা(রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

“প্রতিদিন সকালে দুইজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন দানকারীর জন্য দু’আ করে বলেন, “হে আল্লাহ দানকারীর সম্পদে বিনিময় দান করো। (সম্পদ বৃদ্ধি করো)” আর দ্বিতীয়জন কৃপণের জন্য বদ দু’আ করে বলেন, “হে আল্লাহ কৃপণের সম্পদ (সম্পদের বরকত) ধ্বংস করে দাও।” (বুখারী, মুসলিম)

দানকারীর জন্য দুনিয়া আখিরাতের সকল বিষয় সহজ করে দেয়া হয়

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কোনো অভাব গ্রস্তের অভাব দূর করতে সাহায্য করবে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিষয় সহজ করে দিবেন।” (মুসলিম)

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় মুমিন কিয়ামত দিবসে নিজের দান-সদকার ছায়াতলে অবস্থান করবে (অর্থাৎ, নিরাপদে থাকবে)” (তাবারানী, বাইহাকী)

গোপনে সদকা করার ফজিলত

গোপনে-প্রকাশ্যে যে কোনো ভাবেই দান করা যায়। সকল দানেই সওয়াব রয়েছে। তবে গোপনে দান আল্লাহ বেশি পছন্দ করেন। কারণ গোপনে দান করার সময় আল্লাহর সন্তুষ্টিই একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে। আল্লাহ বলেন,

“যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে ফকীর-মিসকিনকে দান করো, তবে এটা আরও অধিক উত্তম। আর তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।” (২:২৭১)

এছাড়া নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামত দিবসে সাত শ্রেণীর মানুষ আরশের নীচে ছায়া লাভ করবে। তম্মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে যারা এত গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কি দান করেছে তা বাম হাতও জানতে পারে না।” (বুখারী, মুসলিম)

দান-সদকা গুনাহ মাফ করে ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“সালাত আল্লাহর নৈকট্য দানকারী, সিয়াম ঢাল স্বরূপ এবং দান-সদকা গুনাহসমূহকে এমনভাবে মিটিয়ে ফেলে যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে ফেলে। খেজুরের একটি অংশ দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করো।”

আত্মীয়-স্বজনকে দান করা

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মিসকিনকে দান করলে তা শুধু একটি দান হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু নিকটাত্মীয় কোনো গরীবকে দান করলে তাতে দ্বিগুণ সওয়াব হযবে। একটি সদকার; অপরটি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার।” (তিরমিযী)

কৃপণের পরিণতি

কৃপণতা একটি নিকৃষ্ট বিষয়। কৃপণতা থেকে মানুষের মনে হিংসা সৃষ্টি হয়। এ কারণেই মানুষ লোভী হয়। ফলে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সম্পদের লোভে যে কোনো অন্যায় ও অবৈধ কাজে পা বাড়াতে পিছপা হয় না। এজন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন,

“কৃপণতা ও লোভ থেকে সাবধানে থাকো। কেননা পূর্ব যুগে এই কারণেই মানুষ রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, মানুষকে খুন করেছে এবং নানা প্রকার গুনাহ ও হারাম কর্মে লিপ্ত হয়েছে।” (আবু দাউদ)

আশা করি এ আলোচনা থেকে আমাদের নিকট সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সদকা আমাদের জন্য আসলেই কতট গুরুত্বপূর্ণ এবং সদকার ভিতর বিনিয়োগ করা আমাদের জন্য সত্যিই কতটা প্রয়োজনীয়।