শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

দাম্পত্য জীবনে খুশি হতে পাঁচ উপায়

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক আল্লাহর পক্ষ থেকে এক টুকরো নেয়ামত। নবীদের সুন্নাত ও পৃথিবীতে জান্নাতের আবেশ। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে একজন নেককার স্ত্রী।
কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু দমকা হাওয়া এলোমেলো করে দিতে পারে এই সুন্দর নেয়ামত অথবা কোনো ঠুনকো মান অভিমানের পাল্লা ভারী হতে হতে একসময় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়ে পারে বৈবাহিক সম্পর্ক। তাই দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই মেনে চলুন পাঁচটি বিষয়।

১. মনের মিল : দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মনের মিল। মনের মিল না থাকলে সংসার জীবনে সুখী হওয়া যায় না। আর সবসময় মনের মিল না-ও হতে পারে। তাই বলে অন্য কারও তুলনা টেনে আনবেন না। এতে হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারেন সঙ্গী। যে কোনো সমস্যায় দুজনে খোলাখুলি কথা বলুন। পরস্পরের পছন্দ–অপছন্দও জেনে নিন এবং গুরুত্ব দিন দেখবেন সুখেই কাটছে সংসার।

২. ঘরের কাজে সাহায্য করা: আমাদের সমাজে কিছু নিয়ম বহুদিন ধরে চলে আসছে। তাহলো পুরুষেরা ঘরের কাজ করবে না। ঘরের কাজ ও বাচ্চা পালা শুধুমাত্র মহিলাদের দায়িত্ব। এটা ঠিক নয়। সুখী সংসার এবং দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনকে কাজ করতে হবে। সারাদিন অফিস করে এসে ঘরের কাজে সাহায্য করতে মন নাও চাইতে পারে তবে মনে রাখাটা জরুরি। আপনি বাইরে পরিশ্রম করলেও সারাদিন আপনার স্ত্রীও কিন্তু ঘরে পরিশ্রম করেছেন। সে ক্ষেত্রে রাতের কিছু কাজ ভাগ করে নেয়াটা খুব কঠিন এবং পরিশ্রমের কিছু হবে না।

৩. স্ত্রীর সৌন্দর্য এবং কাজের প্রশংসা করুন: নারীরা ঘরের কাজ করবে এখানে প্রশংসার কী আছে? কথাটা একদমই ভুল। নারীরা ঘরে হোক বা বাইরে অনেক পরিশ্রম করেন কিন্তু বিনিময়ে কোনো কিছু টপাওয়ার আশা করেন না। অথচ তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের জীবন সঙ্গীর প্রশংসা। খাবার যদি খেতে খুব খারাপ না হয় তবে তার রান্নার প্রশংসা করুন। একই ভাবে দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীকে খুশি করতে তার সৌন্দর্যের প্রশংসাও করুন। সে যখনি নতুন জামা বা সেজে গুজে থাকে তাকে সুন্দর লাগছে বলুন। আপনার এই একটি মাত্র কথা আপনার স্ত্রীর আত্ববিশ্বাস বাড়িয়ে দিবে বহুগুন।

৪. ক্ষমা করতে শিখুন : সংসার জীবনে ভুল বোঝাবুঝি, ঝগড়া হতে পারে। নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করুন। ততে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। আর মনের মধ্যে কষ্ট চেপে রাখবেন না। এতে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস কমে যায়।
আর ভুল ভ্রান্তি সবার মাঝেই আছে। আপনি নিজেও জানেন আপনার নিজের অনেক সমস্যা আছে। তাই আপনার সঙ্গীর করা কাজকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন। দেখবেন আপনার সঙ্গীও আপনাকে একইভাবে দেখছে। ক্ষমা করার শক্তি অর্জন করা উচিত। একদিনেই কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। কোনো ভুল হলে প্রথমেই সে ভুল ভেঙ্গে দেয়া উচিত। কারণ ভুল বোঝাবুঝি দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে।

৫. সপ্তাহে একদিন ঘুরতে যান : দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার অন্য আরেকটি উপায় হচ্ছে ঘুরে বেড়ানো। কারণ সারা সপ্তাহ কাজ করে মন ও শরীর ঠিক রাখতে এবং রোমাঞ্চ করেত সঙ্গীর সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পারেন। একসঙ্গে কোথাও যাওয়ার হলে, বারবার দেরি করার অভ্যাস ছাড়ুন। এতে তিক্ততা তৈরি হয়।

এছাড়া স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে অবস্থান করলে নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়া উচিত। অফিস বা কর্মস্থলে কাজের ফাঁকে ফোন করে কথা বললে স্ত্রীর একাকিত্ব বা মন খারাপের মতো আয়োজন দূর হয়। হৃদ্যতা ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়।
সুখী বিবাহিত জীবন ধরে রাখা বা ভালোবাসা অটুট রাখার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মেনে চলার প্রতি উৎসাহ দেন বিশেষজ্ঞরা। সেগুলো হলো:

# একে অপরের জন্য ছোট ছোট কাজে সাহায্য করা। এতে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা বোধ অটুট থাকবে। যেমন, চা তৈরি করে দেয়া, বাচ্চাকে সাহায্য করা, সংসারের কাজে একে অপরকে সাহায্য করা।

# প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’ঘণ্টা করে আপনার চিন্তা-ভাবনাগুলো আদান-প্রদান করতে পারেন। টানা দু’ঘণ্টা সময় বের করতে না পারলে প্রতিদিন অন্তত অবসর সময়টুকো একত্রে বসে কথা বলুন। সব সময় যে প্রয়োজনীয় কথা বলতে হবে, তা নয়।

# মাঝে মধ্যেই একে অপরকে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করুন। তাকে নিয়ে বিশেষ একটি রেস্তোরায় খেতে যান। সাপ্তাহিক ছুটির দিন সুন্দর কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন