দাম্পত্য জীবন সার্থক করতে নবীজি (সাঃ)-এর পরামর্শ

আমাদের গোটা মানবজাতির জন্য প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এক রহমতস্বরূপ। সকল বয়সের সকল মানুষ তিনি এক আদর্শ ব্যক্তিত্ব। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি অবস্থানে তার সফল জীবন যাপনের দিকনির্দেশনা রয়েছে।

দাম্পত্য জীবনের জন্য নবীজি হচ্ছেন এক আদর্শ উদাহরণ। তিনি এবার দেখি দিয়ে গেছে কিভাবে একটি জীবন তার সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া যায়। আমরা যদি তার দিক নির্দেশনা এবং তাঁর  দাম্পত্য জীবনের ঘটনাবলীকে আন্তরিক ভাবে অনুসরণ করি তাহলে আমাদের দাম্পত্য জীবনও হয়ে উঠবে পরম আনন্দের ও তৃপ্তির।

পরিবারকে সময় দেয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম সাহাবি হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, আমি একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উভয় জাহানের মুক্তির পথ কী, তা জানতে চাইলাম। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি উপদেশ দিলেন।

১. কথাবার্তায় আত্মসংযমী হবে।

২. পরিবারের সঙ্গে তোমার অবস্থানকে দীর্ঘ করবে।

৩. নিজের ভুল কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৬)

পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর জীবনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পারি। একটি আদর্শ এবং মমতাপূর্ণ পরিবার গঠনে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে পরিবারের শুধুমাত্র দৈহিক উপস্থিতই না হয়। এখানে আত্মিক সম্পর্ককেই অত্যধিক জোর দেয়া হয়েছে।

সংসারের কাজে সহায়তা করা

পরিবারের কাজে সহায়তা করাকে আমরা আজকাল খানিকটা লজ্জার বিষয় হিসেবে মনে করে থাকি। কিন্তু এটি সঠিক নয়। নবীজির প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, নবীজি কি পরিবারের লোকদের তাদের ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করতেন? তিনি বললেন—হ্যাঁ, নবীজি ঘরের লোকদের তাদের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য যেতেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৬)। আমাদেরকে সুযোগ পেলেই পারিবারিক কাজে সহায়তা করতে হবে।

মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া

জীবনের যেকোনো বিষয় সঙ্গিনীর মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সহকারে নিতে হবে। সঙ্গী যদি কোন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করার মতো অবস্থায় থাকে তবে অবশ্যই তার পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। নবীজি শুধু ঘরোয়া বিষয়ই নয় এমনকি মুসলিম উম্মার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের মতামত নিতেন। ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামক ইসলামী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে নবীজি স্বীয় স্ত্রী উম্মে সালমা (রা.)-এর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় যা অতি কার্যকরী বলে বিবেচিত হয়। (বুখারি, হাদিস : ২৭৩১)

সঙ্গিনীর প্রতি মুখে ভালোবাসা প্রকাশ

আমরা আমাদের সঙ্গীনিকে ভালোবাসলেও মুখে প্রকাশ করতে লজ্জা ও সংকোচ বোধ করি। অথচ আমাদের সঙ্গিনী আমাদের মুখে ভালোবাসার কথাটি শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীদের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর কথায় আপ্লুত করে দিতেন। যেমন, হজরত খাদিজা (রা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমার মনে তার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৪৩৫) হজরত আয়েশা (রা.)-কে বলেছেন, ‘সবার চেয়ে আয়েশা আমার কাছে এমন প্রিয়, যেমন সব খাবারের মধ্যে সারিদ আমার কাছে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪১১)

সঙ্গিনীর জন্য নিজেকে ফিট রাখা

পুরুষরা তাদের সঙ্গিনীকে সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। ঠিক একইভাবে আমাদের সঙ্গীনী আমাদেরকেও সুন্দর ভাবে দেখতে পছন্দ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীদের জন্য এমনই পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন আমি তাদের ক্ষেত্রে সাজগোজ করে থাকতে পছন্দ করি।’ (বাইহাকি, হাদিস : ১৪৭২৮)।

আন্তরিকতা বাড়ানো

স্ত্রীর সাথে সবসময় আন্তরিকভাবে আচরণ করতে হবে। অর্থাৎ পত্নীর প্রতি সব সময় সব বিষয়ে আন্তরিক থাকতে হবে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪) তিনি আরো বলেন, পাত্রের যে অংশে আমি মুখ রেখে পানি পান করতাম তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে পছন্দ করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ৩০০)।

রাব্বুল আলামিন আমাদের দাম্পত্য জীবনকে আরো সুন্দর ও তৃপ্তিদায়ক করুক।