SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

দারুল ইসলাম কি? দারুল ইসলামের বিধান

ইতিহাস ১৭ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
দারুল ইসলাম
File ID 160702294 | © Muhammad Sami | Dreamstime.com

দারুল ইসলাম ও এর প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হলে প্রথমেই আমাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কালটি সামনে রাখতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সময়কালে মৌলিকভাবে তিনটি এলাকা ছিল। মক্কা, মদীনা ও হাবশা বা আবিসিনিয়া।

মক্কার অবস্থা

মক্কায় দ্বীনের সার্বিক অবস্থা আমাদের সামনে স্পষ্ট। এখানে দ্বীন পালনে মুসলমানদের সামান্যতম কোনো স্বাধীনতা ছিল না। প্রকাশ্যে ইসলামের কোনো বিধান পালনের সুযোগও মুসলমানদের ছিল না। তাই এটি দারুল হারব।

মদীনার অবস্থা

মদীনায় সর্বপ্রকার ইসলামী বিধান পালনের পরিবেশ কায়েম হয়েছিল। যদিও সেখানে বেশ কিছু কাফের ছিল। কিন্তু তারা সবাই মুসলমানদের অনুগত ছিল। মুসলমানদের সাথে কোনোপ্রকার বিদ্রোহ করার মত ক্ষমতা তাদের ছিল না। সুতরাং, সুনিশ্চিতভাবে তা ছিল দারুল ইসলাম।

হাবশা বা আবিসিনিয়ার অবস্থা

খৃষ্টান বাদশা নাজ্জাশীর শাসনাধীন হাবশা তথা আবিসিনিয়া ছিল দারুল আমান। আবিসিনিয়া যদিও খৃষ্টান বাদশার শাসনাধীন ছিল, কিন্তু সেখানে মুসলমানরা হিজরত করে স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারত। তাদের ধর্ম পালনে কোনোপ্রকার বাঁধা দেওয়া হত না। সেই সাথে নিজেদের ধর্ম প্রচারেও কোনোরকম বাঁধা ছিল না। তবে ইসলামী শরীয়তের নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান সেখানে প্রয়োগ করার কোনো সুযোগ ছিল না।

সুতরাং, হাবশা বা আবিসিনিয়া ছিল দারুল আমান। দারুল ইসলামও নয়, আবার দারুল হারবও নয়।

এখান থেকে আমরা খুব সহজেই বুঝে নিতে পারছি যে, স্বাভাবিকভাবে সমগ্র পৃথিবীতে দার তথা রাষ্ট্র তিন প্রকার। যথা- ১। দারুল ইসলাম, ২। দারুল হারব ও ৩। দারুল আমান।

দারুল ইসলাম ও দারুল হারব কাকে বলে?

দারুল ইসলাম ও দারুল হারবের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংজ্ঞা ফুকাহা বা ইসলামী আইনজ্ঞরা প্রদান করেছেন। কিছু মতভিন্নতাসহ প্রায় সকলের সংজ্ঞাই কাছাকাছি পর্যায়ের। যেমন, ইমাম আবু হানীফা(রহঃ) এর বক্তব্য অনুপাতে কোনো রাষ্ট্রকে দারুল ইসলাম ও দারুল হারবের প্রতি সংজ্ঞায়িত করার মূল উদ্দেশ্য তা পরিপূর্ণ ইসলাম ও পরিপূর্ণ কুফর হওয়া নয়।

বরং, উদ্দেশ্য হল নিরাপত্তা ও ভয়ের বিষয়ে। অর্থাৎ, যদি রাষ্ট্রে সর্বদিক থেকে মুসলমানদের নিরাপত্তা থাকে আর স্বাভাবিকভাবে কুফরী শক্তি আতঙ্কিত থাকে, তবে সেটি হবে দারুল ইসলাম। পক্ষান্তরে যদি সর্বদিক থেকে কুফরী শক্তি নিরাপদ থাকে আর মুসলিমগণ ভীত থাকে, তাহলে উক্ত রাষ্ট্র হবে দারুল কুফর বা দারুল হারব।

আর কোনো কোনো ফুকাহা বা আইনজ্ঞের বক্তব্যের সারমর্ম হল, দারুল ইসলাম বলা হবে সেই রাষ্ট্রকে যেখানে ইসলামী বিধান প্রয়োগ করা হয়, আর দারুল হারব বলা হবে সেই রাষ্ট্রকে যেখানে কুফরী বিধান প্রয়োগ হয়।

কিন্তু বাস্তবে এই বক্তব্য মানলে সারা পৃথিবীতে কোথাও দারুল ইসলাম খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে না। কারণ ইসলামের সকল বিধান প্রয়োগ হয়, এমন কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্বে আসা বর্তমানে অনেক কঠিন হয়ে গেছে। কিন্তু ইসলামের অধিকাংশ বিধান রাষ্ট্রে প্রয়োগ করা সম্ভব। সেই হিসেবে ইমাম আবু হানীফা(রহঃ) এর সংজ্ঞাটিই সবচেয়ে সহজতর এবং গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছেন বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম।

অর্থাৎ দারুল ইসলাম ঐ রাষ্ট্রকে বলা হবে, যার অধিকাংশ অধিবাসী মুসলমান এবং সেখানে পূর্ণাঙ্গভাবে মুসলমানদের আধিপত্ব রয়েছে। কাফেরদের আধিপত্ব সেখানে কম আর রাষ্ট্রপক্ষ ইসলামের শাস্তি বিধানও প্রয়োগ করতে সক্ষম। তবে বিভিন্ন কারণে রাষ্ট্রে ইসলামের সকল বিধান প্রয়োগ করতে পারে না। এরকম রাষ্ট্রকেও দারুল ইসলাম বলা হবে।

আর দারুল হারব বলা হবে ঐ রাষ্ট্রকে, যেখানে মুসলমানদের বসবাস খুবই কম তথা মুসলমানগণ সেখানে সংখ্যালঘু। সেই সাথে ইসলামের বিধান পালনেও তারা স্বাধীন নয়। নানারকম বাঁধা এবং বিপদের মাঝে মুসলমানদের দিন অতিবাহিত হয়। কুফরী শক্তি সেখানে প্রবল। তাহলে উক্ত রাষ্ট্রের নাম হবে দারুল হারব বা দারুল কুফর।

দারুল আমান কাকে বলে?

যে সকল রাষ্ট্রে মুসলিমগণ স্বাভাবিকভাবে তাঁদের দ্বীন পালনে সক্ষম। চাই তারা সংখ্যাগরিষ্ট হোক বা সংখ্যালঘিষ্ট। কিন্তু ইসলামের শাস্তির বিধান সেখানে প্রয়োগ করতে মুসলমানরা সক্ষম নয়। তবে দ্বীন প্রচার ও পালনে তাঁরা স্বাধীন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও স্বীয় ধর্ম পালনে স্বাধীন। কোনো ধর্ম পালনেই রাষ্ট্র পক্ষ থেকে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে ইসলামী আইন উক্ত রাষ্ট্রে প্রচলিত নয়। আইন চলে মানবরচিত আইন বা কুফরী আইন দ্বারা। তাহলে উক্ত রাষ্ট্রের নাম হবে দারুল আমান। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিল খৃষ্টান বাদশা নাজ্জাশীর দেশ আবিসিনিয়া।

এই সংজ্ঞা অনুযায়ী বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রই দারুল আমান। কারণ সেখানে সকল ধর্মাবলম্বীরাই স্বীয় ধর্ম পালনে ও প্রচারে স্বাধীন। রাষ্ট্র পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বিধিনিষেধ তাদের উপরে নেই। যদিও সরকারী আইন ইসলামী নয়।

দারুল ইসলামের হুকুম

১। দারুল ইসলামে ইসলামী শরীয়তের যাবতীয় ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় বিধান কার্যকর করতে হবে।

২। দারুল হারব থেকে যারা হিজরত করে আসবে তাদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩। দারুল হারবে আটকে যাওয়া মজলুম মুসলমানদের জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪। জিহাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের পরিধি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে।