দিনের আলোর চেয়েও স্পষ্ট সত্য, তার থেকে মুখ ফেরালে চলবে না

সত্যের চেয়ে স্পষ্ট ও পরিষ্কার কিছু নেই। সম্পূর্ণ জাগ্রত অবস্থায় নিজেকে স্পর্শ করলে যে অনুভূতি পাওয়া যায়, সত্যের অনুভূতি ঠিক তেমনই। মিথ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একইরকম শুধুমাত্র এর পিছনে কোনো যুক্তি বা ব্যাখ্যা থাকে না। সত্য যতটা যুক্তিযুক্ত, এর ব্যাখ্যা যেমন আছে তেমনই এই বিষয়ে তর্কও করা যায়। যে কোনো সুস্থ বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন স্বার্থহীন মানুষের কাছে সত্য সর্বদাই প্রশ্নাতীত ভাবে গ্রহণযোগ্য।

অন্যদিকে মিথ্যে সর্বাত্মকভাবেই একটি অমূলক, কল্পনাশ্রয়ী ও আদ্যপান্ত সাজানো একটি ঘটনা। যেহেতু পুরোটাই ভ্রান্ত ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত তাই মিথ্যে কোনোদিনই সুস্থসমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।

মানুষের নিজস্ব অস্তিত্বও সত্যের ভীতে দাঁড়িয়ে থাকে তাই তার কাছে সত্যই একান্ত কাম্য। মিথ্যে দিয়ে একটা সময় চলতে পারে কিন্তু সারাটা জীবন মিথ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা যায় না, সত্য ঠিক তার পথ বের করে নেয়। মানুষের এই জীবন ও সত্যের যে মেলবন্ধন তা মিথ্যের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

ঠিক যেমন দুই আর দুই যোগ করলে চার হয়, মানুষ হাত দিয়ে খায় পা দিয়ে দৌড়ায়- এর চেয়ে বেশি সত্য কিছু নাই। কিন্তু কেউ যদি একে অস্বীকার করে, অন্য কিছু দাবি করে তাহলে হয় সে মানুষ অসুস্থ বা সে অমূলক ধারণার বশবর্তী। কারণ এই সাধারণ বিষয় গুলিতে দ্বিধা বা দ্বিমতের অবকাশ তিলমাত্র নেই। তাই বলা যেতে পারে যে সত্যের পথই একমাত্র পথ জীবনধারণের। ভ্রান্ত বা অসত্য আদর্শ অথবা কোনো স্বার্থান্বেষী মানুষ বা গোষ্ঠীর সৃষ্ট ধারণার শিকার হয়ে বাঁচা অতীব কষ্টকর এবং সর্বপরি তা মানুষকে নিজের থেকে দূরে নিয়ে যায়।

কোনো মানুষ যদি কখনও বলে যে দুই আর দুইয়ে চার হয় না, বা মানুষ হাত দিয়ে খায়না বা পা দিয়ে দৌড়ায় না; প্রতিটা বস্তু হঠাৎ করে তৈরি হয়ে গেছে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই, অথবা নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে তাহলেই সমস্যা সৃষ্টি হয়।

যদি কোনো মানুষ প্রথম অংশের ধারণা গুলোকে অস্বীকার করে দ্বিতীয় ধারণাগুলোকে গ্রহণ করে তাহলে তা কেবলই মিথ্যা। একমাত্র প্রথম ধারণা গুলোই সত্য ও বাস্তব, পরের গুলো কাল্পনিক ও মিথ্যা।

যে মানুষ সত্যকে অস্বীকার করে কিছু ভ্রান্ত ধারণার পিছনে ছুটে বেড়ায় এবং সেগুলোকে সত্য বলে দাবি করে তাদের জীবনে অসীম দুর্দশা থাকে। তারা ভুলে যায় তাদের কেন পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে, পথভ্রষ্ট হয়েই কেটে যায় বাকি জীবন।

আমাদের এটা ভুলে গেলে চলবে না যে আমরা সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। তিনি সর্বদাই তাঁর জাগ্রত দৃষ্টি ফেলে রেখেছেন মানুষের প্রতি এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘটনা ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রবল অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তার জীবনের গতিবিধি ঠিক করেছেন, প্রতিটি প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় বস্তু তিনিই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

একজন মানুষ যদি এই সত্যকে অস্বীকার করে তবে তার চেয়ে ঘৃণ্য আর কিছু হতে পারে না। এই সৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে স্রষ্টাকে অস্বীকার করা, তাঁর সৃষ্টির অপার মহিমা ও তাঁর দূরদৃষ্টির মাহাত্মকে যে দেখতে চায় না সে অন্ধ। যে বলে স্বর্গ বলে কিছু হয় না, যার ক্ষুদ্র দৃষ্টি এই পৃথিবীর নৈরাশ্যবাদেই আটকে থাকে যে বিশ্বাস করে না জান্নাতের সুখ শান্তি সমৃদ্ধিতে সে নির্বোধ।

তাদের উদ্দেশ্যেই মহানবী মুহম্মদ (সা) বলেছেন অবিশ্বাসী বাগীদের প্রতি,

“কী! তোমরা অপার মহিমাময়ী আল্লাহতাআলার অস্তিত্বকে অস্বীকার করো, যিনি এই সারা জাহান সৃষ্টি করেছেন!”