SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

দীর্ঘদিন কফি খাওয়ার অভ্যেস হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়

স্বাস্থ্য ২১ ফেব্রু. ২০২১
জ্ঞান-বিজ্ঞান
কফি খাওয়ার অভ্যেস
Photo by Lala Azizli on Unsplash

লং ব্ল্যাক, এসপ্রেসো বা ল্যাটে, যে-ধরনের কফিই পছন্দ করুন না কেন, দীর্ঘদিন ধরে অত্যধিক পরিমাণে কফি খাওয়ার অভ্যেস থাকলে সাবধান। এই কফির নেশাই কিন্তু বাড়িয়ে তুলতে পারে আপনার হৃদরোগের সম্ভাবনা!

দীর্ঘদিন ধরে দিনে ছয় বা তার বেশি কাপ কফি খাওয়ার অভ্যেস থাকলে আপনার রক্তে বাড়তে পারে লিপিডের মাত্রা, যা বাড়িয়ে তোলে হৃদরোগ বা কার্ডিয়ো ভাসকুলার ডিজিজ (সিভিডি)-র সম্ভাবনা—সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর প্রিসিশন হেলথ-এর গবেষকদের করা বিশ্বের প্রথম জিনগত গবেষণায় উঠে এল এমনই উদ্বেগপূর্ণ খবর।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, কফি খাওয়ার সঙ্গে এই বিপদের ঝুঁকি কিন্তু সমানুপাতিক! অর্থাৎ, আপনি যত বেশি কফি খাবেন, ততই বাড়বে হৃদরোগের সম্ভাবনা।

কফি খাওয়ার অভ্যেস ভাল না খারাপ ?

কফিপ্রেমিকদের কাছে এই খবর নিঃসন্দেহে তেঁতো বড়ির মতো, কিন্তু ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গবেষক এলিনা হিপ্পোনেনের মতে, হার্টকে সুস্থ রেখে ভালভাবে বাঁচতে গেলে এই তেঁতো বড়িটি আপনাকে গিলতেই হবে!

“কফি খাওয়া ভাল না খারাপ, এই নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে নানা বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের এই অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়টি আমাদের শরীরে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আগে ভাল করে জেনে রাখা প্রয়োজন,” বলছেন অধ্যাপক হিপ্পোনেন।

“আমাদের গবেষণাতে আমরা কফি পান এবং প্লাজমা লিপিড প্রোফাইল, অর্থাৎ, আপনার রক্তে কোলেস্টেরল ও ফ্যাটের মাত্রার জিনগত এবং ফেনোটাইপিক সংযোগকে বোঝার চেষ্টা করেছি। আর তার সূত্র ধরেই জানার চেষ্টা করেছি যে, কীভাবে কফি পানের অভ্যেস রক্তে স্নেহপদার্থের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

“রক্তে উচ্চমাত্রায় লিপিডের উপস্থিতি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায় এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যেহেতু কফির বিনে কোলেস্টেরল বৃদ্ধিকারী ক্যাফেস্টল যৌগ থাকে, তাই তাদের একসঙ্গে পরীক্ষা করা এক্ষেত্রে কার্যকরী হয়েছে।

গবেষণার নিহিতার্থ 

ক্যাফেস্টল মূলত ফিল্টার না করা ফ্রেঞ্চ প্রেস, টার্কিশ ও গ্রিক কফির মতো কফিতে থাকলেও, এসপ্রেসো কফিতেও এটি থাকে। আর এই এসপ্রেসোই বেশিরভাগ কফিশপে তৈরি করা কফি, ল্যাটে এবং ক্যাপুচিনোতে বেস হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

“তবে, ফিল্টার করা ও ইনস্ট্যান্ট কফিতে এই ক্যাফেস্টল প্রায় থাকে না বললেও চলে বা থাকলেও খুব কম পরিমাণে থাকে, ফলে এইধরনের কফি আপনার রক্তে লিপিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ভাল বলে বিবেচিত হতে পারে।

“এই গবেষণার নিহিতার্থ ব্যাপক। আমার ব্যক্তিগত মতে, যাদের রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল রয়েছে এবং যারা ইতোমধ্যেই হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত, তাঁদের ক্ষেত্রে ভাল করে বুঝে-শুনে ভেবে কফি পছন্দ করা উচিত।

কফির সঙ্গে লিপিডের সংযোগটি এর মাত্রার উপর নির্ভর করে—আপনি যত বেশি আনফিল্টারড কফি খাবেন, ততই তা আপনার রক্তে লিপিডের পরিমাণ বাড়াবে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়বে।”

হিসেব অনুযায়ী, গোটা বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ কোটি কাপ কফি পান করা হয়ে থাকে। আর মৃত্যুর কারণের নিরীখে হৃদরোগের স্থান সবচেয়ে উপরে, গোটা পৃথিবীতে প্রতিবছর ১.৭৯ কোটি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ফিল্টার কফি খাওয়ার অভ্যেস 

এই গবেষণার ক্ষেত্রে ইউকে বায়োব্যাঙ্কে অংশগ্রহণকারী, ৩৭-৭৩ বছর বয়স্ক ৩৬২,৫৭১ জনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, এবং বিস্তৃত ও ব্যাপক সমীক্ষার জন্য ফেনোটাইপিক ও জেনেটিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।

তবে বড়-বড় গবেষকরা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কফিপানের প্রভাব নিয়ে কোনও কথা না বললেও, অধ্যাপক হিপ্পোনেন জানাচ্ছেন, কফি খেলে কিন্তু সবসময় ফিল্টারড কফি খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আর কফির মতো উদ্দীপক পানীয় অত্যধিক পরিমাণে না খাওয়াই শ্রেয়।

“আসলে, কফি এত মানুষের প্রিয়, যে সেটি নিয়ে কথা বললেই তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে,” বলছেন তিনি।

“আমাদের গবেষণা অনুযায়ী, বেশি পরিমাণে কফি পান করা যে হৃদরোগের ক্ষেত্রে একেবারেই ভাল নয়, তা স্পষ্ট। আর যারা ইতোমধ্যেই হৃদরোগে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

“ফলে আমরা যতদিন না আরও কিছু এই বিষয়ে জানা যাচ্ছে, ততদিন সেই বহু ব্যবহৃত প্রবাদবাক্যটিই মেনে চলা উচিত যে, সমস্ত কিছুতেই সংযম মেনে চলুন—বিশেষ করে তা যদি আপনার শরীর-স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে হয়, তাহলে এর চেয়ে ভাল পরামর্শ তো আর কিছুই হতে পারে না।”