দুবাইতে বিশ্বের প্রথম কোরান পার্ক 

সাম্প্রতিককালে বিশ্বের প্রথম ‘কোরান পার্ক’-নির্মিত হল। দুবাইয়ের আল-খাওয়ানিজ অঞ্চলে এটি গড়ে উঠেছে। কার্যত, এই পার্কের মাধ্যমে পবিত্র গ্রন্থ কোরান সম্পর্কে আরও বেশি ধারণা পাবেন দর্শনার্থীরা। আল-কুরআন পার্ক নামেও পরিচিত এই উদ্যানটি ৩০ শে মার্চ, ২০১৮-তে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। 64 হেক্টরের বেশি জায়গা জুড়ে স্থানটি বিস্তৃত। কোরান পার্কের উদ্দেশ্যই হল সর্বধর্মের মানুষসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র কোরান গ্রন্থে উল্লেখিত প্রতীক এবং উদ্দেশ্যগুলি সম্পর্কে জ্ঞান সম্প্রসারণ ঘটানো। এক রকমভাবে বলা যায় পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হল-বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের সঙ্গে বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির সেতুবন্ধন নির্মাণ।  কোরান আল কারিমে বর্ণিত বিভিন্ন সৃষ্টি, উদ্ভিদ ও ঘটনার সঙ্গে মিল রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই অঞ্চলটি। কোরান আল কারিমে বর্ণিত কোনও ঘটনা বর্ণনার চিত্রায়ন ও সাজসজ্জার প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং, এই আল-কুরআন পার্ক পরিভ্রমণকালে অনেক অজানা বিষয়ের সঙ্গে আপনার পরিচিতি ঘটতে পারে। পরিবেশগত ভারসাম্য এবং ইসলামি প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে পবিত্র এই ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত সবধরনের দুর্লভ উদ্ভিদ দিয়ে বিশেষভাবে এ পার্কটি সাজানো হয়েছে। গ্রন্থমধ্যে উল্লেখিত ৫৪টি গাছের মধ্যে মাত্র কয়েকটি ছাড়া বাকি সব ক’টি গাছই স্থান পেয়েছে এইখানে। দর্শনার্থীরা সহজেই প্রাকৃতিক নৈসর্গিক এই পরিবেশের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করতে পারবে। এর মধ্যে ডুমুর, ডালিম, জলপাই, পেঁয়াজ, রসুন, যব, গম, আদা, শসা ইত্যাদি গাছগুলির কথা উল্লেখ করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে পার্কের নির্দিষ্ট বাগানে, যা দ্বারা ভেষজ বিভিন্ন ওষুধ তৈরি করা যায়। পবিত্র গ্রন্থে উল্লিখিত ৫৪ টি উদ্ভিদের মধ্যে ডুমুর, ডালিম, জলপাই, ভুট্টা, তেঁতুল, গম ছাড়াও অন্যান্য কয়েকটি উদ্ভিদ চোখে পড়বে যা হয়তো সহজেই আমারা দেখতে পাই না। এই গাছপালা এবং গাছগুলির সঙ্গে দর্শকের পবিত্র একপ্রকার সংযোগ তৈরি করার জন্য একটি কাচের ঘরে তা প্রদর্শিত হওয়ারই  সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই পার্কে বাচ্চাদের জন্য একটি খেলার ক্ষেত্রও সবার জন্য উন্মুক্ত।

কোরান পার্কের আঞ্চলিক অঞ্চলগুলি ইসলামের কয়েকটি অলৌকিক চিত্রে চিত্রিত করা হয়েছে। একটি গুহার টানেলের মধ্যে দিয়ে হাঁটার সময়, স্লাইডগুলির সঙ্গে সঙ্গে আলো এবং শব্দ সংযোগে পবিত্র গ্রন্থের কয়েকটি গল্প এবং অলৌকিক ঘটনা বর্ণনা করা হয়ে থাকে দর্শকদের প্রতি। হলোগ্রাম এবং প্রোজেক্টর স্ক্রিন ব্যবহার করে কোরান পার্ক দর্শনের সামনে ইসলামের ঘটনাগুলির উপাদানগুলি কীভাবে, কখন এবং কোথায় ঘটেছিল তা প্রদর্শন করে থাকে।

কোরান পার্কের অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলি এবং সংযোজনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জল, অনেক ঝর্ণা, সৌর গাছ, একটি বহিরঙ্গন থিয়েটার, মরুভূমি উদ্যান, একটি ওমরাহ কোণ এবং তিনটি বিভিন্ন ধরনের ট্র্যাক। পবিত্র কোরানে বর্ণিত ৫৪ প্রজাতির মধ্যে ৩৫টি প্রজাতির কথা পার্কের অভ্যন্তরে প্রদর্শিত হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একইসঙ্গে অবশিষ্ট ১৫টি গ্রিন হাউজে প্রদর্শিত হয় এবং আরো ২০টি প্রজাতি পার্কের বাইরে প্রদর্শিত হয়ে থাকে। ভূগোল, ল্যান্ডস্কেপিং এবং বাস্তুশাস্ত্র ব্যবহার করে ইসলামের বেশ কয়েকটি গল্প ব্যাখ্যা করার জন্য, পার্কটির উদ্দেশ্য প্রতীকী ও সাহিত্যিক প্রকাশ এবং নবী ও ইসলামের অলৌকিক চিহ্নগুলির প্রতীকী উপাদানগুলি তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তার পাশাপাশি, কোরান পার্কটি ইসলামের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সাফল্যকেও যথাযথভাবে চিত্রিত করে থাকে। প্রকল্পটি নির্মাণে দুবাই মুদ্রায় ২৭ মিলিয়ন অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।