SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু দু’আ

দু'আ ০১ জানু. ২০২১
ফিচার
দু'আ
Mehmet Alper Naml

দুশ্চিন্তা ও হতাশা মানুষের মনের রোগ। এগুলি থেকে মানুষের অনেক শারীরিক রোগ সৃষ্টি হয়। প্রাত্যহিক জীবনে আমরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। যা থেকে পরবর্তীতে দুশ্চিন্তা ও হতাশার জন্ম নেয়।

এই মানসিক অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে অসংখ্য দু’আ শিখিয়েছেন। হাদিসের ভাণ্ডার থেকে এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ দু’আ নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

১) ইবনে আব্বাস(রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির সময় এই দু’আ পড়তেন

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল আ’লী-মুল হালীম, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুল আ’রশিল আ’যী-ম, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রব্বুল আরদ্ব ওয়া রব্বুল আ’রশিল কারী-ম।

অর্থ: ঐ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি মহান এবং সহনশীল। ঐ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই যিনি আরশে আযীমের মালিক। ঐ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি আসমান, জমিন এবং মহান আরশের মালিক। (মুসলিম)

২) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ(রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“যদি কেউ কখনো দুশ্চিন্তা বা বেদনায় আক্রান্ত হয়ে এই দু’আটি পড়ে, তবে আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দিবেন, বেদনা অপসারণ করে দিবেন এবং এর বদলে তাঁর অন্তর প্রশান্ত করে দিবেন।” জিজ্ঞেস করা হল, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি দু’আটি শিখে নিব না?” তিনি বললেন, “অবশ্যই। যে ব্যক্তি এই দু’আটি শুনবে তার উচিত এটি মুখস্ত করে নেওয়া।

অর্থ- হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা এবং আপনারই বান্দা ও বান্দীর সন্তান। আমার নসীব আপনার হাতে। আমার উপর আপনার সকল নির্দেশ কার্যকর এবং আমার প্রতি আপনার ফয়সালা ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি সেই সমস্ত নামের প্রত্যেকটির বদৌলতে আপনার নিকট প্রার্থনা জানাচ্ছি, যে নামগুলো আপনি নিজেই নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন অথবা নিজ কিতাবে নাযিল করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টিজীবের মধ্যে কাউকে শিখিয়ে দিয়েছেন অথবা স্বীয় ই’লমের ভাণ্ডারে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন। কুরআনকে আমার হৃদয়ের জন্য প্রশান্তি বানিয়ে দিন, আমার বক্ষের জ্যোতি বানিয়ে দিন, আমার দুশ্চিন্তাগুলো অপসারণকারী বানিয়ে দিন এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিদূরণকারী বানিয়ে দিন। (মুসনাদে আহমদ)

৩) আনাস(রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গুরুতর কোনো বিপদ ও পেরেশানীর সম্মুখীন হতেন, তখন সর্বদা এই দু’আ করতেন,

“ইয়া হাইয়্যু, ইয়া ক্বাইয়্যুম, বি-রহমাতিকা আস্তাগিছ”

“হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, আমাকে আপনার রহমতের মধ্যে আবৃত করে নিন।” (তিরমিযী)

৪) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এমন একটি দু’আ সম্পর্কে অবগত আছি, যদি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি তা পাঠ করে, তবে আল্লাহ তা‘আলা তার সেই বিপদ দূর করে দিবেন। সেটি হচ্ছে আমার ভাই ইউনুস(আঃ) এর দু’আ। দু’আটি হলো,

উচ্চারণঃ লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায যলিমীন

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই; আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিঃসন্দেহে আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিযী)

৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উমামা(রাযিঃ) কে বলেন, “আমি কি তোমাকে এমন একটি দু’আ শিখিয়ে দিব না, যা পাঠ করলে আল্লাহ তা‘আলা তোমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিবেন এবং তোমার সকল ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করে দিবেন?” বর্ণনাকারী বলেন, “আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে অবশ্যই তা শিখিয়ে দিন।” তিনি বললেন, “সকাল ও বিকালে তুমি এই দু’আটি পাঠ করবে,

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নি আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযনি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাছালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল যুবনি, ওয়া দালা-ইদ দ্বাইনী ওয়া গ্বলাবাতির রিজা-ল।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্থ হওয়া থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অক্ষম ও আলস্য হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তোমার কাছে আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে। হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে ঋণের আধিক্য এবং অন্যায় প্রাধান্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাকারী থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আবু উমামাহ(রাযিঃ) বলেন, আমি এই দু’আটি পাঠ করতে লাগলাম। এরপর কয়েকদিনের মধ্যে আল্লাহ আমার যাবতীয় দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী দূর করে দিলেন এবং আমার সমস্ত ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিলেন। (বুখারী)

৬) বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করা

উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতু-বু ইলাইহি।

অর্থঃ আমি ক্ষমা চাই আল্লাহর কাছে যিনি চিরঞ্জীব ও সব কিছুর ধারক-বাহক এবং আমি তার দিকেই প্রত্যার্বন করি।”

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই দু’আগুলির উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।