দৈহিক লজ্জার মতো আত্মিক লজ্জা আবৃত করতে কোন পোশাক পড়বেন?

priscilla-du-preez-4Mw_M9a103Q-unsplash
Fotoğraf: Priscilla du Preez-Unsplash

প্রথম যখন আদম ও হাওয়া আ’লাইহাস সালাম শয়তানের প্ররোচনায় নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে ফেললেন আর তাদের শরীর থেকে জান্নাতের পোশাক খুলে নেওয়া হলো তখন তারা লজ্জায় জান্নাতের গাছের দিকে ছুটে গেলেন আর পাতা দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করে ফেললেন।

কিন্তু এই ঘটনার আসল তাৎপর্য সূরা আ’রাফে বর্ণিত হয়েছে। কতক্ষণ একজন পুরুষ এবং মহিলা কোনোরকম অনুভূতি ছাড়া নগ্ন থাকতে পারেন? এরপর তারা কোন ধরনের পোশাক পরে ছিলেন? কেনো কোনো ফল খাওয়া কিংবা কোনো পাপের কারণে কাউকে নগ্ন করে ফেলা হলো?

কুরআন একটি রূপক বাক্য ‘তাকওয়ার পোশাক’ এর মাধ্যমে এই প্রশ্নগুলির উত্তর প্রদান করেছে।

“হে আদম সন্তানরা! আমি তোমাদের কাছে লজ্জা গোপন করার জন্য পোশাক প্রদান করেছি, তবে মন্দ থেকে বিরত থাকার পোশাকটি সবচেয়ে ভাল। এটি আল্লাহর আয়াতসমূহ, যাতে তারা স্মরণ করতে পারে।”

এর অর্থ নিষিদ্ধ গাছ থেকে আদম এবং হাওয়ার ভক্ষণ করা সমগ্র মানবজাতীর জন্য এক বিশাল প্রতীকী মান ছিল। এটি কেবল তাদের সদ্য প্রকাশ্য নগ্নতা ঢাকতে কাপড়ের সন্ধানে দুনিয়াতে পাঠিয়েছে তা নয়, বরং তাদেরকে জান্নাত থেকে বহিষ্কারও করে দিয়েছে।

মানুষকে একটি শক্ত ঢাল / কাপড় দ্বারা আবৃত করে দেওয়া হয়েছিল যা প্রাথমিক অবস্থায় তাদের দেহের সুরক্ষা সরবরাহ করেছিল। দেহ ও আত্মার পবিত্রতা আদম এবং হাওয়াকে জান্নাতের অধিবাসী হওয়ার অধিকার দিয়েছিল। কিন্তু শয়তান তাদের নিষিদ্ধ গাছ থেকে খেতে প্ররোচিত করে তাদের আত্মিক পবিত্রতাকে নষ্ট করেছিল। এর ফলস্বরূপ তাদের দৈহিক লজ্জা আবৃত করার মাধ্যমকেও ছিনিয়ে নেওয়া হলো এবং তাদেরকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হলো।

আদম এবং হাওয়া গাছের আড়ালে লুকিয়ে এবং কিছু পাতা দিয়ে শরীর ঢেকে তাদের শারীরিক লজ্জা গোপন করতে পারতেন, কিন্তু তাদের আত্মিক লজ্জা সংশোধন করতে তাদেরকে জান্নাতের স্থায়ী আবাস ত্যাগ করতে হলো। আপনি আপনার শারীরিক লজ্জাকে যেকোনোভাবে সংশোধন করতে পারেন, তবে আপনার আত্মিক লজ্জার (তাকওয়ার অভাব) জন্য আপনাকে যে মূল্য দিতে হবে তা জান্নাতের মতো দামী হবে।

এই ঘটনার নৈতিকতা বর্ণনা করার সময় আল্লাহ যে বিষয়টি আমাদেরকে প্রথম স্মরণ করিয়ে দিলেন তা হলো ‘তাকওয়ার পোশাক’। যেহেতু আমাদের লজ্জা গোপন করার মাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন ‘জাঁকজমকপূর্ণ ও ফ্যাশানেবল’ উভয় ধরনের পোশাকই রয়েছে তাই আমরা আমাদের ‘আত্মিক লজ্জা’ গোপন করার বিষয়ে খুব কমই চিন্তা করি। যখন আমরা আমাদের শরীরকে সুন্দর এবং চিত্তাকর্ষক পোশাক দিয়ে আবৃত রেখে যত্ন করি তখন আমাদের আত্মিক নগ্নতা প্রায়ই উন্মুক্ত থেকে যায়। শারীরিক নগ্নতা মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করতে হয়, আর আত্মিক নগ্নতা আল্লাহর কাছ থেকে আবৃত করতে হয়। কেবলমাত্র আল্লাহকে ভয় করা এবং আল্লাহর ভয়ে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার অনুশীলনই  সেই আত্মিক নগ্নতা আবৃত রাখে।

কুরআন কর্তৃক সর্বোত্তম পোশাক হিসাবে প্রবর্তিত ‘তাকওয়ার পোশাক’ই আত্মাকে পবিত্র করার এবং পাপকে পরিষ্কার করার প্রতীক। আল্লাহর সামনে লজ্জা পাওয়া মানুষের সামনে শারীরিকভাবে উলঙ্গ থাকার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। অন্য লোকেরা যদি আপনার গোপন অঙ্গগুলি দেখতে পায় তবে এটি আপনার জন্য কত লজ্জাজনক বিষয় হবে, তাহলে আল্লাহ সামনে যখন আপনার সমস্ত পাপ, অপরাধ উন্মুক্ত থেকে যাচ্ছে তবে এটির কি হবে? আত্মার পবিত্রতা বজায় রাখা এবং পাপ দ্বারা কলুষিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হলো তাকওয়া(আল্লাহর ভয়) ও তওবা (অনুশোচনা)। আদম এবং হাওয়ার গল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের শারীরিক লজ্জা ঢাকার প্রচেষ্টা অনেক এগিয়ে গেছে যদিও আত্মিক লজ্জা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় আমরা তেমন কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি।

আজ আপনি নিজের সম্পর্কে চিন্তা করুন, দুনিয়াতে আপনি যাকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রেরিত হয়েছেন তিনি আপনার কোন পোশাক উন্নত হলে খুশি হবেন? তিনি আপনার ফ্যাশানেবল পোশাকে খুশি হবে নাকি অন্য কিছুতে?

তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উত্তর দিয়েছেন:

“তাকওয়ার আবরণই (তাকওয়ার পোশাক) হলো সবথেকে সেরা!”

অর্থাৎ, তাকওয়াই হলো একমাত্র পোশাক যা দিয়ে আমরা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হওয়ার দিনটিতে সাজতে পারি।