SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ধনেপাতা খাওয়া কাদের জন্য বারণ?

স্বাস্থ্য ১৯ জানু. ২০২১
ফোকাস
ধনেপাতা খাওয়া
© Amarita Petcharakul | Dreamstime.com

শীতকাল মানেই আমাদের খাবারের তালিকায় পাকাপাকিভাবে যে নামটি জায়গা করে নেয়, সেটি হল ধনেপাতা। ধনেপাতার টক-ঝাল-মিষ্টি চাটনি খেতে বেশ সুস্বাদু। আবার রান্না নামানোর আগে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিলেও রোজকার রান্নার স্বাদ বদলে যায় এক নিমেষে! আমরা রান্নায় মশলা হিসেবে যে ধনে গোটা বা গুঁড়ো আকারে ব্যবহার করি, ধনেপাতা আদতে তারই পাতা। এর বৈজ্ঞানিক নাম করিয়েন্ড্রাম স্যাটিভাম।

ইতিহাসে ধনেপাতা

পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রাচীনকাল থেকেই ধনেগাছ বনেবাদাড়ে জন্মাত। প্রাচীন মিশরেও স্বয়ং ফারাও তুতেনখামেনের সমাধিতে ধনের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন পুরাতত্ত্ববিদেরা। মিশরে তো বটেই, প্রাচীন গ্রিসেও খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় অব্দে ধনেগাছের চাষের কথা জানা যায়। মশলা হিসেবে ধনে ও ধনেপাতাকে রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি গ্রিসে সুগন্ধি তৈরিতেও ধনেগাছের ব্যবহার ছিল।

ধনেপাতা খাওয়া কাদের জন্য বারণ?

একথা ঠিক যে ধনেপাতার নানা পুষ্টিগুণের জন্য একে আমরা খাবারে স্বাদবর্ধক হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। ধনেপাতার উপকারিতাও অনেক। ধনেপাতা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও হজমের সমস্যা দূর করে। কিন্তু সাম্প্রতিক নানা গবেষণায় ডাক্তাররা বলছেন, ধনেপাতা খেলেও তা পরিমাণ বুঝে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়া নানা বিপদ ডেকে আনতে পারে, সেইসঙ্গে বিশেষ কিছু রোগ থাকলে ধনেপাতা এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। আজকে আমরা কাদের ক্ষেত্রে ধনেপাতা খাওয়া বারণ, সেই নিয়ে আলোচনা করব।

রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে

আপনার যদি রক্তচাপের সমস্যা থাকে, তাহলে ধনেপাতা সাবধানে খাওয়াই ভাল। এমনিতে ধনেপাতা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করলেও অত্যধিক পরিমাণে ধনেপাতা খেলে শরীরের উপর তার উল্টো প্রভাব পড়ে। এর ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কমে যায় ও হৃদপিণ্ডের উপর চাপ পড়ে হৃদপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অত্যধিক ধনেপাতা খেলে শরীরে অস্থিরভাবের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া, মাথাব্যথাও করতে পারে।

বদহজমের সমস্যা থাকলে ধনেপাতা খাওয়া যাবে না

বদহজমের সমস্যায় ভোগেন যারা, তাঁরা অনেকক্ষেত্রেই ধনেপাতা খেয়ে থাকেন, কারণ আমরা জানি ধনেপাতা বদহজম কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত ধনেপাতা আবার বদহজমের কারণ। অত্যধিক ধনেপাতা পাকস্থলীতে গ্যাস সৃষ্টি করে, পেটব্যথার কারণ হয়। এছাড়া খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত পরিমাণে ধনেপাতা অনেকসময় বমি ও

পেটখারাপেরও কারণ হয়, যা মাঝে-মাঝে ডায়েরিয়া সৃষ্টি করে। ফলে হজমের সমস্যায় ভুগলে ধনেপাতা এড়িয়ে চলুন।

সামনে কোনও অপারেশন থাকলে ধনেপাতা খাওয়া ত্যাগ করুন

রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর জন্য ডাক্তাররা ওষুধের পাশাপাশি ধনেপাতা খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অতিরিক্ত ধনেপাতা আবার রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক পরিমাণে কমিয়ে দেয় যা অপারেশনের সময় নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। ফলে আপনার যদি সামনে কোনও অপারেশন থেকে থাকে, তাহলে অপারেশনের অন্তত ২ সপ্তাহ আগে থেকে ধনেপাতা খাওয়া বন্ধ করে দেওয়াই ভাল।

শ্বাসকষ্টের সমস্যায়

আপনি যদি হাঁপানির রোগী হন বা আপনার যদি শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে ধনেপাতা এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়। দীর্ঘদিন ধরে ধনেপাতা খেলে তা ফুসফুসের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। শ্বাসকষ্টের সমস্যা তৈরি করতে পারে, এমনকী হাঁপানির কারণও হতে পারে।

গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে

গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এমনিতেই সাবধানে থাকতে হয়। তবে অনেকেই যেটা জানেন না সেটা হল, গর্ভাবস্থায় ধনেপাতা না খাওয়াই ভাল। এক্ষেত্রে পাকাপোক্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া না গেলেও অনেকসময়েই ডাক্তাররা গর্ভাবস্থায় ধনেপাতা খেতে বারণ করে থাকেন। এটি বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভ্রূণের ক্ষতি করে, তাছাড়া মহিলাদের জনন অঙ্গের স্বাভাবিক কাজকে প্রতিহত করে, ফলে ভাবী মায়ের ও ভ্রূণের ক্ষতি করে, মহিলাদের সন্তানধারণ ক্ষমতাও হ্রাস করতে পারে। ফলে গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ধনেপাতা একেবারেই এড়িয়ে চলা ভাল।

যকৃতের (লিভার) ক্ষতি

অতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়া যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধনেপাতায় কিছু বিশেষ ধরনের তেল থাকে যা আমাদের শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে থাকা কিছু শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যকৃতের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ফলে যকৃতের সমস্যায় ডাক্তাররা ধনেপাতা খাওয়ার পরামর্শ দিলেও বেশি ধনেপাতা খেলে তা উল্টো ফল দিতে শুরু করে, যার ফলে পিত্তরসের ক্ষরণ বৃদ্ধি পায় ও তা যকৃতের ক্ষতিসাধন করে। তাই, আপনার যকৃতের কোনও রোগ থেকে থাকলে খাবারের তালিকা থেকে ধনেপাতাকে বাদ দেওয়াই ভাল।

অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে

আপনার যদি অ্যালার্জির সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে ধনেপাতা এড়িয়ে চলুন। ধনেপাতায় থাকা প্রোটিন শরীরে নানারকম সমস্যা সৃষ্টি করে। এর ফলে ত্বকে চুলকানি, ফুলে যাওয়া, র‍্যাশ ইত্যাদি হতে পারে। এটি কিন্তু ধনেপাতা বেশি খেলে না, হাতে নিলেও হতে পারে! এছাড়া ধনেপাতায় থাকা অ্যাসিডিক উপাদান মুখবিবরে, ঠোঁটে প্রদাহের দৃষ্টি করে। ধনেপাতার এই অ্যাসিড আমাদের ত্বককে সূর্যালোক সংবেদনশীল করে তোলে, যে-কারণে সূর্যালোক দেহে প্রবেশ করতে পারে না ও ত্বকে ভিটামিন কে-র ঘাটতি দেখা যায়, যা ত্বকের ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।

ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডাক্তাররা ধনেপাতা খাওয়ার পরামর্শ দিলেও কতটা ধনেপাতা খাবেন, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলি থাকলে ধনেপাতা এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয় হবে। কারণ, যথাযথ পরিমাণে ধনেপাতা খেলে যেমন শারীরিক নানা সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়, সেরকমই বেশি পরিমাণে ধনেপাতা খেলে তা উল্টো ফল দেয়। ফলে খাদ্যতালিকায় ধনেপাতা রাখুন বুঝেশুনে।