ধারণার বশবর্তী হয়ে কারও সম্পর্কে মন্তব্য করা কল্যাণকর নয়

ray-hennessy-HlJ7U9WHRR8-unsplash
Fotoğraf: Ray Hennessy-Unsplash

ইসলাম ন্যায্যতার ধর্ম। ইসলাম সভ্যতার ধর্ম। ইসলাম স্বচ্ছতার ধর্ম। এ কারণেই মানুষের প্রতি অযথা যেকোনো ধরনের খারাপ ধারণা করার কোন সুযোগ নেই ইসলামে। সুন্দর এবং উন্নত সমাজ নির্মাণের জন্য ইসলাম সবসময় মানুষের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করতে উৎসাহিত করেছে। প্রমাণ ছাড়া কোন মুসলমানের প্রতি নেতিবাচক ধারণা বা অহেতুক খারাপ ধারণা পোষণ করা হারাম।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেছেন “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সাধারণভাবে অন্যের ব্যাপারে আন্দাজ-অনুমান করা থেকে বিরত থাকো। আন্দাজ-অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুনাহের কাজ। অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে গোয়েন্দাগিরি কোরো না। কারো অনুপস্থিতিতে গীবত অর্থাৎ পরনিন্দা কোরো না। ” (সুরা হুজরাত : আয়াত ১২)। অহেতুক অন্যের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ এর কারণে একে অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়। ফলে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ঐক্য, সাম্য এবং সম্প্রীতি নষ্ট হয়। আর এই ধরনের অহেতুক নেতিবাচক ধারণা থেকেই মিথ্যার সৃষ্টি হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরস্পরের প্রতি অহেতুক ধারণা করা থেকে বিরত থাকতে হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অহেতুক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা অহেতুক ধারণা জঘন্যতম মিথ্যা। (বুখারি ও মুসলিম)। আমরা এখানে দেখতে পাই যে হাদিসের ভাষায় অহেতুক ধারণা করা জঘন্যতম মিথ্যা। তাই বিনা কারণে মিথ্যাচার করা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেননা পবিত্র ধর্ম ইসলামে মিথ্যাচার করা কবিরা গুনাহ। এ জন্য আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিনা কারণে কারো প্রতি অহেতুক ধারণা করা থেকে বিরত থাকতে বিধি নিষেধ করেছেন। অহেতুক কুধারণাকারীর প্রতি তিনি মারাত্মক অভিশম্পাত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ৫৮)।

পবিত্র ধর্ম ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে একে অন্যের প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করা। অর্থাৎ ইতিবাচক চিন্তা করা। মুসলিম, অমুসলিম ভাইদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের সন্দেহ-সংশয় এবং কুচিন্তা থেকে দূরে অবস্থান করা। যেকোনো নেতিবাচক চিন্তার বশবর্তী হয়ে কারো সম্পর্কে মুখে কিছু উচ্চারণ করা যাবেই না, বরং কোন নেতিবাচক চিন্তা বা মন্দ ধারণা মনের ভিতর আসলে তা থেকে বের হয়ে আসার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার জন্য তাওবা-ইস্তেগফার পড়ার নির্দেশ প্রদান করেছন রাসুল [সা.]। রাসুল [সা.] ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ধারণাভিত্তিক কথা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ ধারণাভিত্তিক কথা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তোমরা একে অপরের দোষ অনুসন্ধান করো না আর তোমরা পরস্পর পরস্পরের ব্যাপারে হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং পরস্পর শত্রুতা ও দুশমনি পোষণ করো না; বরং হে

আল্লাহর বান্দারা, ভাই ভাই হয়ে থাক [বোখারি]। এখানে বলে রাখা ভালো যে মন্দ ধারণা তাকেই বলে যে ধারণার পক্ষে বাহিক্য কোন কারণ কিংবা সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। আর এ ধরনের জঘন্য কাজকে কোরআন হাদিসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর থেকে দূরে থাকার জন্য নির্দেশনাও রয়েছে। এর থেকে বলা যায় যে যার ভেতরে সততা, সত্যবাদিতা, আমানতদারী , ইতিবাচকতা পরিলক্ষিত হয় তার সম্পর্কে এ ধরনের নেতিবাচকতা বা খারাপ চিন্তা ধারণ বা পোষণ করা হারাম বলে বিবেচিত হবে।

নেতিবাচক বা মন্দ এবং ইতিবাচক বা ভাল ধারণা মূলত মানসিকতার সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ যার মানসিকতা যেমন সে মানুষের প্রতি ধারণাও তেমন করে থাকে। আরবি ভাষা সাহিত্যে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে, পাত্রের মাঝে যা রয়েছে তাইতো পাত্র থেকে বের হবে। আতরের পাত্রের মুখ খুললে সুগন্ধি বের হবে এবং পানি ভর্তি গ্লাস থেকে পানি বের হওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম। অর্থাৎ যে মানুষের মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গি যেমন তার চিন্তাশক্তি ঠিক তেমনি।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম আমাদের ইতিবাচক চিন্তা শক্তির শক্তিতে বলীয়ান হতে হবে। তাহলেই আমরা অন্যের ব্যাপারে নেতিবাচক চিন্তা বা ধারণার বশবর্তী হয়ে কোন প্রকার মন্তব্য করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারব। যা আল্লাহ পছন্দ করেন। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের দোয়া কবুল করুন।