নকশাযুক্ত কাঠের আসবাবপত্রের বিশেষ যত্নে প্রয়োজন ব্রাশ

wooden furniture
ID 121378604 © Olga Kolbakova | Dreamstime.com

আসবাবপত্র শুধু বাড়ির প্রয়োজন পূরণের জন্যই নয়, বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সময়ের চাহিদার কারণে কাঠের বিকল্প বিভিন্ন উপাদানের মাধ্যমে বর্তমানে আসবাবপত্র তৈরি করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে আসবাবপত্রের জন্য এখনো মানুষ কাঠকেই বেশি পছন্দ করে। কাঠের চেয়ার টেবিল আলমারি সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র টেকসই এবং সৌন্দর্যবর্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এসব আসবাবপত্রের সঠিক যত্ন নিতে হয়। সঠিক ও পরিপূর্ণ যত্নের অভাবে আসবাবপত্র ধাপে ধাপে নষ্ট হয়ে যায়। তাই কাঠের আসবাবপত্র দীর্ঘস্থায়ী এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে যত্নের কোনো বিকল্প নেই।

দৈনিক যত্নঃ

দৈনিক যত্নের মধ্যে প্রথম যে বিষয়টি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে তা হচ্ছে আসবাবে যেন কোন ময়লা জমে না থাকে। তাই প্রতিদিন অন্তত একবার আসবাবপত্র গুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

সাপ্তাহিক যত্নঃ

সপ্তাহে একদিন খুব হালকা লিকুইড ডিটারজেন্ট ও হালকা গরম পানির মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন। এরপর একটি পরিষ্কার কাপড় এই মিশ্রণে ডুবিয়ে ভালোভাবে কাপড় থেকে পানি নিংড়ে ফেলে দিয়ে আসবাবপত্র মুছে নিতে হবে। মোছার সাথে সাথে আরেকটি পরিপূর্ণ শুকনো কাপড় দিয়ে আসবে ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে যেন আদ্র ভাব কাঠের গায়ে না থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেসব আসবাবপত্রে পানির বিন্দুমাত্র ছিটেফোঁটা লাগানো যাবে না সেখানে এই কৌশল প্রয়োগ না করাটাই শ্রেয়।

নকশাযুক্ত আসবাবপত্রের যত্নঃ

অনেকেই আছেন যারা সাদামাটা আসবাবপত্র পছন্দ করে থাকেন না। তাড়াতাড়ি নকশাযুক্ত আসবাবপত্র পছন্দ করে থাকেন। ভারী নকশাযুক্ত আসবাবপত্র পরিষ্কার করা কিছুটা ঝামেলার। এর কারণ হচ্ছে ডিজাইন বাসার ভেতরে ধুলোবালি ও ময়লা জমে থাকে যা পরিষ্কার করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার এর সাথে সাথে নকশা গুলোর ভেতরে ব্রাশ দিয়ে ( টুথব্রাশ অথবা রং করার ব্রাশ) পরিষ্কার করতে হবে। এখানে খেয়াল রাখতে হবে ব্রাশ যেন নকশার প্রতিটি কোনায় কোনায় পৌঁছায়। তা নাহলে পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার হবে না।

পোকা মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করাঃ

কাঠের আসবাবে পোকার আক্রমণ খুব সাধারন একটি ঘটনা। আমাদের দেশে কাঠের আসবাবে যেই পোকার আক্রমণের কথা আমরা সবচেয়ে বেশি শুনে থাকি সেই পোকার নাম হচ্ছে “ঘুণপোকা”। পোকা কাঠের আসবাব নষ্ট

করে ব্যবহারের অনুপযোগী করে ফেলে। তাই কাঠের আসবাবপত্রের পোকার আক্রমণ টের পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আসবাবে যদি ছোট ছোট গর্ত দেখতে পান তাহলে বুঝতে হবে যে পোকার আক্রমণ ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। পোকার আক্রমণের প্রথমদিকে আসবাব এর উপরের দিকে কীটনাশক ব্যবহার করলে অধিক উপকার পাওয়া যায়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের তরল কীটনাশক পাওয়া যায় আসবাবপত্রের সুরক্ষার জন্য। যেমন- ক্লোরপাইরিফস।প্রতি লিটার পানিতে ৩ থেকে ৪ মিলিমিটার কীটনাশক মিশিয়ে ( অথবা কীটনাশকের বোতলের গায়ে ব্যবহার বিধি অনুযায়ী) আসবাবপত্র গুলোকে করে নিতে হবে। এখানে বলে রাখা ভালো যে করার পূর্বে মাক্স , হ্যান্ড গ্লাভস এবং চোখের সুরক্ষার জন্য চোখের গ্লাস ধারন করতে হবে। হয়ে গেলে আসবাবপত্র ভালোভাবে শুকিয়ে নিন এবং এর যে ছিদ্রগুলো রয়েছে তা মোম দিয়ে পরিপূর্ণ ভাবে আটকে দিন। এছাড়া ৬ মাস পর পর নীম তেল স্প্রে করতে পারেন এতে আপনার আসবাবগুলো পোকা মাকড়ের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

আসবাবে দাগ লেগে গেলেঃ

বিভিন্ন অসাবধানতার কারণে আসবাবে দাগ লেগে যেতে পারে। চায়ের কাপ অথবা সব ড্রিংকসের বোতল পড়ে গিয়ে দাগ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দাগের জায়গায় টুথপেস্ট লাগিয়ে আদ্র কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে পারেন। এতে দাগ চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বা  পেস্ট মুছে ফেলার পরে অন্য একটি শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে পারেন যেন আর্দ্র ভাব না তাকে। আবার সিগারেটের ছাই থেকে দাগ পড়ে গেলে স্ক্র্যাচ কনসিলিং পলিশ ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া গরম পাত্র আসবাবের উপর অর্থাৎ টেবিলের উপর রাখলে স্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে তাই এক্ষেত্রে টেবিল ম্যাট বা কোস্টার ব্যবহার করতে পারেন।।

কাঠের আসবাবের যত্ন নেওয়া কিন্তু কঠিন কিছু নয়। শুধু খেয়াল করে নিয়মিত পরিষ্কার করলেই অনেক সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।