নবীজী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন উদযাপন করা কি জায়েজ?

adli-wahid-Y9bC2h5V9c8-unsplash

বিভিন্ন আলেমদের কাছে অনেকেই প্রশ্ন রাখেন, নবীজী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন পালন করা কি ইসলামে জায়েজ আছে?

ইসলামিক ইনস্টিটিউট অফ টরন্টোর ইসলামী পন্ডিত শেখ আহমেদ কুট্টি এই প্রশ্নের জবাবে আমাদের জানিয়েছেন,

জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।

উত্তরঃ ওয়া আ’লাইকুমুসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রাসূলের উপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।

আলহামদুলিল্লাহ।

নবীজীর জীবনী লেখকগণ নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ কবে তা নিয়ে মতভেদ করেছেন। তবে তাদের বেশিরভাগই এ বিষয়ে একমত যে, তিনি হিজরী ১১ সনের ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে মৃত্যুবরণ করেছেন। অথচ সাধারণ মুসলমানেরা না জানার দরুণ এ দিনটিকেই ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ বা নবীজীর জন্মদিবস হিসেবে আখ্যায়িত করে এ দিনটি উদযাপন করে থাকে।

কিন্তু ইসলামী শরিয়তে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ বলে কোনো দিবস নেই। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন কিংবা মুসলিম উম্মাহর নেককার পূর্ববর্তী ইমামগণ এ ধরণের কোন দিবসের কথা জানতেন না বা তাঁরা এরূপ কোনো দিবস উদযাপন করেননি। এ দিবসটি মূলত কিছু মূর্খ বিদআতি উদ্ভাবন করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে বিশ্বের আনাচে-কানাচের অনেক সাধারণ মুসলমান এ বিদআতটি পালন করে আসছে।

সুন্নাহপ্রেমী কিছু কিছু ভাই আছেন যারা তাদের দেশে উদযাপিত এ অনুষ্ঠানাদির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এবং ভালো নিয়তেই এ দিবসটি সকলকে নিয়ে উদযাপন করে থাকেন।

তবে, বাস্তবতা হচ্ছে- এ ভাল নিয়তগুলো এমন অনুষ্ঠানের শরয়ি বৈধতা দিতে পারে না। বরং এগুলো গর্হিত বিদআত। মুসলমানদের জন্য ইসলামী শরীয়তের আলোকে উৎসবের দিন ২টি- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। যদি এর চেয়ে বেশি উৎসব চান তবে জুম’আর দিন মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদ বা উৎসব। জুম’আর দিন আপনারা জুম’আর নামাযে একত্রিত হতে পারেন এবং দ্বীনি চেতনা উজ্জীবিত করতে পারেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এ জাতীয় নিয়ত নিয়ে সমবেত হওয়ার হুকুম সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমগণের কিছু ফতোয়া নিম্নে দেওয়া হলঃ

১। ইমাম আবু হাফস তাজুদ্দিন(রহঃ) নানা প্রকার মিলাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি তার নিজের অর্থ খরচ করে তার পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে মিলাদ পালন করা, এ সমাবেশকে শুধু খাবার গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, এছাড়া অন্য কোন গুনাহতে লিপ্ত না হওয়া। ইতিপূর্বে আমরা যে বিদআতের কথা উল্লেখ করেছি এটাই হচ্ছে সে গর্হিত ও ঘৃণিত বিদআত। কারণ পূর্ববর্তী কোনো সালফে সালেহীন(নেককার পুর্বসূরী) এসব পালন করেননি।

২। ইবনুল হাজ্জ মালেকী(রহঃ) ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের হুকুম সম্পর্কে বলেন, যদি শুধুমাত্র খাবারের আয়োজন করা হয়, এর দ্বারা মিলাদ বা রাসূলের জন্মদিন পালনের নিয়ত করা হয়, এ উদ্দেশ্যে বন্ধুমহলকে দাওয়াত করা হয় তদুপুরী শুধু এ নিয়তের কারণে এটি পালন করাও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা এটা পালন করা ইসলামী শরিয়তে একটি নতুন সংযোজন; যা পূর্ববর্তী সালফে সালেহীন পালন করেননি। সালফে সালেহীন যে অবস্থায় ছিলেন সেটা থেকে কোন কিছু না বাড়িয়ে তাদের অনুসরণ করাই উত্তম; বরং অপরিহার্য।

নতুন সংযোজন কাম্য নয়

কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ ও সুন্নাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তাঁরা ছিলেন সর্বাধিক আগ্রহী। এক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রবর্তিতা সর্বজনস্বীকৃত তাঁদের কেউ মিলাদ পালন করেছেন মর্মে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। আমরা হচ্ছি তাঁদের অনুগামী। যা কিছু তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল সেটা পালন করাই আমাদের জন্যেও যথেষ্ট হবে। জ্ঞানগত ক্ষেত্রে ও আমলী ক্ষেত্রে তাঁদেরকেই অনুসরণ করতে হবে এটাই সর্বজনস্বীকৃত বিষয়।

সুতরাং, এ থেকে আমরা জানতে পারি যে, ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের বিষয়টি সারা বিশ্বের সকল বিজ্ঞ আলেমই প্রত্যাখ্যান করেছেন। সুতরাং, তাদের অনুসরণে আমাদের সাধারণ মুসলমানদেরও এ দিবসটি পালন থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ, কুরআন-সুন্নাহর বাইরের কোনো আমল করে নাজাত পাওয়ার আশা করা বাতুলতা মাত্র। আর এটিই ইসলামের স্বীকৃত মধ্যপন্থা।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে ভাল কাজ করার তৌফিক দেন এবং আমাদের জন্য হেদায়েত ও তৌফিকের আরও পরিধি বাড়িয়ে দেন। গোমরাহিমূলক পথ পরিত্যাগ করে কুরআন-সুন্নাহর পথ আকড়ে ধরার তৌফিক দান করেন। আমীন।

মহান আল্লাহ’তাআলা ভাল জানেন।