নাফাখুম জলপ্রপাত, বান্দরবান

বান্দরবান জেলায় থানচী উপজেলায় অবস্থিত নাফাখুম জলপ্রপাত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত। মারমা ভাষায় খুম মানে জলপ্রপাত। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত। বান্দরবান শহর থেকে থানচি উপজেলা সদরের দূরত্ব ৭৯ কিঃমিঃ। ২৫-৩০ ফুট এই জলপ্রপাতটি রেমাক্রী হয়ে সাঙ্গু নদীতে মিলেছে যেখানে মিলনস্থলে প্রাকৃতিকভাবেই কয়েক ধাপ সিঁড়ির মত করে হেলে দুলে নৃত্যের ছন্দে সাঙ্গুতে মিশে গেছে।

বর্ষার সময় এই জলপ্রপাতটি ভয়াবহ রুপ ধারণ করে আর তখন যাতায়াত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া বর্ষায় সাঙ্গুর স্রোত অনেক বেশি থাকে ফলে ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়। তাই বর্ষার শেষ দিকে শীতের শুরুতে অথবা শীতের শেষ দিকে বর্ষার শুরুতে যাওয়াই ভালো। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর অথবা মে-জুলাই মাসে যাওয়া যেতে পারে।

কিভাবে যেতে হবে

ঢাকা থেকে বান্দরবান যাবার এসি, নন-এসি অনেক বাস আছে। বান্দরবান এর থানচী বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাসে থানচী বাজার যেতে হবে। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েকটা বাস ছেড়ে যায়, এবং প্রতি বিকেলে ফিরে আসে।

থানচী বাজার এর গাইড সমিতি থেকে গাইড ঠিক করতে হবে এবং সাথে রিজার্ভ ট্রলার নিতে হবে। এখানে ট্রলার আর গাইডের এক ধরনের সিন্ডিকেট চলে যেখানে তাদের হাতে পর্যটকরা জিম্মি। নাফাকুম পর্যন্ত মোট দুইজন গাইড লাগে যার একজন থানচী বাজার থেকে নিবেন, অন্যজন রেমাক্রী বাজার থেকে। রেমাক্রী বাজার থেকে প্রায় ২-৩ ঘন্টা ঝিরি পথ পায়ে হেটে পাড়ি দিলেই এই অপূর্ব সুন্দর জলপ্রপাতটি।

থাকার জায়গা

থানচী বাজারে কিছু গেস্ট হাউজ ও বোর্ডিং আছে সেখানে রাত্রী যাপন করা যাবে। এছাড়া রেমাক্রী বাজারেও আদিবাসীদের বাসায় রাত্রী যাপন করতে পারবেন। এছাড়াও যারা ক্যাম্পিং করতে চান তারা বাজারের আশেপাশে  শুষ্কস্থানে ক্যাম্প করতে পারেন।

খাবারের ব্যবস্থা

যদি থানচী বাজারে থাকেন তাহলে থানচী বাজারেই খাওয়া দাওয়া করার জন্য বেশ কিছু মোটামুটি মানের খাবার পাওয়া যায়। রেমাক্রী বাজারে থাকলে খাবারের কথা আগেই বলে দিতে হবে তাহলে তারা খাবার রান্না করে রাখবে। পাহাড়ি মুরগি খেতে চাইলে গাইড কে বললে সে ব্যবস্থা করে দিবে, তবে দাম একটু বেশি নিবে এবং দামাদামি অবশ্যই করে নিবেন। সবচেয়ে ভালো হয় নিরামিষ খেলে, এতে খরচ অনেক কমে যাবে। কারন সেখানে মুরগির দাম অনেক বেশি।

দর্শনীয় দৃশ্য

বান্দরবানের এমন কোন স্থান নাই যা আসলে না দেখার মত। বান্দরবান শহর থেকে থানচী যেতে পথে পড়বে শৈলপ্রপাত, চিম্বুক পাহাড়, পিক৬৯, নীলগিরি সহ আরো অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা। থানচী থেকে ট্রলারে করে যেতে হবে পাহাড়ি খরস্রোতা সাঙ্গু নদীর উপর দিয়ে স্রোতের বিপরীতে। এই বিপরীতে পথে কোথাও শান্ত শিষ্ট ভদ্র সাঙ্গু আবার কোথাও ভয়ংকর খরস্রোতা সাঙ্গুর রূপ। যেতে পথে পড়বে রাজা পাথর এলাকা। এই রাজাপাথর এলাকায় বিশাল আকৃতির পাথর যা আদিবাসীদের কাছে দেবতা এবং তাদের কাছে পূজনীয়। এরপরই চোখে পড়বে নাফাকুম জলপ্রপাত এর বয়ে চলা জল আর সাঙ্গুর মিলনস্থল রেমাক্রীকুম।

Source: The Daily Star

Photo: Collected