নিখুঁত হওয়া ইসলামের মূল লক্ষ্য নয়

alvin-lenin-2ta8OjluZuI-unsplash
Fotoğraf: Alvin Lenin-Unsplash

আমরা সকলেই জানি, সকল শিক্ষার্থী এক ধরনের নয়। কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা কঠোর পরিশ্রম করে এবং সফল হয়।  আর কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা কঠোর পরিশ্রম করে কিন্তু ব্যর্থ হয়, তবে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যায়।

আর বাকিরা শুধু পাশ করার জন্য চেষ্টা করে এবং এরপরও আরও কিছু শিক্ষার্থী থাকে যারা খুব বেশি পড়াশোনা করে না এই ভেবে যে, পরীক্ষার দিনে তাদের ভাগ্য ভাল হবে। অবশেষে তারাও ব্যর্থ হয়।

আমি কখনও এমন কাউকে দেখিনি, যে পড়াশোনার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে এবং বুঝতে পারে যে সে পরীক্ষায় ১০০% মার্কস পাবে না এবং পরে পরীক্ষায় ফাঁকা খাতা জমা দেয় বা পরীক্ষার দিন উপস্থিতই হয় না। কারণ কেউ যখন পাসিং গ্রেড পাওয়ার চেষ্টা করে তখন তাকে মনে রাখতে হবে যে, ক্লাসের প্রতিটি পয়েন্ট এবং অ্যাসাইনমেন্ট গণনা করা হয়।

নিখুঁত হতে হবে এমন নয়

আমাদের ধর্মের কনসেপ্টতাও একই রকম, তবে শয়তান আমাদের তা জানতে দিতে চায় না। সে আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করে যে আমরা যদি নিখুঁতভাবে আল্লাহর ইবাদত না করি, তবে আমাদের চেষ্টা করার দ্বারা কোনো লাভই হবে না।

সুতরাং কেউ যদি পরিপূর্ণভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে না পারে বা মোটেও সালাত আদায় না করে, অবশেষে যখন পরিপূর্ণভাবে সালাত আদায়ের জন্য উঠে দাঁড়ায়, তখন শয়তান তাঁকে ভাবিয়ে তোলে, “আমি কাকে নিয়ে মজা করছি? আমি যখন ঠিকভাবে সালাত আদায় করতে পারি না তাহলে আল্লাহ আমার সালাত কেন কবুল করবেন?”

অথবা কোনো বোন যদি হিজাব পরিধান করার কথা ভাবেন আর যদি পরিপূর্নভাবে পর্দা করতে না পারেন বা অন্য কোনো গুনাহে জড়িয়ে থাকেন তখন শয়তান তাকে ভাবিয়ে তোলে, “এটি পরিধান করার কি কোনো মানে আছে?”

এখানে মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো। এরকম অনেক ভাবনাই আমাদের মুসলিম ভাই-বোনেরা ভেবে থাকেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “আমার বান্দা যদি কোনো নেককাজের সংকল্প করে তবে তার আমলনামায় একটি সওয়াব লিখে দেওয়া হয়। আর যদি তা কার্যে রূপান্তর করে তবে তাকে দশটি নেকি দেওয়া হয়। কখনও কখনও তা (নিয়তের কারণে)আরও সাত’শ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আর যদি কোনো বান্দা কোনো গুনাহের সংকল্প করে তবে তার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হয় না। কিন্তু যদি তা কার্যে রূপান্তর করে তবে তার আমলনামায় মাত্র একটি গুনাহ লেখা হয়।”(সহীহ আল বুখারীতে)

এই হাদীসে কুদসীটি আল্লাহর করুণার নমুনা দেখায়, কারণ নেক আমল গুনাহের চেয়ে ৭,০০০ গুণ বেশি গণনা করা হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেনঃ

“প্রকৃতপক্ষে সৎকর্ম মন্দ কর্মকে দূর করে দেয়। যারা স্মরণ করে তাদের জন্য এটি একটি মহা উপদেশ।” (আল কুরআন – ১১: ১১৪)

শয়তান (বা নফস) যদি আমাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, আমরা যথেষ্ট ভাল হতে পারিনি বা আমরা এখনও গুনাহের কাজ করি, তবে আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে, আমাদের ভাল বা মন্দ কাজের থেকে আল্লাহর রহমত আরও অনেক বেশি প্রশস্ত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“সমস্ত আদম সন্তানই গুনাহগার এবং গুনাহগারদের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা তওবা করে।” (সুনানে তিরমিযী)

আমরা সকলেই গুনাহ করে থাকি। আমরা কেউই নিখুঁত নয় এবং আমরা এটাও জানি না যে, কে আমাদের মধ্যে আল্লাহর বেশি নিকটতম। তিনি আমাদের কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করেন তা হল, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ব্যর্থতার জন্য অনুশোচনা।

সমাজ পরিপূর্ণতা আশা করে, কিন্তু আল্লাহ তা করেন না। যদি আমরা কেবল এটি মাথায় রাখতে পারি, তবে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া এবং তিনি যা পছন্দ করেন তা সম্পাদন করা আমাদের পক্ষে সহজতর হবে।