নিজেকে খুঁজুন, তাহলেই সন্ধান পাবেন আপনার প্রতিভার

dreamstime_xs_141617308
Mempercepat strategi perniagaan menjelang pasca-COVID-19 © Skypixel | Dreamstime.com

প্রতিভার কথা বলতে গেলে প্রথমেই মনে আসে রুমির কথা, যিনি বলেছিলেন “প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরপ্রদত্ত কিছু প্রতিভা থাকে, এবং প্রত্যেই হৃদয়েই থাকে সেই ক্ষমতার প্রতি বিশেষ ভালো লাগা।” এই কথাটার মধ্যে সত্যিই যেন কোনো এক মহাসত্যের উপলব্ধি আছে। যতবার ভাবা যায়, ততবারই মনে হয় এর চেয়ে সঠিক এবং ইতিবাচক কথা আজ কি হতে পারে?

আসলে প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই থাকে কিছু ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতা, যা সে উপহারস্বরূপ নিয়ে আসে এই পৃথিবীতে। আমরা যারা জীবনের ব্যস্ত স্রোতের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলি তাদের কাছে এই ক্ষমতা অব্যবহৃতই থেকে যায়। কিন্তু আমরা যদি একটু সময় নিয়ে শান্ত হয়ে বসি এবং চোখ বন্ধ করে নিজেকে খোঁজার চেষ্টা করি তাহলেই ভিতরের সেই হারিয়ে যাওয়া “আমি” র সন্ধান পাওয়া যায়। সেই বিশেষ ক্ষমতা যা পরমকরুণাময় ঈশ্বর আমাদের মধ্যে দিয়ে পাঠিয়েছেন।

অনেকক্ষেত্রেই আমরা লুকিয়ে ফেলি আমাদের এই পার্থিব শক্তি গুলোকে, অস্বীকার করি এর কার্যকারীতা। হতে পারে এটা খানিকটা ঈশ্বরে অবিশ্বাস করার মতোই, যা নিজস্বত্বা থেকে আমাদের দূরে নিয়ে যায়। এই বিশেষ ক্ষমতাগুলো নূন্যতম ব্যবহারেই চোখে পড়ার মতো প্রস্ফুটিত হয়, উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে কোনো চিত্রশিল্পীর কিশোর বা বালক অবস্থার  আঁকা ছবি দেখেই বোঝা যায় তার প্রতিভার ছায়া। যারা এইসমস্ত বিশেষ প্রতিভার অধিকারী হয়েও কাজে লাগান না বা অস্বীকার করেন, তাঁদের জীবন নিজের স্বীয় পথ থেকে বিচ্যূত হন।

কীভাবে বুঝবেন আপনার বিশেষ ক্ষমতা কী? এই প্রশ্নের সম্মুখীন মাঝেমাঝেই হতে হয়, এর উত্তর হিসেবে বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। কারও জীবনের শিশু ও কিশোর বয়স প্রতিভা প্রকাশের জন্য আদর্শ সময়। সেই সময় আপনি কি কোনো শৈল্পিক কাজ করতে ভালোবাসতেন? যেমন- আঁকা-লেখা-গান অথবা অন্যকিছু?  যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তবে সম্ভবত সেটিই আপনার বিশেষ প্রতিভা। নিজের ভিতরে থাকা ক্ষমতা খুঁজে বের করার কোনো সঠিক সময় নেই, হতেই পারে আপনি এখন জীবনের শেষ লগ্নে অবসর জীবনে এসে দাঁড়িয়েছেন, তখনও নিজের মধ্যে একটু ঢুকলেই পেয়ে যাবেন সকল রহস্য।

নিজের মধ্যে থাকা এই প্রতিভার প্রয়োগ যেকোনো ভাবেই করা যেতে পারে। আজকের ইন্টারনেট প্রজন্মে কোনো ক্ষমতাই ফেলনা নয়, ইচ্ছা করলেই উপার্জন করা যায় কিছু অর্থ এবং খ্যাতি। যদিও অনেকে নিজের ক্ষমতা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমিত রাখেন, এতেও ক্ষতি কিছু নেই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ঈশ্বরের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ যোগস্থাপন করা। এই উপাসনার মধ্যে দিয়েই জীবনে অনাবিল আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার অধিকারী হওয়া যায়।

নিজের এই আবেগ বা প্যাশনকে ধাওয়া করার পিছনে এক আধ্যাত্মিক তৃপ্তি পাওয়া যায়। ঠিক যে কাজটা করতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, তার দ্বারাই পৌঁছে যাওয়া যায় ঈশ্বরের সান্নিধ্যে। এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে! অনেক মানুষ আছে যারা দাবি করে আমাদের এই কাজগুলো হারাম বা অপবিত্র কিন্তু আসলে তা উল্টো। পৃথিবীতে হারাম কাজ খুব সীমিত এবং ঈশ্বর তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। কিছু খাদ্য, পানীয়, পরস্ত্রী সম্ভোগ, অসুস্থ যৌন সম্পর্কের মতো বিষয়গুলিই হারাম কাজের আওতায় পরে এবং কোনো ভাবেই তা আমাদের প্রতিভার আঙিনায় পা মাড়ায় না।

আমাদের আত্মা বা মনকে সবল এবং পরিপক্ক করতে ঈশ্বরপ্রদত্ত এই ক্ষমতাগুলির অবদান অনস্বীকার্য। এবং এগুলি মানুষকে প্রথাগত কুসংস্কারের বাইরে নিয়ে এসে, মানুষকে প্রকৃতই হৃদয়বান করে তোলে। প্রতিদিনের এই ব্যস্ত দুনিয়ায় এক চিলতে আনন্দ বা তৃপ্তি পেতে এই একটু নিজের মনকে সময় দেওয়া উচিত, নিজের সাথে কাটানো এই সময়গুলিতেই আমরা নিজেদের চিনতে পারি। এর ফলে জীবনও হয়ে ওঠে মধুর এবং আনন্দদায়ক।