নিজের ও কাছের মানুষের মানসিক উন্নতিতে মেনে চলুন ৫টি নীতি

ID 75213780 © Volodymyr Yarosh | Dreamstime.com
ID 75213780 © Volodymyr Yarosh | Dreamstime.com

জীবনকে সুন্দর করে রাখা যেমন আপনার দায়িত্ব তেমনি আশেপাশের বা প্রিয় মানুষদের যত্ন নেওয়াটাও আপনার কর্তব্য এর মধ্যেই পড়ে। তাই কিছু নিয়ম মেনে চলতে শুরু করুন –

কথা বলা ও অন্যকে সাহস জোগানো

মন বড়ো জটিল জিনিস। মানুষ যখন ডিপ্রেশনের মধ্য দিয়ে যায় তখন সেই মন ঠিক রাখার একটা উপায় কথা বলা। কথা বললে মনের ভেতরে জমে থাকা কষ্ট লাঘব হয়ে যায়। উল্টোদিকের মানুষটার সাথে সব কথা শেয়ার করতে পারলে যেমন নিজেকে একটু হালকা লাগে, তেমন এই সময় একটু সান্ত্বনা অনেক কাজ করে, মনের অনুভূতিগুলো বদলে দেয়। সেরকম অন্য কেউ আপনার সাথে তার খারাপ লাগা গুলো শেয়ার করলে তাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। কথা বলতে হবে, নিজের মনের ভেতর চেপে রাখলে আখেরে কারোরই কোনো লাভ হবে না। এছাড়া মন ভাল রাখতে প্রকৃতির সাথে ঘনিষ্ঠ হন খোলা নীল আকাশ দেখুন, অনুভূতিটাই পরিবর্তন হয়ে যাবে।

সংবেদনশীল হন

সংবেদনশীল হতে শিখুন, একদম নিজেকে দুর্বল ভাববেন না। একটা মানুষ যখন কথা বলে তখন কিছু কথা এমন থাকে যা তাদের দুর্বল করে দেয় ফলে তার আচার বা আচরন কোনোটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে না, সবকিছু আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। দয়ার মন গড়ে তুলতে হবে, কাউকে করুণা ও ক্ষমা করতে শিখতে হবে, দেখবেন এতে মন খারাপ যেমন কেটে যায়, নতুন সম্পর্কের সৃষ্টিও হয়। মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখালে আপনিও সেই সহানুভূতি ফিরে পাবেন।

প্রত্যেক মানুষ আলাদা, তাদের সমস্যাগুলোও আলাদা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা হলো, “আমি জানি তুমি কী পরিস্থিতিতে আছো।” না আপনি জানেন না। হয়তো এরকম কোনো পরিস্থিতিতে একসময় আপনি ছিলেন কিন্তু আপনার অবস্থা এবং অন্য একজন মানুষের অবস্থার কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে। অন্যজনের সমস্যার কথাটা শুনুন, বোঝার চেষ্টা করুন ঠিক কোন কারণে কষ্ট পাচ্ছে এবং আপনি কী করতে পারেন তার জন্য। যখন আপনি অপর জনের সমস্যার কথা শুনবেন তখন তারাও স্বস্তি পাবে নচেৎ আপনি তাদের আরও অসুবিধায় ফেলবেন। মনে করুন আপনি একটা সমস্যায় পরেছেন কিন্তু কোনো ব্যক্তি আপনার কথা না বুঝেই বিভিন্ন রকম উপদেশ দিচ্ছে, কেমন লাগবে আপনার?

অল্প কথায় আঘাত পাবেন না

আমরা প্রত্যেকেই মুখ ফসকে অনেককিছু বলে ফেলি যেগুলো আসলে বলতে চাইনি। এরকম কথায় যারা রেগে যায় বা আঘাত পায় তাদের কোনো ঘনিষ্ট বন্ধু হয় না, প্রত্যেকে এড়িয়ে চলে এদের। আপনিও এরকম অল্পতেই আঘাত পেলে জীবনে খুব সমস্যায় পড়বেন। বন্ধুরা হাসি-ঠাট্টা করে, অফিসের বস একটু কড়া সুরে কথা বলে বাড়িতে বাবা-মা শাসন করে, এগুলোকে বেশি মনে নেবেন না। তাহলে দেখবেন জীবনে একটা ভারসাম্য থাকবে।

খারাপ অবস্থায় ডাক্তারি পরামর্শ নিন

আপনি যদি দিনের পর দিন নিজেকে গুটিয়ে রাখেন বাইরের পৃথিবীর থেকে, কথাবার্তা না বলে বন্ধুহীন জীবনযাপন করেন তাহলে খুব শীঘ্রই বিভিন্ন মানসিক রোগ এসে বাসা বাঁধবে আপনার মনে। হয়তো এরমধ্যেই ডিপ্রেশনে চলে গেছেন। এই অবস্থায় কখনই বিষয়টাকে হালকা ভাবে নেবেন না। মানসিক রোগ শরীরে হওয়া রোগের থেকেও ভয়ঙ্কর হয়। 

যত শীঘ্র সম্ভব পরিবারের লোক বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে কথা বলুন যদি না বলতে চান তাহলে সরাসরি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

এরকম অবস্থা যদি কোনো বন্ধূর হয় তাকে ডাক্তারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিন। যদি ঘনিষ্ট বন্ধু হয় তাহলে নিজেই সঙ্গে করে নিয়ে যান। মনে রাখবেন আজকের পৃথিবীতি যে কেউ মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং এই রোগ এতই ভয়ঙ্কর যে প্রাণনাশের ঝুঁকি পর্যন্ত থাকে।