নিজের বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগান

Fikir positif © Shutter999 | Dreamstime.com

জীবনে সমস্যা, সংকট থাকবেই, তবে প্রত্যেকটি মানুষই একটা সুন্দর সুস্থ জীবনযাপন এর স্বপ্ন দেখে,আর এই স্বপ্ন নিয়েই শুরু হয় তার ধীরে ধীরে পথ চলা। আগামীর পথে চলার একমাত্র প্রধান উপায় হল মানুষের বিবেক, বুদ্ধি আর গভীর চিন্তা। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের এই বুদ্ধি আর বিবেককে কাজে লাগাতে পারলে সবেতেই উত্তীর্ন হওয়া সক্ষম। মনে অনেক রকমের চিন্তা কিন্তু তার মাঝে সবচেয়ে প্রধান চিন্তা হল আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আর তার এই মহানতম সৃষ্টি জগত। সবই তো তার সৃষ্টি,আমরা মানুষরা কেবল একটা মাধ্যম। নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন? কিছু নিশ্চয়ই কারণ অবশ্যই আছে,কিন্তু সেটা কি? আমরা কি সেই কাজ টা বাস্তবায়ন করতে পারছি যে জন্য আমাদের এই পৃথিবীতে আসা?

প্রত্যেককে আল্লাহ সমান বুদ্ধি ও বিবেক দিয়েছে, সেগুলোকে যদি আমি বা আপনারা কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে আপনাদের উন্নতি হবে। কোনো চটজলদি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সময় লাগবে না। বিবেচনা করে সঠিক সময়ে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল এটা বুঝতে পারবেন। জীবনে কোন পদে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে বুদ্ধি অবশ্যই দরকার। নবী মুহাম্মদ (সা) সহ নবী রাসূলদের চিন্তা করতে ও বিবেক বোধে জাগ্রত হতে বলেছেন।

যেকোনো মানুষই লক্ষ্য ছাড়া এগোতে পারেন না। লক্ষ্যহীন ভাবে এগোনো মানেই হার। চিন্তা ভাবনা না করে হঠাৎ করে কোনো কাজ করলে সে ব্যর্থতার  শিকার হয়। বিবেকের জোরেই সে সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে। সত্য আর মিথ্যার মধ্যে যে ফারাক সেটা বুঝতে পারে। মানুষের মনুষ্যত্বই হল বিবেক। বিবেক দংশন না  হলে মানুষ মনুষত্বহীন হয়ে পড়ে। তখন আল্লাহের চোখে সে আর মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয় না।

সবসময় মনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জ্ঞানীদের মতে মন কখনো যেন নিজের আয়ত্তের বাইরে বেরিয়ে না যায়। মন যদি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে তাহলে সে অমনুষত্বের অধিকারী হয়ে পড়ে। বিবেকের বিপরীত শক্তি হল প্রবৃত্তি। মানুষের প্রবৃত্তি লাগাম ছাড়া পশুর মতো হয়ে যায়। এটা মানুষের বিবেক নষ্ট করে দিয়ে যেকোনো পথে টেনে নিয়ে যায়। এই টানের সত্যতা উপলব্ধি করার মতো বুদ্ধি বা বিবেচনা সে করতে পারেনা, ফলে তার জীবন সংকটময় হয়ে পড়ে। নানা দিক থেকে নানা পদে সে বিপদে পড়ে। নবী মহম্মদ এর কথা অনুযায়ী, অজ্ঞতার পথ রুদ্ধ করতে বিবেক ই একমাত্র অস্ত্র।

পবিত্র কোরান ও হাদিসে বলা হয়েছে, বিবেক যদি কোনো কিছুকে সঠিক মনে না করে তাহলে সেটাকে সঠিক মনে করা কিংবা বিশ্বাস করার কোনো অধিকার মানুষের নেই। বিবেক এর কাছে যেসব বৈশিষ্ট্য অপছন্দনের, সেগুলোকে পছন্দনীয় হিসেবে তুলে ধরার এবং যেসব কাজ  মন্দ বলে মনে করা হয় সেগুলো সম্পাদন করার অধিকার মানুষের নেই।

একটা মানুষের সাথে অপর একটি মানুষের পার্থক্য গড়ে ওঠে চিন্তার ভিত্তিতে। প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা আর তাদের চিন্তাধারাও আলাদা। কোনটাকে সে কিভাবে নেবে সেটা তার জীবনের ওটর গভীর প্রভাব ফেলে।

প্রত্যেকটি সফল মানুষের পিছনে থাকে ইতিবাচক চিন্তাধারা, তারা সব সময় উন্নত মনের ও সৃজনশীলতার চিন্তা করে। আর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত কিছু নীচ মানুষ যারা সর্বক্ষন নেতিবাচক চিন্তা করে, এরা সবসময় ব্যর্থ হয়।

ইসলাম মানুষকে বিবেকবান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে। এ কারণে সূরা ইউনুসের ১০০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা চিন্তা করে না আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর অপবিত্রতা আরোপ করেন।

কোরান-ই-কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘অবশ্যই সফলকাম হয়েছে সে ব্যক্তি, যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে আর সেই বিফলকাম হয়েছে যে নিজেকে পাপাচারে কলুষিত করেছে। (সূরা আশ সামস: ৯-১০) অর্থাৎ পবিত্র কোরানে বারংবার উচ্চারিত হয়েছে বিবেক। একটা মানুষকে সুন্দর, পবিত্র, জ্ঞানী করে তোলে এই বিবেক।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তিন ব্যক্তি হিসাবনিকাশ থেকে মুক্ত থাকে। প্রথমত, ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়। দ্বিতীয়ত, অপ্রাপ্ত বয়স্ক, যতক্ষণ না সে পরিণত বয়সে উপনীত হয়। তৃতীয়ত, পাগল, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়। এরকমটা বাদে সবাইকেই বিবেক, বুদ্ধি বিবেচনা করে চলতে হবে, ইসলাম এর পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে।