নিজের সংশোধন ও পরিবর্তনের চেষ্টা করা ঈমানের দাবি

শিক্ষা Contributor
মতামত
dreamstime_s_124445632
© Fsstock | Dreamstime.com

আরবিতে একটা প্রবাদ আছে, “সবচেয়ে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বা বিচক্ষণ মানুষ হলো তারাই যারা সর্বদা নিজেদের দোষ-ত্রুটিগুলোকে দেখে।” তাই সর্বদা নিজেকে সংশোধনের ফিকির করা এবং দোষ-ত্রুটি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য খুবই জরুরি।

অন্যের সংশোধনের চেয়ে নিজের সংশোধন বেশি জরুরী

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের অভ্যাসই এমন যে, সকলেই অন্যের দোষ-ত্রুটি সন্ধান করে বেড়ায় এবং সেগুলি নিয়েই সমালোচনাই ব্যস্ত থাকে। অথচ অন্যকে সংশোধন করার আগে নিজের দোষ-ত্রুটি সংশোধন করাই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।

অধিকাংশ মানুষের অবস্থা এরকম যে, নিজে ভ্রান্তির মধ্যে ডুবে থেকে অন্যের সংশোধনে বেশি উদগ্রীব! কিন্তু এটি কোনো ঈমানদারের জন্য কাম্য নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন-

“তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের আদেশ দাও আর নিজেদেরকে ভুলে থাকো, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা একটুও চিন্তা করো না?” (আল কুরআন-২: ৪৪)

এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কখনও নিজেদের দোষ-ত্রুটি দেখেন না কিংবা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দোষ-ত্রুটি থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে চান না। তাদেরকে উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা’আলা বলেন-

সুতরাং প্রথমেই নিজেকে সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। এটাই একজন মুমিনের নিকট ঈমানের অনিবার্য দাবি। নিজের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা ভুল-ত্রুটিগুলো সংশোধন সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই নিজেকে দিয়েই সংশোধনী শুরু করতে হবে। তবেই সমাজ সংশোধন হবে।

নিজের সংশোধন ও পরিবর্তনের জন্য নিজের দোষ-ত্রুটি খুঁজতে হবে

নিজেদের দোষ ও ভুল-ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করতে পারলেই সমাজের সার্বিক অবস্থা পরিশুদ্ধ ও উন্নত হবে। তাই নিজের মধ্যে কোন কোন দোষ বা ভুল-ত্রুটি রয়েছে আগে সেগুলি আগে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। এ চেষ্টার নামই হচ্ছে এহতেসাব বা আত্মসমালোচনা। সহজ কথায়, নিজেকে নিয়ে নিজে চিন্তা-ভাবনা করা বা নিজের সমালোচনা করা।

কোনো ব্যক্তি যদি নিজের দোষ-গুণ বের করতে আত্মসমালোচনার চেষ্টায় রত থাকে, তবে সে নিজের দোষ ও গুণসমূহ অবশ্যই দেখতে পাবে। এভাবে নিজের সংশোধনও সহজ হয়ে যাবে।

এই আত্মসমালোচনার জন্য প্রয়োজন নিজের উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব, কর্তব্য, করণীয় ও বর্জনীয়, সফলতা ও ব্যর্থতা এবং ভালো ও মন্দ কাজগুলো নিয়ে নির্জনে ও একান্তে চিন্তা-ভাবনা করা। নিজের ভালো ও মন্দ কাজগুলো নিয়ে হিসাব-নিকাশ করলে তখনই বেরিয়ে আসবে নিজের ভাল-মন্দ তথা সকল দোষ ও গুণ।

মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহ তা’আলা মানুষকে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য দিয়েছেন বিবেক নামক এক বিশেষ যোগ্যতা বা ক্ষমতা। এই বিবেকের দ্বারাই মানুষ ভালো-মন্দের বিচার করতে পারে। এই বিবেকই মানুষের মাঝে আয়নার মত নিজের ভালো ও মন্দ দিকগুলোকে তুলে ধরে। বান্দাও এই বিবেক-বিবেচনার জোরে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পারে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন- “বরং মানুষ নিজেই নিজের ব্যাপারে খুব ভালো করে জানে।” (আল কুরআন-৭৫: ১৪)

নিজের সংশোধন ও পরিবর্তনের জন্য নিজের হিসাব নিজে গ্রহণ করুন

হযরত উমর (রাযিঃ) বলতেন, “(আখিরাতে) আল্লাহর সামনে হিসেবের সম্মুখীন হওয়ার আগে তোমরা নিজেরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো এবং (আখিরাতে মিজানের পাল্লায়) তোমাদের আমলকে মাপার আগে তোমরা নিজেরা নিজেদের আমলকে মেপে নাও। কেননা, আজকে তোমার নিজের এই হিসাব-নিকাশ করাটা আখিরাতে হিসাব দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি সহজ। আর তোমরা বড় পরীক্ষা দেয়ার সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “সেদিন তোমাদেরকে (হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান প্রদানের জন্য আল্লাহর সামনে) পেশ করা হবে, তখন তোমাদের কোনো কিছুই গোপন থাকবে না।” (মুয়াত্তা মালেক)

তাই প্রত্যেক মুমিন মুসলিমের উচিত নিজের দোষ-ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা এবং সেগুলি থেকে নিজেকে সংশোধন করা। এরদ্বারা আখিরাতের জীবন যেমন সুন্দর হবে, তেমনি দুনিয়ার জীবনের সফলতার দেখা পাওয়া যাবে। এজন্য উচিত প্রতিটি মুহূর্তে মহান রবের নিকট নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করা এবং বেশি বেশি তওবা ও এস্তেগফার করা।

এভাবে, মুমিনদের মাঝে নিজেকে সংশোধনের আগ্রহ বা চেষ্টা থাকলে ধীরে ধীরে সমাজ কলুষতামুক্ত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সমাজে অন্যায় ও অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। প্রত্যেকের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন হবে সফল ও সুন্দর।

আল্লাহ তা’আলা মুসলিম উম্মাহকে নিজেদের দোষ-ত্রুটি ও ভুলগুলো খুঁজে বের করে তা থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন এবং সঠিক পথ নসিব করুন। আমিন।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.