SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

নিশানায় ইসলাম, মেসেজিং অ্যাপে চ্যাট আর গোপন থাকবে না- চাইছে ইইউ

অ্যাপ্লিকেশনস ১৮ ডিসে. ২০২০
ফোকাস
data leakage

ইইউ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিতর্কিত খসড়া প্রস্তাবনাগুলি দ্বারা এনক্রিপশন সিস্টেম এড়িয়ে নাগরিকের ব্যক্তিগত বার্তা অ্যাক্সেস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই খসড়া প্রস্তাব নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কীভাবে মেসেজিং অ্যাপগুলির এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগ ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর আক্রমণ এবং সরকারী নজরদারি চালানোর পক্ষে আইন করা সম্ভব? অনুমান করা হচ্ছে এর উত্তর হল, ইসলামের প্রতি ভীতি।

এনক্রিপশন বিষয়ে ইউরোপীয় কাউন্সিলের অবস্থানের রূপরেখা ফাঁস হওয়া একটি খসড়া মেমোতে বলা হয়েছে যে, “ইউরোপের মানুষকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের থেকে রক্ষা করার জন্য” একটি নতুন আইনী কাঠামো প্রয়োজন।”

ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ায় সাম্প্রতিক হামলা ইসলামের নামে প্রচারিত হলেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তার পরেও কিছু ইউরোপীয় নেতা আইন-শৃঙ্খলার নামে এই ধরনের একটি বিতর্কিত আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।ki

কী চাইছে ফ্রান্স ?

ফরাসি প্রশাসন করোনা ভাইরাস মহামারী সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ নিজ দেশেই চাপের মুখে পড়েছিলেন, এই অবস্থায় একজন স্কুল শিক্ষক হত্যার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জাতীয়তাবাদের আবেগ বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

একইভাবে অস্ট্রিয়ায় আইসিসের (দায়েশ) প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তির দ্বারা গত সপ্তাহে হামলার জেরে চার ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার পরে ম্যাক্রঁর অস্ট্রিয়ার সমকক্ষ, চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ এই ধরনের অপরাধের প্রতি কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদের যোগাযোগের খসড়াটিতে “ইসলাম”-কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং এর জন্য “আমাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলি দ্বারা গৃহীত আইনগুলির প্রতি শান্তিপূর্ণ এবং শ্রদ্ধা উভয়ই জানাতে হবে” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে “চরমপন্থার বিরুদ্ধে এই লড়াই অবশ্যই ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির বর্জন এবং একঘরে করার মতো ঘটনার দিকে মোড় নেবে না।”

এনক্রিপশন ভঙ্গের আইনী পথ

এই পটভূমি অনুযায়ী, ইইউ যে হোয়াটসঅ্যাপ এবং সিগন্যালের মতো জনপ্রিয় বার্তাপ্রেরণ অ্যাপ্লিকেশনে এনক্রিপশন ব্যবস্থা শেষ করার জন্য আইনী উপায় খুঁজছে, তা কর্তৃপক্ষকে “ইসলামপন্থী চরমপন্থা”-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন হল এমন একটি পদ্ধতি, যা ব্যবহারকারীর কথোপকথন বা চ্যাটকে এমনভাবে সুরক্ষিত করে যে, তা কোনও তৃতীয় পক্ষ এই ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারে না।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানাচ্ছে, প্রাপ্ত ইইউ প্রস্তাবের একটি খসড়া বলেছে যে “উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে সাইবার সিকিউরিটি বহাল রাখার ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার এবং ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণ সম্মানের সাথে আইনী ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ক্ষেত্রে ডেটা অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হতে হবে।”

প্রস্তাবিত আইনের বিরোধিতা

ডিজিটাল অধিকার কর্মীরা অবশ্য আইনটির বিরুদ্ধে এবং নাগরিক স্বাধীনতার উপরে এর সম্ভাব্য ক্ষতিকারক প্রভাবের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন।

জার্মান লেফ্ট পার্টির আইন প্রণেতা আঙ্কে ডমশেইট-বার্গ বলেছেন, ” প্রস্তাবিত ইইউ আইনটি ডিজিটাল পরিকাঠামোর অখণ্ডতার উপরে আক্রমণ এবং তাই এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।”

জার্মান আইন প্রণেতার অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে, এমন উদ্বেগজনক মুহূর্তকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য, খুব অল্প লোকের সাথে পরামর্শ করে ইইউ এই আইনটি দ্রুত পাস করাতে চাইছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য প্যাট্রিক ব্রেয়ার বলেছেন, এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগে হস্তক্ষেপের অর্থ “সম্পূর্ণ নিরাপদ এনক্রিপশন শেষ হয়ে যাবে এবং হ্যাকার, বিদেশী গোয়েন্দা ইত্যাদির জন্যও পিছনের দরজা খুলে দেবে।”

২০১৮ সালে রাশিয়া যখন টেলিগ্রাম নামে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটির মাধ্যমে অনুরূপ পদক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিল, তখন নাগরিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে এই আইন ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছিল।

সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা কতটা সম্ভব?

প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপরে এই কঠোর নজরদারি করার জন্য ইইউ-এর প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হল সন্ত্রাসবাদী অপপ্রচারের মোকাবিলা করা। কিন্তু এই আইনে সুদূরপন্থী উগ্রবাদ সম্পর্কে কোনও উল্লেখ নেই, যা প্রকৃতপক্ষে অধিকাংশ সন্ত্রাসমূলক ঘটনার জন্য দায়ী।

২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “২০১৮ সালে, পশ্চিমী দেশগুলিতে সন্ত্রাসবাদী ঘটনাগুলির মধ্যে দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিমাণ ছিল সর্বাধিক ১৭.২%। এর বিপরীতে, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলি দায়ী এমন ধরনের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৮%, এবং কোনও গোষ্ঠীই দায়ী নয় পশ্চিমে এমন ধরনের ঘটনার হার ৬২.৮% হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।”

এই ধরনের সমীক্ষায় এই কথা স্পষ্ট যে, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর হামলার হাত থেকে ইউরোপীয় জনগণকে বাঁচানোর যে যুক্তি ইইউ-এর তরফে প্রদান করা হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে খুবই খারাপ যুক্তি। সমীক্ষার ফলাফলই বলে দিচ্ছে, অন্য ধরনের হামলার ঘটনা পশ্চিমী দেশগুলিতে অনেক বেশি। অথচ সেই ধরনের ঘটনার দিকে কার্যত কোনও নজর না দিয়ে, একতরফা ভাবে ইসলামপন্থীদের দায়ী করে সমগ্র মহাদেশের বাসিন্দাদের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করার ঘৃণ্য চেষ্টা করা হচ্ছে।