নিয়ম করে ডায়েরি লেখা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

শিক্ষা Tamalika Basu
ফিচার
ডায়েরি লেখা
Photo by Gabby K from Pexels

ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় ডায়েরি লেখার অভ্যেস অনেকেরই থাকে। সেইসময় আম্মি-আব্বুও অনেকসময় নতুন বছরে ডায়েরি উপহার দিয়ে সন্তানকে দিনলিপি লেখানোর অভ্যেস করিয়ে থাকতেন। কাকে বলে এই ডায়েরি লেখা? কী লিখতে হয় তাতে? সারাদিন কী করলেন, কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সেদিন আপনার জীবনে ঘটল, আপনি সেখান থেকে কী শিক্ষা নিলেন, আপনার সারাদিনের ভাবনাচিন্তা, মনে হওয়া ইত্যাদিই স্থান পায় ডায়েরির পাতায়।

ডায়েরি লেখা-র ‘কী’ ও ‘কেন’?

স্কুলে পড়ার সময় নিয়ম করে ডায়েরি লেখার অভ্যেস থাকলেও, দুঃখের বিষয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বড় হয়ে অভ্যেসটি চলে যায়। এমনকী, ডায়েরি লেখা আপনার পক্ষে উপকারী হতে পারে জেনেও কাজের চাপে ডায়েরি লেখা হয়ে ওঠে না! অথচ, যাদের বয়স এখন ২৫-৪০ বছরের মধ্যে, বিশেষ করে তাঁরা কিন্তু নিয়ম করে ডায়েরি লিখলে আরও বেশি উপকার পেতে পারেন। আসলে এই বয়সেই মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে থাকে। ২৫-৪০ বছর বয়স আদতে মানুষের কেরিয়ার গুছিয়ে নেওয়ার সময়, ফলে এইসময় মানসিক চাপও থাকে প্রবল।

আশা ও বাস্তবের মধ্যে ফারাক থাকায় অনেকেরই জীবনে এইসময়ে ডিপ্রেশন দেখা যায়। দৈনন্দিন অনেক ঘটনাই এসময়ে ঘটে, যা কাউকে বলাও যায় না। অথচ মনে হয়, সেসময়ে পাশে কেউ থাকলে, বা আপনার যন্ত্রণা কাউকে খুলে বললে বুঝি ভাল হত! এই পরিস্থিতিতে একাকিত্বের যন্ত্রণা কাটাতে কিন্তু ডায়েরির পাতাই হয়ে উঠতে পারে আপনার নিত্যদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী! নিয়ম করে ডায়েরি লেখার ফলে উপকৃত হতে পারেন সকলেই। এমনকী, মার্ক টোয়েন থেকে শুরু করে বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, থিয়োডোর রুজভেল্ট, উইনস্টন চার্চিল, বিশ্ববিখ্যাত এইসকল ব্যক্তিত্বদেরও ছিল ডায়েরি লেখার অভ্যেস। আজকের আলোচনায় আমরা কেন ডায়েরি লিখবেন এবং তা কীভাবে আপনাকে ভাল থাকতে সাহায্য করবে, সেই নিয়ে আলোচনা করব।

গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা লিখে রাখুন ডায়েরিতে

আমরা প্রত্যেকেই প্রতিদিন নানা ঘটনা, জীবনের ওঠা-পড়ার সাক্ষী থাকি। এইসব কিছু আমাদের পক্ষে কখনওই মনে রাখা বা কোথাও লিখে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতিদিনের একগাদা ঘটনার মধ্যে এমন অনেক ঘটনা বা বিষয় থাকে, যেগুলি আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। আবার নানা বিষয় দেখে আপনার মনে কোনও নতুন আইডিয়া আসতে পারে। এইসমস্ত ভাবনা, আইডিয়া বা দৈনন্দিন ঘটনা থেকে আপনি কী শিক্ষা নিলেন, সেগুলি ডায়েরিতে লিখে রাখুন। মনে রাখবেন, ভুল সব মানুষেরই হয়, এবং মানুষ সেই ভুল থেকেই শিক্ষা নেয়। ফলে নিজের ভুল, ভাবনা, ভুল কাটিয়ে নিজেকে কীভাবে আরও উন্নত করতে পারবেন, সেগুলি ডায়েরিতে লিখে রাখলে পরে সেগুলি আপনাকে চলার পথে পাথেয় যোগাবে। এছাড়া নিজের অনুভূতিগুলি রোজ ডায়েরিতে লিখে ফেলার অভ্যেস থাকলে তা পড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

নিজের লক্ষ্য এবং ডায়েরি লেখা 

অনেকেই রয়েছেন যারা প্রচুর কাজ করেন। অথচ সারাদিনে কী কী কাজ করলেন, বা তাঁরা কতটা কর্মক্ষম, তাঁর কোনও হিসেব তাঁদের নিজেদের কাছেই থাকে না। সাফল্য পাওয়ার প্রতিযোগিতায় লড়তে-লড়তে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন তাঁরা, ফলে অনিবার্যভাবেই গ্রাস করে ফেলে অবসাদ। এক্ষেত্রে ডায়েরি লেখার অভ্যেস কিন্তু সাহায্য করতে পারে। সারাদিন কী কী কাজ করলেন, তা ডায়েরিতে লিখুন। কী করা বাকি রয়েছে, সেটিও লিখে রাখুন। তাহলেই বুঝবেন সারাদিন অনেক কাজ করলেও কোনটা কাজের কাজ হয়েছে, আর কোনটা অর্থহীন থেকে গিয়েছে। পরের দিন কী কাজ করবেন, সেই পরিকল্পনাও ডায়েরিতে লিখে রাখুন। দেখবেন, এতে কাজ এবং সময় ম্যানেজমেন্ট, দুটোর ক্ষেত্রেই সুবিধা হচ্ছে।

এলোমেলো ভাবনাকে গুছিয়ে রাখে ডায়েরি

অনেকেই গুছিয়ে কাজ করতে পারেন না। তাঁদের একগাদা কাজ লিস্টে থাকলেই এলোমেলো হয়ে যায় সব। এই সমস্যা থাকলে অনায়াসে কাজে লাগাতে পারেন ডায়েরিকে। কোন কাজ করা প্রয়োজন এবং কার পর কোন কাজ করবেন, গুরুত্ব অনুসারে সেটি পরিকল্পনা করে রাখুন ডায়েরিতে। দেখবেন সুবিধা হচ্ছে। এছাড়া, নিজের সম্পর্ক, কাজ, ভাল থাকা, ভাল লাগা নিয়ে নিজের যা মনে হবে, কার কোন কথায় খারাপ লাগল বা কোন বিষয়টা আপনি না করলেও পারতেন, ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয়ই ডায়েরিতে লেখা যায়।

জীবনে স্পষ্টতা আনতে ডায়েরির জুড়ি নেই

আজ্ঞে হ্যাঁ, নিজের কোনও বিষয়ে ধোঁয়াশা থাকলে বা কোনও কাজে কনফিউশন হলে সেটিও কিন্তু অনায়াসে ডায়েরিতে লিখতে পারেন। ব্যক্তিগত জীবনের বিকাশে ডায়েরির ভূমিকা অপরিসীম। তাছাড়া কোন সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছেন, সে বিষয়ে যদি স্পষ্টভাবে নিজের ডায়েরিতে লিখে রাখেন, দেখবেন, সেটি পরে আপনাকেই সাহায্য করছে।

মনখারাপের সঙ্গী ডায়েরি

মনে রাখবেন, ডায়েরি আসলে একভাবে নিজের সঙ্গেই নিজের কথোপকথন। মনখারাপ হলে সে কথা অনেকেই কাউকে বলতে পারেন না। বিশেষ করে যারা মুখচোরা হন, তাঁদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা আরও বেশি করে দেখা যায়। আবার অনেকসময় এমন অনেক ঘটনায় বা কারণে মনখারাপ হয়, যা সবাইকে বলাও যায় না। এক্ষেত্রে কিন্তু আপনার প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠতে পারে ডায়েরি। তবে হ্যাঁ, যা কিছুই ঘটুক না কেন, ডায়েরিতে কিন্তু মিথ্যা কথা না লেখাই ভাল। সৎ থাকুন, সত্যি লিখুন। এমনকী, ডায়েরি লেখার পরামর্শ সাইকোলজিস্টরাও দিয়ে থাকেন।

তবে আজ লিখব, কাল লিখব করে অনেকেই ডায়েরি লেখা শুরু করেও সেটিকে চালু রাখেন না। এটি কিন্তু খারাপ। ফলে যা কিছুই ঘটুক না কেন, রোজই ডায়েরি লিখবেন, এই প্রতিজ্ঞা করুন। খাতা-পেন নিয়ে বসার অভ্যেস চলে গেলে, ফোনেই নানারকম অ্যাপ পাওয়া যায়, যার সাহায্যে আপনি ফিজিকাল ডায়েরির বদলে অনলাইনেই ডায়েরি লিখতে পারবেন। এভাবেই নিজের প্রতিদিনের চলার পথে ডায়েরিকে বেস্ট ফ্রেন্ড করে তুলুন। তাহলেই ভাল থাকবেন।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.