SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

নুশাবাদ: ইস্ফাহানের কাছে মাটির নীচে রয়েছে এই মায়ানগরী

ইতিহাস ১৩ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
নুশাবাদ
Nushabad Underground City Picturesque Breathtaking Illuminated Corridor Closed Well View © Aleksandar Pavlovic | Dreamstime.com

নুশাবাদের অলিতে গলিতে ঘুরতে ঘুরতে আপনি বুঝবেন যে সময়ভ্রমণ করে আপনি আধুনিক ইরান থেকে বহুদূরে চলে এসেছেন। আর এই বহুদূর আসলে প্রাচীন ইরান। নুশাবাদ শহরের দেওয়াল সিঁড়ি রাস্তা আপনাকে সাসানিদ রাজপরিবার ও শাসনের সাক্ষী দেবে, বাতাস ফিসফিস করে জানাবে শত যুদ্ধ ও বিশ্বাসভঙ্গের কথা।

পর্যটন কেন্দ্র হোক কি পুরাতাত্ত্বিক কেন্দ্র, নুশাবাদ প্রত্যেকটি মানুষকে মুগ্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

নুশাবাদ-এর অবস্থান

ইস্ফাহানের কাছে অবস্থিত এই পনেরোশো বছরের পুরনো শহরের ভগ্নাবশেষ এখন সারা বিশ্বের কাছে আগ্রহের বিষয়। মাটির নীচে অজস্র টানেল, সুরঙ্গ ও গলি দিয়ে নুশাবাদ গঠিত। এর সঙ্গে রয়েছে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ। এ যেন মাটির নীচে অবস্থিত এ স্বয়ংসম্পূর্ণ নগরী। এ নগরীর আরেক নাম ‘অঊঈ’, ইরানীয়তে যার অর্থ ‘সম্বোধন’।

নগরীর ইতিহাস

নুশাবাদ নামের অর্থ যে নগরে সুমিষ্ট জল পাওয়া যায়। নুশাবাদের ইতিহাস নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় যেটি তা হল, একজন সাসানিয় সুলতান একদিন এই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয় ইঁদারা থেকে জল পান করার পর তিনি অত্যন্ত তৃপ্ত হন। অতঃপর, এই ইঁদারাকে কেন্দ্র করে শহর তৈরির নির্দেশ দেন। তাঁরই বিচিত্র খেয়ালে শহরটি বানানো হয় মাটির নীচে। পারস্যের অজস্র স্থপতি অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই শহর গঠন করেন। সুলতান এরপর শহরের নাম রাখেন ‘অনুশাবাদ’, বা সুমিষ্ট জলের শহর। কালক্রমে তা নুশাবাদে পরিণত হয়েছে।

সাসানিয় সুলতানরা প্রবল গরমে সপরিবারে এই মাটির নীচের নগরীতে থাকতে আসতেন। এমনকি, অনেকের হারেমও ছিল এই নুশাবাদে। বর্তমানে প্রবল গ্রীষ্মে এই অঞ্চলের আশে পাশে মানুষেরা নুশাবাদে এসে বসবাস করেন।

বহির্শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করত নুশাবাদ

ইতিহাসের পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নুশাবাদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। শুধু সুমিষ্ট জল বা গ্রীষ্মের তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নয়, শত্রুর আক্রমণ থেকেও রক্ষা পাওয়ার জন্য নুশাবাদ ব্যবহার করতে থাকে ইরানীয়রা।

বহুযুগ ধরে দস্যু ও বাইরের শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নুশাবাদে আশ্রয় নিত সাসানিয় শাসকরা। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষও যোগ দিতে শুরু করে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ত্রয়োদশ শতকে ইরানে যখন মঙ্গোল আক্রমণ হয়, তখন অজস্র মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল নুশাবাদ।

মঙ্গোলরা এসে উপরের শহর সম্পুর্ণ জনশূন্য পেয়ে বেশ থতমত খেয়ে গিয়েছিল। কাজার শাসনকালের আগে পর্যন্ত এই মাটির নীচের মায়ানগরী অজস্র শত্রুর আক্রমণ থেকে উপরের শহরের মানুষকে রক্ষা করেছে।

এই নগরীর প্রবেশ পথের বিশেষ গঠনের জন্যই শত্রু খুঁজে পেলেও এই শহরে প্রবেশ করতে পারত না। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, এক একটা প্রবেশ স্থলে মাত্র একজন করে ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারে। সুতরাং শত্রু যদি প্রবেশ করে, এক এক বারে একজনের বেশি প্রবেশ করতে পারবে না। ভিতরের লোক তখন তাকে কচুকাটা করতে পারবে।

এছাড়া এই শহরের ভেন্টিলেশন পদ্ধতি ছিল বিজ্ঞানসম্মত, আর শহরের ভিতর রয়েছে সুমিষ্ট পানীয় জলের অজস্র উৎস। সম্ভবত খাদ্য সঞ্চয় করে রাখারও কুঠুরি ছিল। সুতরাং, যারা এই শহরে প্রবেশ করতেন তাঁরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য থেকে যেতে পারতেন।

নুশাবাদের পুনরাবিষ্কার

ইতিহাস বিস্মৃত হয়েছিল নুশাবাদকে, তবে ১৯২০ সালে এক স্থানীয় মানুষ বাড়ির জন্য ইঁদারা খনন করতে গিয়ে খুঁজে পায় এই মায়ানগরী। তারপর থেকে ২০১৪ পর্যন্ত পাঁচটি খনন কার্য চালানো হয়েছে এখানে। প্রতিবারের খনন বিস্মিত ও মুগ্ধ করেছে পুরাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিকদের।