নেট দুনিয়ায় সুরক্ষিত থাকতে ভিপিএন কি অপরিহার্য?

Hooded man on the computer, for hacking,spying,internet security themes

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে একাধিক এমন ব্যবস্থা আছে যা আপনার স্বাধীন বিচরণকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। মনে করুন কোনো দেশের সরকার বা বড় কোনো কর্তৃপক্ষ অথবা নূন্যতম  ক্ষেত্রে আপনার অফিস চাইলেই ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে আসতে পারতে পারে। বহু দেশে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বহু অফিসের সার্ভারে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করা আছে, এছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর যে বিধিনিষেধ চাপানো হয় তার অসংখ্য উদাহরণ আছে। 

একটি অতিপুরোনো প্রবাদ বাক্য আছে– “যত বজ্র আঁটুনী, তত ফস্কা গেরো“, এই সীমাবদ্ধ ইন্টারনেটের ফস্কা গেরো হলো ভিপিএন। ভারচুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক অর্থাৎ ভিপিএনের সাহায্য আপনি যেকোনো জায়গায় বসে যেকোনো ওয়েবসাইট খুলতে পারবেন এবং তার ব্যবহারেও কোনো অসুবিধা হবেনা। নাম থেকেই যেটা জানা যায়, ভিপিএন একটা প্রাইভেট নেটওয়ার্ক যা আপনার ফোন বা কম্পিউটারের সাথে একটা সার্ভারকে নিরাপদ ভাবে যুক্ত করে। 

ভিপিএন প্রথমদিকে যদিও এতসব সমস্যা সমাধান করার জন্য শুরু হয়নি। শুরুর দিকে এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিজনেস নেটওয়ার্কের কাজকে সহজ করার। এরপরে ধীরে ধীরে ডেটাপাইরেসি ঠেকাতে ভিপিএন হয়ে ওঠে ডেটাপ্রাইভেসির প্রধান পন্থা।

ভিপিএন কীভাবে কাজ করে?

মনে করুন আপনি ভারত থেকে একটা ওয়েবসাইট খুলতে চান কিন্তু সেটাকে কোনো কারণবশত ব্যান করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু ঢাকা থেকে ওয়েবসাইটটি খুলতে কোনো সমস্যা হয়না। তখন ভিপিএন ব্যবহার করলে তা আপনার আইপি অ্যাড্রেসকে লুকিয়ে দিয়ে ঢাকার একটা আইপি অ্যাড্রেস দিয়ে সাইটটা খুলে দেবে। আইপি অ্যাড্রেস বদলে যাওয়ার কারণে আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বুঝতে পারবে না সাইটটা কোন জায়গা থেকে খোলা হল ফলে ব্লক করতেও পারবে না। 

কেন দরকার ভিপিএন?

যেসময় দাঁড়িয়ে আপনার ইন্টারনেট সার্চ হিস্ট্রি বিক্রয়যোগ্য দ্রব্য তখন নিজেকে অন্তত কিছুটা নিরাপত্তা দেওয়া উচিত। ভিপিএন ব্যবহার করলে অন্তত আপনার লোকেশনটা গোপনে থাকে। এছাড়াও ভিপিএন ব্যবহারে আরও অনেক সুবিধা আছে।

ব্রাউজিং হিস্ট্রি গোপন করা

আমরা অনেকেই পাবলিক ওয়াইফাই নিয়মিত ব্যবহার করি। পরিষেবার দিক থেকে লোভনীয় হলেও পাবলিক ওয়াইফাই তথ্যের নিরাপত্তা একেবারে নেই বললেই চলে। কেউ যদি ওই সময়ে আপনার ব্রাউজিং হিস্ট্রি দেখতে চায় তাহলে খুব সহজেই তা দেখা যাবে যদি সে দেখতে জানে। ভিপিএন ব্যবহার করলে তা খুব সহজেই ওই পাবলিক ওয়াইফাইকে বোকা বানিয়ে দিতে পারে। এতে আপনার নেটের স্পীডও কমবে না আবার তথ্যও গোপন করতে পারবেন।

স্থান বিশেষে সীমাবদ্ধ নেটওয়ার্ক

বিষয়ে আগেই বলেছি কীভাবে ভিপিএন আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। এভাবে আপনি চাইলে যেকোনো দেশের ওয়েবসাইট খুলতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন। 

ইন্টারনেট সেন্সর

আমরা অনেকেই কমবেশিদা গ্রেট ফায়ার ওয়াল ওফ চায়না“-এর কথা জানি। বিশ্বের সবচেয়ে জনবসতিপূর্ণ দেশ সমস্তরকম প্রচলিত ইন্টারনেট ব্যবস্থার বাইরে এবং সম্পূর্ণ রকম বিচ্ছিন্ন। এখানকার মানুষরা কিছু কিছু ভিপিএন সার্ভিসের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রাখছে বর্তমানে। 

ভিপিএনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখে বহু মানুষ এই পরিষেবা গ্রহণ করছে। নর্ড ভিপিএনের মতো প্রচলিত নেটওয়ার্ক খুব কম খরছে এই পরিষেবা দিয়ে থাকে। এছাড়া আপনি চাইলে বিনামূল্যেও কিছু ভিপিএন পেতে পারেন।