পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে সংবেদনশীল করার উপায় – ব্যক্তিগত বাগান নির্মাণ করুন

Home Garden with Waterfall

‘মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা, যুক্তরাজ্য’ এর গবেষকরা বলেছেন যে, সবুজঘেরা স্থানে সময় কাটানো, খাদ্যশস্য ও ফুল গাছ রোপন করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি আমাদের মেজাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং আমাদের স্ট্রেসের মাত্রা কমিয়ে দেয়।

বাগান তৈরী করার মাধ্যমে আপনার পঞ্চ ইন্দ্রিয় যেমন স্পর্শ, গন্ধ, স্বাদ, শব্দ এবং দর্শন সংবেদনশীল হবে। এটি আপনার ব্যস্তময় জীবনে গতিময়তা ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করবে।

স্পর্শ

আলাহ বলেন, “নিশ্চয় আমি মানুষকে মাটির উপাদান হতে সৃষ্টি করেছি” (আল কুরআন ২৩:১২)

সুতরাং, মাটিতে হাত নোংরা করার মধ্যে অবশ্যই কিছু আছে। কারণ সম্ভবত আমাদের কিছু স্তর মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন ধরণের গাছের মধ্য দিয়ে তৈরি পথে আপনি নুড়িপাথর বা মাটির টাইল ব্যবহার করতে পারেন। প্রকৃতির উত্থান ও স্বাচ্ছন্দ্যের সংযোগের জন্য মাটিতে এবং নুড়ি পাথরে খালি পায়ে হাঁটার চেষ্টা করুন। এতে আপনার মনে স্বাচ্ছন্দ্যতা ফিরে আসবে।

শব্দ

মানসিক প্রশান্তির জন্য আমরা মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরণের অ্যাপে বৃষ্টি বা জলপ্রপাতের শব্দ শুনি। তবে যাদের বাগান রয়েছে তাদের জন্য অ্যাপে বা ইউটিউবে কৃত্রিম শব্দ শোনার কোনো প্রয়োজন নেই।

পাখির খাবার ঝুলিয়ে বা ছায়াযুক্ত স্থানে পানির ব্যবস্থা করে আপনার বাগানে পাখিদের আকর্ষণ করতে পারেন। খুব শীঘ্রই পাখিরা এসে আপনার জন্য সুন্দর এলেমেলো শব্দের একটি ধ্বনি সৃষ্টি করবে যা তাত্ক্ষণিকভাবে আপনাকে প্রশান্ত করবে।

কিছু স্থানীয় পাখির খাদ্যবীজ, পাখিদের পছন্দনীয় ফুল বা মিষ্ট জলের আধার আপনার বাগানে সুন্দর সুন্দর প্রাণীকে আকৃষ্ট করতে পারে।

আপনার কাছে যদি পর্যাপ্ত জায়গা এবং বাজেট থাকে তবে একটি ছোট ঝর্ণা তৈরী করুন যা আপনার বাগানে একটি মনোরম কলকল ধ্বনি যুক্ত করবে। আর বাগানে যদি পর্যাপ্ত গাছ থাকে তবে তো শরত্কালের শুরুর দিকে বাগানে হাঁটার সময় পায়ের নীচে পাতার কুঁচকানো শব্দ আপনাকে মোহিত করবে।

স্বাদ

কোভিড-১৯ থেকে এ বছর  আমরা খাদ্য সংরক্ষণ ও খাদ্যের সুরক্ষার গুরুত্ব খুব ভালভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি। এমন একটি বাগান তৈরী করা যাতে ভোজ্য উদ্ভিদ, ফুল এবং শাকসবজির সমাহার থাকবে, তা কেবল আমাদের মনের উদ্যমতাকেই বাড়িয়ে তুলবে না বরং সাথে সাথে খাদ্য সুরক্ষাকেও নিশ্চিত করবে।

এছাড়া নিজের বাগানে তৈরী হরেক রকম উদ্ভিদ থেকে আপনি যখন তাজা ও সুমিষ্ট ফলফলাদি ও শাকসবজি পাবেন তখন আনন্দে আপনার মন উতলা হয়ে উঠবে।

আপনার বাগানে সময় কাটানোর মূহুর্তে, একেকটি গাছের নিকট যান এবং সুমিষ্ট ও তাজা ফল নিজের জিহ্বাকে উপভোগ করান।

নিজস্ব বাগানে এরূপ ফলন যেমন আপনাকে আর্থিকভাবে লাভবান করবে তেমনি আপনি ও আপনার পরিবার ভেজালমুক্ত, খাটি ও তাজা ফলমূল ও শাকসবজি উপভোগ করতে পারবেন।

গন্ধ

আমরা যদি কখনও কারও থেকে একগুচ্ছ ফুল পাই বা নিজেরাই ফুল সংগ্রহ করি তখন সকলে প্রথমে কী করি? অবশ্যই আমরা নাকের কাছে ফুলটি নিয়ে গিয়ে ফুলের সুবাস গ্রহণ করি। আর এ সুবাস গ্রহণে আমাদের সকলের মস্তিষ্কে এক আশ্চর্যজনক অনুভূতি কাজ করে। অর্থাৎ, ফুলের সুবাস আমরা সকলেই পছন্দ করি। এ কারণে যে সকল ফুলে সুঘ্রাণ বেশি সে সকল ফুল আপনার বাগানে রোপন করতে পারেন।

যখনই আপনার মন খারাপ হবে বা কোনো অবসাদ বা হতাশা আপনাকে ঘিরে ফেলবে, তখনই আপনার বাগানে গিয়ে সুমিষ্ট ফুলগুলির সুঘ্রাণ গ্রহণ করুন। দেখবেন আপনার সকল অবসাদ দূর হয়ে গিয়ে মনের ভিতর এক অন্যরকম প্রশান্তি বিরাজ করছে।

দৃষ্টিশক্তি

অল্প সময়ের মধ্যে চোখে সব ধরনের আলো সয়ে গেলেও অল্প বা তীব্র আলোতে কখনোই লেখাপড়া বা অন্যান্য কাজকর্ম করা উচিত নয়। কারণ অধিক আলো দৃষ্টিশক্তিকে ক্ষতি করে। আর এ কারণেই চোখকে ভাল রাখতে বিশেষজ্ঞরা অনেক পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

চোখের জন্য সবচেয়ে ফলদায়ক হল প্রাকৃতিক সবুজ রং। গাছপালার সবুজ রঙ চোখের জন্য খুবই আরামদায়ক। চোখ ভাল রাখতে বাগানে প্রচুর পরিমাণে সবুজ রঙের গাছ লাগান। আর বাগানে থাকা গাছপালার দিকে সকালে ঘুম থেকে উঠে বা যেকোনো সময় কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখ প্রশান্তি পাবে। আর মনও সতেজ হবে।

এগুলি হল কোনো সুন্দর বাগান তৈরির উপকারিতা। যা আমাদের পঞ্চ ইন্দিয়কে সংবেদনশীল করার জন্য খুবই উপকারী। বাগান এত মনমুগ্ধকর বলেই আল্ললাহ তা’আলাও তার প্রিয় বান্দাদেরকে আখিরাতে সুন্দর বাগানে(জান্নাতে) প্রবেশ করানোর ওয়াদা করেছেন। কল্পনা করুন তা কতটা মনোমুগ্ধকর হবে!