পবিত্র কুরআনের বরকতময় কিছু সূরা

dreamstime_s_144265296

আল্লাহ তা’আলা সমগ্র কুরআনকেই বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ করে নাজিল করেছেন। এর প্রতিটি হরফেই রয়েছে সওয়াব। তাই ফাজায়েলের কথা বলতে গেলে সমগ্র কুরআনই ফজিলতপূর্ণ। এর প্রতিটি শিক্ষাই মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার।

তবে কিছু কিছু সূরা রয়েছে, যেগুলি অন্য সকল সূরা থেকে আলাদা মর্যাদা রাখে। তেমনি বেশ কিছু আয়াতও রয়েছে, যেগুলোর ফজিলত নিয়ে স্বতন্ত্র বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

১) সূরা ফাতিহা

সূরা ফাতিহাকে ‘উম্মুল কুরআন’ বলা হয়। অর্থাৎ, সমগ্র কুরআনের সারসংক্ষেপ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ ‘উম্মুল কুরআন’ এর মত তাওরাত ও ইনজিলে কোনো সুরা নাযিল করেননি। এটিকে বলা হয়, ‘আস-সাব’উল মাছানী’ (বারবার পঠিত ৭টি আয়াত), যাকে আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। আর আল্লাহর বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চাইবে।” (নাসাঈ)

ইবনে আব্বাস(রাযিঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিবরাঈল(আঃ) উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ জিবরাঈল(আঃ) উপরের দিকে থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং চোখ আকাশের দিকে তুলে বললেন, “আজ আকাশের একটি দরজা খোলা হয়েছে, যা পূর্বে কোনোদিন খোলা হয়নি। সে দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন; যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। আর আপনার পূর্বে তা কোনো নবী-রাসূলকে প্রদান করা হয়নি। তা হচ্ছে সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত।” (মুসলিম)

২) সূরা বাকারা

নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের বাসগৃহকে কবর সদৃশ বানিয়ো না (অর্থাৎ নফল সালাতসমূহ বাড়িতে আদায় করবে); আর যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয় শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।” (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “যদি কেউ রাতে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করে, তবে সেটি ঐ রাতে তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।” (বুখারি)

৩) সূরা আলে ইমরান

নাওয়াস(রাযিঃ) বলেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআন অনুযায়ী যারা আমল করত তাদেরকে একত্রিত করা হবে। সূরা বাকারা এবং সূরা আলে ইমরান সবার অগ্রে থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা দু’টি সম্পর্কে তিনটি উদাহরণ দিয়েছেন যা আমি কখনো ভুলব না। তিনি বলেছিলেন, “এ সূরা দু’টি দু’খণ্ড ছায়াদানকারী মেঘের আকারে অথবা দুইটি কালো চাদরের মতো ছায়াদানকারী হিসেবে আসবে, যার মধ্যখানে আলোর ঝলকানি অথবা সারিবদ্ধ দু’ঝাঁক পাখীর আকারে আসবে এবং পাঠকারীদেরকে তার পক্ষ নিয়ে যুক্তি তর্ক করতে থাকবে।” (মুসলিম)

৪) সূরা কাহাফ

নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত (আরেক বর্ণনা অনুযায়ী শেষ দশ আয়াত) মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।”

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি জুম’আর দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য পরবর্তী জুম’আ পর্যন্ত নূর চমকাতে থাকবে।”

৫) সূরা মুলক

নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কুরআনে ৩০ আয়াতের এমন একটি সূরা আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে। ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর সেই সূরাটি হলো সূরা মুলক।” (তিরমিযী)

এছাড়া সূরা মূলক পাঠকারী কবরের আযাব থেকেও রক্ষা পাবে বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

৬) সূরা ওয়াকিয়া

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করে, শেখে, তার নাম গাফেলদের তালিকায় লেখা হবে না। সে এবং তার পরিবার কখনও দারিদ্রতায় জর্জরিত হবে না।’

৭) সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস

আবদুল্লাহ ইবন খুবায়ব তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “এক বর্ষণমুখর রাতে গভীর অন্ধকারে আমাদের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে আমারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে খুজতে বের হলাম। এক স্থানে গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তখন তিনি বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় আমাকে বললেন, বলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি বলব? তিনি বললেন, ‘সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস তিন বার করে পাঠ করবে; তবে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।” (তিরমিযী)

আল্লাহ আমাদেরকে এসকল বরকতময় সূরা বেশি বেশি পাঠ করার তৌফিক দান করেন। আমীন।