পরিবারের উষ্ণতা কীভাবে পাবে এখনকার ঘরছাড়া প্রজন্ম?

পড়াশোনা বা চাকরির সূত্রে আমরা অনেকেই বাসা থেকে দূরে চলে যাই, অন্য শহরে অথবা অন্য দেশে। কিন্তু সদ্য ঘরছাড়া প্রাণ বারবার বাড়ির দিকেই ফিরতে চায়। প্রাচ্যের দেশগুলিতে বিশেষত দুই পাড়ের বাঙালিদের মধ্যে এই নাড়ির টান খুব দৃঢ় হয়। কমবেশী আমাদের সকলেরই মনে এর একটা প্রভাব পড়ে। পরিবার প্রিয়জনদের সাথে হঠাৎ এই দূরত্ব যেমন ভিতর থেকে অস্থির করে তোলে তেমনই উল্টোদিকে কিছু ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিস্তর ফারাক করে দেয়। এই দুই ধরনের সমস্যার সমাধান নিয়েই আজ আমরা কথা বলব। 

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

প্রতিদিন কাজের ফাঁকে বাড়ির কথা মনে পরেই যায়। আর তার সাথেই ভেসে আসে একরাশ স্মৃতি যা হয়তো আপনার গোটা ঘর জুড়ে ছড়িয়ে আছে, এই সমস্ত কিছুর সান্নিধ্য এই সময় কষ্ট দেয় বেশি। তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা। কাজটা মোটেই সহজ নয় কিন্তু একবার স্মৃতির বোঝা মাথায় নিয়ে গা এলিয়ে দিলে সারা দিনটাই শেষ হয়ে যাবে। এই সময় একটা গল্পবই নিয়ে বসুন, একটু সোশ্যাল মিডিয়া অথবা ইউটিউবে মন দিতে পারেন। এমন কিছু করুন যা ওই মূহুর্তে আপনার মনটাকে ভালো করে দেবে। 

পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ 

অনেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বাড়ির কথাই ভুলে যায়, এটাও মোটেই ঠিক কথা নয়। বাড়ির জন্য অতিরিক্ত মন কেমন যেমন কষ্ট দেয় তেমন বাড়ির সাথে একেবারেই যোগাযোগ না রাখলে সেটা পরিবারের কাছেও কষ্টকর। নিয়মিত দিনে অথবা দুদিনে একবার বাড়িতে ফোন করুন, এতে দুপক্ষই স্বস্তিতে থাকবে। 

বাবামা ফোন করলে না ধরে এড়িয়ে যাবেন না অথবা কটু কথাও বলবেন না, প্রয়োজনের থেকে বেশি ফোন করলে শান্ত ভাবে (অথবা আপনার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে) বলুন আপনি কতটা ব্যস্ত তাই প্রয়োজন ছাড়া ফোন করার দরকার নেই, আপনি সঠিক সময়ে ফোন করে নেবেন।

নতুন বন্ধু করুন

নতুন জায়গায় মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয় একথা আমরা সবাই জানি। তবে নতুন জায়গায় নতুন বন্ধু করলে আসতে আসতে সব ঠিক হয়ে যায়। সমবয়সী স্থানীয় ছেলেমেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করলে এবং অবসর সময়গুলো একসাথে কাটালে মনও ভালো হয় এবং সময়ও কেটে যায়। বাড়ি থেকে দূরে থাকার বিষাদ ভাবটা আর থাকেনা। 

অসুবিধা হলে সাহায্য চান

আমরা কেউই সবটা সঠিক ভাবে করতে পারিনা, অনেকক্ষেত্রে গুলিয়ে যায় কোনটা করা উচিত আর কোনটা নয়। নতুন জায়গায়, বাসা থেকে অভিভাবকদের থেকে দূরে, এই সিদ্ধান্ত গুলো নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সাহায্য করার মতো মানুষের অভাব নেই পৃথিবীতে, কলেজ হোক বা অফিস কোনো অসুবিধায় পরলে অবশ্যই বন্ধু বা সহকর্মীদের সেটা জানানকোনো একটা সমাধান বেড়িয়ে আসবেই। 

মোটামুটি এই কয়েকটা প্রাথমিক পদক্ষেপ মেনে চললেই আপনার ভিনদেশ বা শহরে থেকে পরিবারের অভাবটা একটু কম বোধ হবে।