পরিবারের কর্তৃত্ব সামলানোর দায়িত্ব কার?

Muslim family apartment repair
ID 123950843 © Hendrik Sulaiman | Dreamstime.com

একটি পরিবারের সর্বাঙ্গীন দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব কার? প্রশ্নটা করলেই চোখের সামনে একজন পরিবারের কর্তার কথাই ভেসে ওঠে। কিন্তু বর্তমান সমাজের দিকে যদি নজর দেওয়া যায় তাহলে দেখা যাবে সেই চিন্তাভাবনায় হালকা পরিবর্তন এসেছে। পুরনো দিনের ঐতিহ্যশালী ও সমৃদ্ধশালী ইসলামিক চিন্তাভাবনার প্রসার এখন আর অতটা দেখা যায় না। আল্লাহকে আগে দিনের যতবার স্মরণ করা হত ততবার স্মরণ করা হয় না। মানুষের কাজের চাপ বেড়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাইরের নানারকম প্রলোভন। তাই কোনও কোনও বাড়িতে কুর-আন মূলত পবিত্র ধর্মীয়গ্রন্থ হিসাবেই রয়ে গিয়েছে, আত্মস্থ হয়নি। 

রাশ নারীর না পুরুষের?

ইমানদার ও জিম্মেদার মুসলমান পুরুষ কুর-আনের সমস্ত সুরা ও আয়াত হৃদয়ঙ্গম করবে এবং তা অক্ষররে-অক্ষরে পালন করে পরিবারের হেফাজত করবে। তাহলেই আল্লাহ হেদায়েত দান করবেন। 

বর্তমানে, কোনও-কোনও পরিবার পালন করার রাশ নারীদের হাতে রয়েছে। সেটা অবশ্যই খারাপ কিছু না, আল্লাহ বলেছেন নারী পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে তৈরি। কিন্তু, কখনও কখনও এরকম অবস্থায় সংসারের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। নারী মূলত আবেগপ্রবণ ও কৌতূহলী, তাঁর সিদ্ধান্তগুলি অনেকক্ষেত্রেই অস্থির হয়। ফলস্বরূপ শিশু, স্বামী ও পরিবারের বাকি সদস্যদের কিঞ্চিৎ সমস্যা হয়ে থাকে। 

সংসার ইমানদার মুসলমান উম্মাতের ভিতস্বরূপ, তাই সংসারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আবেগ ও কৌতূহল কিঞ্চিৎ কম করাই শ্রেয়। তাই সংসারের কর্তৃত্ব সবসময় পুরুষের হাতে থাকা বাঞ্ছনীয়। পুরুষই নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সংসারকে শক্ত হাতে গড়ে তুলতে পারবে ও স্ত্রী ও সন্তানকে আশ্রয় দেবে বড় গাছের মতো।

ভারসাম্য বজায় রাখা  

সংসারসমুদ্রের জলে পরিবার একটি নৌকোস্বরূপ, সেই নৌকো যাতে টালমাটাল না হয় তার জন্য প্রয়োজন একজন কুশলী মাঝির। যে মাঝি নৌকোর দায়িত্ব নেবে, সঠিক দিকনির্দেশ করে পাড়ে নিয়ে যাবে ও নৌকোর হাল শক্ত হাতে ধরে থাকবে। ইসলামের শরিয়া অনুসারে এটি সম্পূর্ণভাবে আদর্শ মুসলমান পুরুষের কর্তব্য। 

স্ত্রী ও সন্তানের উপর ছাতার মত হয়ে থাকা, সংসারের দায়িত্ব পালন ইত্যাদি মুসলমান পুরুষের কর্তব্য কারণ নারী স্বভাবে কোমল, লতানে গাছের মতো। তাকে দুর্যোগ থেকে আগলে রাখতে হয়। একজন পুরুষ তার প্রস্তরসম বক্ষ ও কঠিন মানসিক জোর দিয়ে সেই কাজটি নিপুণভাবে করতে পারে। 

আল্লাহর ইচ্ছেতেই প্রকৃতি পুরুষ ও নারীকে এইভাবে তৈরি করেছে, পুরুষ বৃক্ষসম, নারী তাকে জড়িয়ে লতার মত বেয়ে ওঠে, ফুলে ফলে সংসার ভরিয়ে তোলে। এভাবেই সংসারের ভারসাম্য তৈরি হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে অনেক পুরুষই ভারসাম্যের এই সুন্দর তত্ত্বটি বিস্মৃত হয়েছেন। তারা খানিক আলস্যতা বশত সংসারের কর্তৃত্ব স্ত্রীর উপর ছেড়ে দেন এবং মনে করেন যে এভাবেই সংসারে শান্তি বজায় থাকবে ও স্ত্রী খুশি হবেন। এটা একেবারেই ভুল, যদিও আপাতভাবে মনে হবে যে স্ত্রী সংসারের দায়িত্ব পেয়ে খুশি, কিন্তু আসলে নারীর স্বভাব হল শক্তপোক্ত আশ্রয়ে নিজেকে বিকশিত করে তোলা। শক্ত আশ্রয় অর্থাৎ পুরুষ যদি দায়িত্ব ছেড়ে দেয় তাহলে নারী আসলেই দিশাহারা হয়ে পড়ে ও এটিকে পুরুষের দোষ হিসাবে গণ্য করে। 

নারীর সুরক্ষা

কখনও কখনও নারী হয়তো অন্যদের কাছে তার স্বামীর কর্তৃত্ব নিয়ে অভিযোগ করে, কিন্তু মনে মনে সেই কর্তৃত্বর জন্যই সে সুরক্ষিত বোধ করে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, একটি দেশ যখন অসুরক্ষিত থাকে তখন সেই দেশের অধিবাসীদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়, কিন্তু দেশটি যখন সুরক্ষিত থাকে তখন দেশের শাসকের সম্পর্কে অভিযোগ থাকলেও দেশবাসী নিশ্চিন্তে শান্তির ঘুম ঘুমোতে পারে। 

সুতরাং, স্ত্রীকে ভালবাসার নামে কোনও পুরুষ যদি সংসারের কর্তৃত্ব ছেড়ে দেয় তা আদতে স্ত্রীর প্রতি অবিচার, ভালবাসা নয়। এটি আদতে স্ত্রীকে অসুরক্ষিত ও সংসারের ভারসাম্য নষ্ট করে।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন
সেই জাতি কখনও সফল হবে না যারা তাদের ইমামতিনেতৃত্ব নারীদের হাতে অর্পণ করেছে।‘ (সহীহ বুখারী/৪৪২৫; ইফা/ আধুনিক/)

সুতরাং, সবসময় এটাই মাথায় রাখা উচিৎ যে সহি মুসলমান উম্মাত গড়ে তুলতে আমাদের সহি পরিবার গড়ে তুলতে হবে, তার জন্য প্রয়োজন সহি কর্তৃত্ব।