পরিবারের সদস্যরা খারাপ আচরণ করলে আপনি তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করবেন?

নারী ২৪ নভে. ২০২০ Contributor

আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, খারাপ আচরণের মানুষ সমাজের সর্বত্রই রয়েছে। এটি নিশ্চিত যে, জীবনের কোনো না কোনো এক পর্যায়ে আপনি কোনো চ্যালেঞ্জিং ব্যক্তির মুখোমুখি হবেন এবং তাদের সাথে মোকাবিলা করার উপায় আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে হতে পারে আপনার পরিবারের সদস্যরাই আপনার সাথে খারাপ আচরণ করছে। এক্ষেত্রে আপনি কি করবেন? আপনিও তাদের মতই খারাপ আচরণ করবেন? নাকি ধৈর্য্য সহকারে কোনোভাবে তাদের আচরণকে পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন? ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কখনই আপনি তাদের সাথে খারাপ আচরণ করতে পারবেন না, যদিও তারা আপনার সাথে খারাপ আচরণ করুক।

কিভাবে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন সে নিয়েই আজকের নিবন্ধের আলোচনা।

পরিবারের সাথে ভাল ব্যবহারের গুরুত্ব

ইসলামে পরিবার আয়না সদৃশ। এই আয়নায় ফুটে ওঠে ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ। ফলে বিরাজ করে শান্তি ও ভালোবাসা। তাই পারিবারিক জীবনে আচরণ কেমন হবে সে সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহর দিকনির্দেশনা জানা না থাকলে কিভাবে পরিবারে শান্তি বিরাজ করবে?

পরিবার গঠনে ইসলামের সর্বপ্রথম দিকনির্দেশনা হচ্ছে, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সঙ্গে ন্যায় ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা। আল্লাহ বলেন, “আর তোমরা তাদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করো।” (৪:১৯)

কথাবার্তা ও কাজকর্ম সুন্দরভাবে সম্পাদন করা, সদা হাসিমুখে পরিবারের আনন্দ-বিনোদনে অংশীদার হওয়া ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করলে পরিবার শান্তির ঠিকানায় পরিণত হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” (তিরমিযী)

কারও কোনো আচরণ অপছন্দ হলে তার পছন্দনীয় কোনো দিকও অবশ্যই থাকবে। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোনো মুমিন পুরুষ যেন মুমিন নারীর প্রতি ক্রোধান্বিত না হয়। তার কোনো আচরণ অপছন্দ হলে অন্য আচরণ দেখে তার প্রতি সন্তুষ্ট হবে।” (সহিহ মুসলিম)

তাই পরিবারের কারও সামান্য মন্দ আচরণেই তার অন্য গুণাবলি মাটিচাপা দেওয়া উচিত নয়।

সুদৃঢ় ঈমান ও সৎ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারের ভিত্তি মজবুত হয় আর সবার মাঝে তৈরি করে ভালোবাসা ও মায়া-মমতা।

তবে পরিবারের কেউ যদি মন্দ আচরণ করে, তখন তার সাথে কিরুপ আচরণ করবেন সে সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

কঠিন স্বভাবের মানুষকে শুধরানোর চেষ্টা করবেন না

তাদের আচরণ যেমন ঠিক তেমনভাবেই তাদেরকে গ্রহণ করুন। এটি শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেই নয় বরং সমস্ত কঠিন স্বাভাবের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। কঠিন স্বভাবের মানুষকে নিজ চেষ্টায় শুধরাতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এর থেকে ভাল সে আপনার সাথে কঠিন আচরণ করলেও আপনি তার প্রতি নম্র আচরণই করুন। বারবার আপনার থেকে নম্র আচরণ পেতে থাকলে, হতে পারে একসময় তার অন্তর আপনার প্রতি বিগলীত হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের বিনম্র আচরণ থেকে আপনি শিক্ষাগ্রহণ করুন। আয়েশা রাযিঃ তাঁর সম্পর্কে বলেন, “নবীজি কখনও তাঁর নিজের জন্য কারও থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নি (বরং, তিনি সবাইকে মাফ করে দিতেন)।”

রাগারাগি করা থেকে বিরত থাকুন

কঠিন স্বভাবের মানুষ সর্বদাই রাগ দেখায়, ঝগড়াটে মনোভাবে কথা বলে, কথা বলার অন্যকে কষ্ট দিয়ে ফেলে। তার এই আচরণে আপনি কষ্ট পেলেও ঝগড়া এড়াতে আপনি তার মন্দ আচরণের উপর সবর করুন এবং তার সাথে নম্র আচরণ করুন, ধীরে কথা বলুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি হকের উপর থেকেও ঝগড়া পরিত্যাগ করে আমি তাঁর জন্য জান্নাতের কিনারায় একটি ঘরের জিম্মাদারী নিচ্ছি।” অন্তত এই মূল্যবান হাদিসটিকে স্মরণ করে হলেও আপনি তার সাথে রাগারাগি ও ঝগড়া করা থেকে বিরত থাকুন।

কঠিন স্বভাবের ব্যক্তিকে নিজের মত প্রকাশের জন্য উৎসাহ দিন

কোনো বাধা / বিরোধ / সমস্যা ছাড়াই তাদেরকে নিজের মতামত সম্পূর্ণরূপে ব্যক্ত করতে দিন। তারা কেন অন্যের দ্বারা সমালোচিত বোধ করে? মানুষ কি তাদের সম্পর্কে ভুল বোঝে? তারা অন্যদের কাছ থেকে কী চায় বা আশা করে? এ প্রশ্নগুলো আপনি নিজেকে করুন আর তার জন্য এর উত্তরগুলি খুজে দেওয়ার চেষ্টা করুন। তাকে যদি স্বাধীনভাবে তার সকল মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়, তার দুর্ব্যবহারের পরও যদি তাকে আপন করে নেওয়া হয়, তবে নিঃসন্দেহে এটি তার স্বভাব পরিবর্তনে সাহায্য করবে।