পরিবারে পড়ার অভ্যেস গড়ে তোলার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয়তা

6books-salamtoday

একজন মুমিন মাত্রই ইলম বা জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বোঝেন। কারণ, জ্ঞানার্জন ছাড়া কেউ যেমন এই দুনিয়াতে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না তেমনি ইলম ছাড়া কেউ তার রবের নৈকট্যও অর্জন করতে পারে না। আর ইলম বা জ্ঞানার্জনের জন্য পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই আজকের নিবন্ধে আমরা পড়ার গুরুত্ব এবং পড়াকে ভালোবাসতে শেখার কিছু পদ্ধতি নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব।

১) লক্ষ্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা

নিজেকে প্রথমেই প্রশ্ন করুন যে, পড়ার ক্ষেত্রে আমার লক্ষ্য কি? কেন আমি পড়ব? লক্ষ্যটাকে স্মরণ রাখুন। যেমন হতে পারে, আমি পড়ব, কারণ আল্লাহ আমাকে পড়ার আদেশ দিয়েছেন। তিনি আমাকে এবং সকল মুসলিমকে স্পষ্ট আদেশের সুরে বলেছেন, ‘পড়ো’। আমি পড়ব, কারণ আমি দুনিয়া ও আখিরাতে জ্ঞানের দ্বারা উপকৃত হতে চাই। আমি পড়ব, কারণ আমি দ্বীনের খেদমত করতে চাই।

২) পড়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা

লক্ষ্য যখন নির্ধারিত হল, তখন এলোমেলোভাবে কিছু পড়ার কোনো সুযোগ আর নেই। তবে গোছালোভাবে পড়তে হলে পড়ার জন্য সুস্পষ্ট একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে নেয়া খুবই জরুরী। সর্বপ্রথম আপনি আপনার সময় এবং সক্ষমতাকে বিবেচনা করুন। এবং গভীর চিন্তা ভাবনার সাথে সে পরিমাণ অনুযায়ী বই নির্ধারণ করুন যা আপনার সময় ও সামর্থ্যে কুলাবে।

৩) পড়ার সময় নির্ধারণ করা

পড়ার জন্য নির্ধারিত সময় বের করতে হবে। এটা খুবই জরুরী। নয়ত সময়ের ভুল ব্যবহারে আপনার শ্রম বৃথা যাবে। আর তাই পড়ার জন্য এমন সময় নির্ধারণ করবেন- যখন আপনার মস্তিষ্ক থাকে সতেজ, সজীব এবং আপনিও থাকেন সুস্থির। সাধারণত ফজরের পর বা আসরের পর মস্তিষ্ক খুব সচল থাকে। কর্মজীবী ব্যস্ত মানুষদের ক্ষেত্রে কাজের ফাঁকের সময়গুলো থেকে সুবিধা অর্জন করতে হবে।

৪) পরিমিত ধীরতা

উপরের নিয়মগুলো পড়ে কেউ হয়ত পড়ার প্রতি ভীষণভাবে উদ্দীপিত হবে। হয়ত একেকদিনে একেকটি বই শেষ হয়ে যাবে। তবে আমি বলি, বন্ধু একটু ধীরে! এ পথ বড় অমসৃণ ও কঠিন, এখানে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে বিচক্ষণতার সাথে। প্রথমে আপনি খুব ধীর স্থিরভাবে পড়ুন। পড়াকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করুন। নয়ত ২দিন বাদেই আপনার এই উদ্দীপনা কেটে যাবে আর বইগুলো টেবিলেই থেকে যাবে।

৫) একাগ্রতা

পড়া কোনো শখের বিষয় নয়। এটা অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের কাজ। মেধা, বুদ্ধি ও চিন্তা এবং সম্পদের পাশাপাশি প্রয়োজন ধৈর্য এবং আন্তরিকতার সাথে নিজেকে এর জন্য উৎসর্গ করা। প্রতিটি শব্দ-বাক্য পূর্ণ মনোযোগের সাথে বোঝা দরকার, যাতে এই পঠন দ্বারা অন্যদেরও উপকার করা যায়। তাই পড়ার সময়টায় খুবই সিরিয়াস হওয়ার চেষ্টা করুন।

৬) নিয়ম ও শৃঙ্খলা

ইলম অর্জনকারীর জন্য আবশ্যিক হল নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা। তার জীবন হবে পরিপাটি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সে হবে নিয়মানুবর্তী। আপনি পড়ার মাঝে যে লিখিত নোট তৈরি করেছেন তা দিয়েই শুরু করুন। প্রত্যহ পড়ার মাঝে যা লিখছেন, সেগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজান। এতে ভবিষ্যতে যে কোনো বিষয়ে কিছু প্রয়োজন হলে খুব দ্রুত তা খুঁজে বের করা আপনার জন্য সহজ হবে। অপরদিকে এলোমেলো নোট দিন শেষে আপনার পড়াকে গুলিয়ে ফেলবে।

৭) পারিবারিক লাইব্রেরি করা

শিক্ষিত জাতি গড়ার জন্য পারিবারিক লাইব্রেরির গুরত্ব অপরিসীম। কারণ, পরিবারই প্রত্যেকটি শিশুর প্রথম স্কুল। আপনি আপনার জীবনের বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে একটি পারিবারিক লাইব্রেরী গড়ার প্রকল্পকে অন্যতম গুরুত্ব দিন। অতঃপর জীবনের লক্ষ্য অনুযায়ী আপনার লাইব্রেরিটি সাজান। আপনার লাইব্রেরী থেকে যত মানুষ ইলমের বিষয়ে উপকৃত হবে তার সওয়াব আপনি পেতে থাকবেন।

৮) পঠিত বিষয় অন্যের কাছে উপস্থাপন করা

এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে আপনার পঠিত বিষয়গুলি আরও ভালোভাবে আপনার মাথায় বসে যাবে। এর পাশাপাশি আপনার শিক্ষা দ্বারা অন্যরাও উপকৃত হবে। অতঃপর আপনার শেখানো বিষয় মানুষ যত ছড়িয়ে দেবে এবং যাদের কাছে পৌঁছাবে প্রত্যেকের শ্রবণ ও পঠনের বিনিময়ে আপনিও সাওয়াব পেতে থাকবেন। অর্থাৎ এটিও একটি সাদাকায়ে জারিয়ার মত।

৯)পড়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা

মনে রাখবেন, একতাবদ্ধ জ্ঞানের দৃঢ়তা অনেক বেশি। তাই পড়ার ক্ষেত্রে অন্যের সমস্যাগুলো আপনি সমাধান করুন। আপনার সমস্যাগুলি অন্যকে সমাধান করতে দিন। এতে জ্ঞানের দৃঢ়তা অনেক বৃদ্ধি পাবে।

১০) শিক্ষক থেকে শেখা

যে কোনো বিষয় পড়ার জন্য বা ভালভাবে বোঝার জন্য একজন যোগ্য শিক্ষক থাকা চাই। যোগ্য শিক্ষকের অভাবে পড়ায় ও জ্ঞানে অনেক ত্রুটি থাকতে পারে; যা আপনাকে ভুল বোঝার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।