SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

পাইলস কমাতে করলার রস

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ১৩ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
পাইলস কমাতে
© Grafvision | Dreamstime.com

পাইলস রোগটির কথা ভাবলেই যেন আমাদের মনে আতঙ্ক গ্রাস করে নেয়। পাইলস বা অর্শের ফলে রক্তপাত, মলত্যাগে সমস্যা, ব্যথা ইত্যাদি হয়ে থাকে। তার উপর পাইলস এমন এক অবাঞ্ছিত অসুখ, যা সবাইকে বলাও যায় না, ফলে লজ্জায় ও ভয়ে কাটাতে হয় দিন। ফলে পাইলস হলে কী করবেন, সেই নিয়ে চিন্তায় থাকেন সকলে। ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি অনেকেই পাইলস থেকে মুক্তি পেতে নানারকম টোটকা ব্যবহার করেন। তবে অনেকেই জানেন না, পাইলস থেকে মুক্তি পেতে করলা অব্যর্থ কাজ দেয়। আজকের লেখায় আমরা পাইলস কমাতে করলায় কীভাবে উপকার পেতে পারেন, সেই নিয়ে আলোচনা করব।

পাইলস কী? মলদ্বারের কাছে অনেকসময় কিছু টিসু ও শিরা, ধমনী নানাকারণে একসঙ্গে জমাট বেঁধে যায়, একেই বলে পাইলস। পাইলস মলদ্বারের ভিতরেও হতে পারে, আবার বাইরেও হতে পারে। মলদ্বারের ভিতর ২-৪ সেমি-র মধ্যে যে পাইলস হয়ই সাধারণত দেখা যায়। এর আকার বিভিন্ন রকমের হয়। পাইলস হলে আপনি মলদ্বারের কাছে শক্ত জমাট বাঁধা মাংসপিণ্ড অনুভব করতে পারবেন। এই পিণ্ডের মধ্যে জমাট বেঁধে থাকে রক্ত। মনে রাখবেন, পাইলস মলদ্বারের কাছে হয় বলে মলত্যাগের সময় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। মলদ্বারের আশপাশ ফুলে থাকে।

পাইলস কেন হয়?

নানাকারণে হতে পারে পাইলস। মলদ্বারের কাছে কোনও কারণে চাপ তৈরি হলে সেখানকার রক্তবাহগুলি ফুলে যাওয়ার ফলে পাইলস হয়। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্যের ধাত থাকলে পাইলসের সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া ক্রনিক ডায়েরিয়া, দীর্ঘদিন ধরে ভারি ওজন তোলা, গর্ভাবস্থার ফলেও পাইলস হতে পারে। বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ওষুধ ছাড়াও বাড়িতে কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে আপনি পাইলস কমাতে পারেন, যার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে করলার নাম।

জেনে নিন পাইলস কমাতে করলা কীভাবে কাজে দেয়

করলাকে অতি প্রাচীনকাল থেকেই এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলিতে রোগের চিকিৎসায় ওষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন তুরষ্কে পেটের রোগের চিকিৎসায় করলার ব্যবহার ছিল জনপ্রিয়। ভারতীয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসাতেও করলাকে ডায়াবেটিস, পেটের সমস্যা, সর্দিকাশি, আলসার ইত্যাদির ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর প্রথা ছিল। করলার প্রচুর গুণের জন্য একে বর্তমানে পাইলস কমাতে আমরা একে খেয়ে থাকি। করলায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যার জন্য একে আপনি পাইলসের যন্ত্রণা কমানোর কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

করলার গাছের শিকড় বেটে পেস্ট তৈরি করে যদি পায়ুদ্বারের কাছে লাগিয়ে রেখে দেন, তাহলে জ্বালাযন্ত্রণা, প্রদাহর সহজেই উপশম ঘটবে। রক্তপড়া বন্ধ করতেও এই পেস্ট উপকারী। এছাড়া রোজ নিয়ম করে করলার রস খান। পাইলসের যন্ত্রণা থেকে চটজলদি মুক্তি দিতে এর জুড়ি নেই। তবে শুধু করলাই নয়, পাইলস কমাতে করলার পাতা যদি ছাচের সঙ্গে মিশিয়ে খান, তাহলে তা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। করলার পাতা গ্রামের দিকে সহজেই পাওয়া যায়। ফলে যাদের পক্ষে সম্ভব, তাঁরা পারলে করলা পাতার রস খান।

বাগানে করলার গাছ পোঁতাও খুব একটা দুরূহ ব্যাপার না। পাতা না পেলে আপনি অনায়াসে বাড়িতে গাছ লাগিয়ে নিতে পারেন। পাইলসজনিত ব্যথা কমানোর পাশাপাশি এটি পাইলসের ফোলাভাবও দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। আর মনে রাখবেন, কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলসের অন্যতম বড় কারণ। করলার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট হজম ক্ষমতা বাড়ায়, পেটকে পরিষ্কার করে ও মল নরম করে মল নিঃসরণে সাহায্য করে, তাই পাইলস না থাকলেও কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে করলা খেতে ভুলবেন না।

করলার রস কীভাবে খাবেন?

করলার রসের কথা শুনে আপনারা অনেকেই নাক সিটকোচ্ছেন। করলা ভাতের সঙ্গে সিদ্ধ বা ভাজা খেতেই বেশিরভাগ মানুষ অভ্যস্ত। কিন্তু ভাজলে বা সিদ্ধ করলে সবজির অনেক গুণই নষ্ট হয়ে যায়। তার উপর ভাজা বা সিদ্ধর চেয়ে করলা বা করলা পাতার রসেই পাইলস থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়। তাই প্রথম-প্রথম করলার রস খেতে আপনার অস্বস্তি লাগলে বা বমি পেলেও সেটি নিয়ম করে খাওয়া অভ্যেস করুন। মনে রাখবেন, এটিও একধরনের ওষুধ।

উপকরণ

করলার পাতা ৩টে মতো, দুধের ছাচ ১ গ্লাস, সৈন্ধব লবণ স্বাদমতো, অল্প আদা।

কীভাবে বানাবেন?

করলার পাতা ভাল করে পেস্ট করে নিন। এরপর এই পেস্টটি ছাচের সঙ্গে মিশিয়ে ওতে স্বাদমতো সৈন্ধব লবণ, আদা দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে সেটি খেয়ে নিতে পারেন। রোজ সকালে উঠে খালি পেটে এটি খান যতদিন না পর্যন্ত পাইলস থেকে মুক্তি পাচ্ছেন।

পাইলস কমাতে এড়িয়ে চলুন

পাইলস হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। করলার পাশাপাশি বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার খান। এটি আপনার ব্যথা, ফোলা কমাতে কাজে দেবে। খাদ্যতালিকায় ফল, সবজি বেশি করে রাখুন। সাদা ভাতের বদলে সম্ভব হলে ব্রাউন রাইস, ওটস, ডালজাতীয় খাবার খান। আর বেশি করে জল খান। ভাজাভুজি, খুব বেশি মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। পাইলস হলে বেগুন না খাওয়াই ভাল। আর মনে রাখবেন, ভারি ওজন তুললে বা দীর্ঘসময় ধরে একই রকমভাবে বসে থাকলে পাইলসের ব্যথা, রক্তপাত বেড়ে যেতে পারে। ফলে এগুলি মেনে চললে আর নিয়ম করে করলা খাদ্যতালিকায় রাখলেই চটজলদি পাইলসের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।