মতামত ২৮-আগস্ট-২০২০

পাশ্চাত্য সমাজে সংস্কৃতি এবং ইসলাম

Zeeshan R

পশ্চিমা জগতে ইসলাম এবং মুসলমানদের অবস্থা ইসলামী ভূখণ্ডের চেয়ে অনেক আলাদা।

ইসলামী ভূখণ্ড বলতে বোঝায় যেখানে মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এইরকম ভূখণ্ডে মুসলমানদের জীবনযাপন আর পশ্চিমা জগতে তাদের জীবনযাপন একেবারেই ভিন্ন। এ কারণেই এইসব দেশে ইসলামের উপস্থিতি অনেক চড়াই উতরাইয়ের সম্মুখিন। মনে রাখতে হবে পশ্চিমা জগতে ইসলাম বিস্তারের অন্যতম কারণ হচ্ছে সেসব দেশে মুসলমানদের বেশি বেশি হিজরত বা অভিবাসন।

পশ্চিমে ইসলামী জাগরণ

ইউরোপ, আমেরিকায় ইসলাম বিস্তারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ঐশী এই দ্বীনটির সামাজিক এবং রাজনৈতিক আদর্শের কাছে পশ্চিমা আদর্শের ব্যর্থতা। মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং এবং ইউরোপের বামপন্থীদের আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে যাবার মধ্য দিয়ে সেসব দেশের জনগণ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে শুরু করে। ইউরোপের বহু নামকরা ব্যক্তিত্বও ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তখন। এরকম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তিত্বের মধ্যে প্রফেসর রুজে গারুদির নাম উল্লেখ করা যায়। বলা বাহুল্য রুজে গারুদি নিজেই ইউরোপে ইসলামের প্রচারকারীতে পরিণত হয়েছিলেন।

পাশ্চাত্যে ইসলামী জাগরণের পেছনে আরো যে বিষয়টি কাজ করেছিল, তাহলো, পশ্চিমা সমাজে আধ্যাত্মিকতার চর্চা একেবারেই ছিল না। সে কারণে দ্রুত ইসলামের বিস্তার ঘটে। কেননা বিশ্ববরেণ্য চিন্তাবিদ যারা ছিলেন তারা ইসলাম নিয়ে চর্চা করতে গিয়ে এর আধ্যাত্মিকতায় মুগ্ধ হয়ে যান এবং ইসলাম গ্রহণ করে নিজের জীবনকে ধন্য করেন। ইসলামী বিশ্ব সম্পর্কে রচিত গুরুত্বপূর্ণ, জ্ঞানগর্ভ এবং গবেষণালব্ধ অনেক বই পুস্তক ও সৃষ্টিশীলতায় মুগ্ধ হয়ে আরো অনেকেই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন।

বিদ্বেষের বীজ বপনের বিফল প্রচেষ্টা

এছাড়াও পশ্চিমা জগতে ইসলাম বিদ্বেষের ঘটনাও মহান এই ধর্ম বিস্তারের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছে। ইসলাম বিদ্বেষের কারণে সবাই এই ধর্ম নিয়ে পড়ালেখা করতে শুরু করে। আর পড়ালেখা করতে গিয়ে সবাই ইসলামের সুমহান আদর্শের সাথে পরিচিতি লাভ করে। যার ফলে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন তাঁরা। ইউরোপের স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিগুলোতে ছাত্রীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসবের ফলে দেখা গেছে পশ্চিমা চিন্তাবিদদের আশায় গুড়েবালি হয়েছে। পাশ্চাত্যে মুসলমানদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক জীবনে এই সময়টা একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকবে ইতিহাসে।

এ কাজগুলো করা হয়েছিল পশ্চিমা যুবকরা যেন ইসলাম থেকে দূরে থাক, কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টোটা। যুবকরাই বরং আরো বেশি করে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। ইসলামী বিভিন্ন দলের প্রতি তারা ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। একইভাবে মুসলমানদের মাঝে বিভক্তি বা বিভেদ সৃষ্টির  লক্ষ্যে পশ্চিমারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল সেইসব পদক্ষেপও এরকম ইসলামী জাগরণের ক্ষেত্রে যে কোনো ভূমিকা রাখে নি-তা হলফ করে বলা যাবে না। অবশ্য মুসলমানরাও এইসব সমস্যা সমাধান করার লক্ষ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আদর্শিক বহু গ্রুপের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তাঁরা ইসলামের মূল স্বরূপ রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

বিশেষ উল্লেখ ব্রিটেনের

পাশ্চাত্যের যেসব দেশে  ইসলামের বিস্তার বা জাগরণ চোখে পড়ার মতো ঘটেছিল সেসব দেশের মধ্যে ব্রিটেন অন্যতম। ব্রিটিশ মুসলিম সমাজে বিশ লাখেরও বেশি জনগোষ্ঠি থাকার কারণে সেদেশে মুসলমানদের ভালোই গুরুত্ব রয়েছে। আঠারো এবং উনিশ শতকে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। সে সময়েই মুসলমানরা ব্রিটেনে যেতে শুরু করে। সর্বপ্রথম যে মুসলিম দেশ থেকে মুসলমানরা ব্রিটেনে গিয়েছিল সে দেশটি হলো ইয়েমেন। সে সময় ইয়েমেনিরা ব্রিটিশদের বাণিজ্য জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ করতো। সেই সুবাদেই তারা ব্রিটেনে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছিল। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে তারা ব্রিটেনে সর্বপ্রথম মসজিদ তৈরি করেছিল। তবে ব্রিটেনের মুসলমানদের বেশিরভাগই এসেছিল ভারত উপমহাদেশ থেকে। এ কারণে ব্রিটেনের ইসলামের রঙ এবং স্বরূপ অনেকটাই ভারতীয়।

এ কারণেই ব্রিটেনের বেশিরভাগ মুসলমানই আহলে সুন্নাত এবং হানাফি ফিকাহর অনুসারী। ব্রিটেনে মসজিদ ছাড়াও আরো বহু ইসলামী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। যেমন বিভিন্ন ইসলামী সংস্থা বা ফাউন্ডেশন, স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইসলামী কলেজ, ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি। এগুলো প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে ব্যাপকভাবে সক্রিয় ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে লিস্টার সিটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনেক বই পুস্তক ছাপানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শিশু কিশোরদের পাশাপাশি সমগ্র ব্রিটেনে ইসলামের দাওয়াতি কাজের জন্যে এসব বই পুস্তক ব্যাপকভাবে কাজে লেগেছিল। এই প্রতিষ্ঠানটি ব্রিটেন জুড়ে নামাজের জামাত এবং কুরআনের ক্লাসের আয়োজন করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। এভাবে ইসলামের দাওয়াতি কাজেও তারা চেষ্টা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

এভাবেই ধীরে ধীরে গোটা পাশ্চাত্য সমাজে ইসলামের প্রতি আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় এবং গোটা সমাজ জুড়ে ইসলাম ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাসঙ্গিক নিবন্ধসমূহ
মতামত
মতামত ২৩-জুলাই-২০২০
Zeeshan R

কুরআন শরীফকে যদি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, তাহলে তা ছোটদের বোঝাতে অনেক বেশি সুবিধা হবে বলেই মনে হয়। ছোটবেলা থেকে ধর্ম সম্পর্কে সঠিক এবং সুশিক্ষা তাদের বড় হয়ে সাচ্চা মুসলিম হতে সাহায্য করবে

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ১৭-জুন-২০২০
Muhammad Nassar
Zeeshan R

আশ্রয় প্রার্থনায় শরণার্থী হওয়া বা আরও সমৃদ্ধ ভূমির সন্ধানে অভিবাসী হওয়ার পরিবর্তে, অভিবাসনের সন্ধানকারী মুসলমানদেরকে সমগ্র ইউরোপে অস্বীকার করার জন্য বলা হয়েছে

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ১৭-জানু.-২০২০
صورة ملف شخصي
Zeeshan R

সুচিন্তিত বিবেচনার মাধ্যমে ভিন্ন চিন্তাধারাকে সহনীয় পর্যায়ে স্থান দেয়ার নাম পরমতসহিষ্ণুতা। রাষ্ট্রের সব শ্রেণী, পেশা, দলমত ও সব ধর্মের অনুসারীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রদর্শনও এর অন্তর্ভুক্ত। এটি গণতন্ত্রের অন্যতম নিয়ামকও। কোনো সমাজে ভিন্নমতের অনুশীলন ও চর্চা না হলে সে সমাজকে সভ্য ও গণতান্ত্রিক বলার সুযোগ থাকে না। যে সমাজে ভিন্নমতের কদর নেই, সেখানে গণতন্ত্রও নেই। দার্শনিক ভলতেয়ায়ের ভাষায়, ‘আমি তোমার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু তোমার মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য আমি জীবন দিতেও কুণ্ঠিত নই।’ মূলত এটিই গণতন্ত্র ও সভ্যতার মানদণ্ড।

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ১৭-জানু.-২০২০
Zeeshan R

অধ্যাপক লুডউইগ গুমপ্লায়িজ বলেন, ‘ইবনে খালদুন কোন পরিবারের উত্থান-পতন সম্পর্কে `তিন বংশ স্তরের` যে ধারণা দেন তা এখন অটোকার লরেঞ্জের কৃতিত্বের ভান্ডারে। অথচ লরেঞ্জের অনেক আগেই আরব দার্শনিক এই তত্ত্ব প্রচার করেছিলেন। বিস্ময়কর ব্যাপার ইবনে খালদুন সমর বিজ্ঞানের যেসব রীতি পদ্ধতি আলোচনা করেছিলেন ইউরোপীয়দের উত্থানের পুরো যুগে তাদের সেনাপতিরা সেসব রণকৌশল প্রয়োগ করেছেন। এছাড়া ম্যাকিয়াভেলি শাসকদের যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন শতবর্ষ আগে ইবনে খালদুনও তা-ই লিপিবদ্ধ করে গিয়েছিলেন। অথচ তা কেউ জানত না।

চলবে চলবে