‘পাহাড়কে আমি জমিনের জন্য পেরেক হিসেবে সৃষ্টি করেছি’ 

dave-pZwqgQrTymg-unsplash
Fotoğraf: Dave

প্রাকৃতিক পরিবেশ আল্লাহতালার অপরূপ সৃষ্টি। মহান আল্লাহতালা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য গাছপালা, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত সহ অসংখ্য জিনিস সৃষ্টি করেছেন। ইসলামের শরীয়তে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলাম এমন কোন কাজ সমর্থন করেনা যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। মহান রাব্বুল আলামিন আসমান জমিনের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পৃথিবীতে পাহাড়-পর্বত বানিয়েছে। পবিত্র কুরআন শরীফেও এ বিষয়টি মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন।

বিজ্ঞানীদের মধ্যে ডা. ফ্রাংক প্রেস সর্বপ্রথম বলেছিলেন, পর্বতের অত্যন্ত গভীর শিকড় আছে পৃথিবীর অভ্যন্তরে। সত্যিকার অর্থে পর্বত একটি ভাসমান বরফ বা খুঁটির মতো।

বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে, পৃথিবী অস্বাভাবিক উত্তপ্ত ছিল পাহাড় সৃষ্টির আগে।

ধাপে ধাপে তাপ বিকিরণের কারণে পৃথিবীর ঠান্ডা হয় সাথে সংকুচিত। ভূপৃষ্ঠের ভেতরে থাকা অতিরিক্ত চাপের কারণে তার কিছু কিছু অংশ উপরের দিকে ভাঁজ হয়ে ফুলে ওঠে। এই প্রক্রিয়ার পর্বত বা পাহাড় সৃষ্টি হয়।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে বড় প্লেট গুলো যখন পৃথিবীর উপর স্তরে চলে আসে তখন তা পৃথিবীর উপর শক্ত স্তর সৃষ্টি করে। আর এই স্তর গুলোর নড়াচড়া , সংঘর্ষের ফলে উৎপত্তি ঘটে পর্বতমালা। যখন দুটি প্লেট পরস্পর ধাক্কা খায় তখন শক্তিশালী প্লেট অন্য প্লেটের নিচে গড়িয়ে চলে যায় এবং অন্য প্ল্রটটিকে বেঁকে গিয়ে পর্বত উঁচু উঁচু জায়গা জন্ম দেয়। যে স্তরটি জমির নিচে চলে যায় তা আরও অগ্রসর হয়ে ভেতরের দিকে এক গভীর প্রসারণের জন্ম দেয়। সুতরাং আমরা বুঝতে পারছি পাহাড় পর্বত এর দুটি অংশ রয়েছে। একটি উপরের অংশ, যা সবার কাছে দৃশ্যমান। ঠিক তেমনি নিচের দিকে গভীরে এর সমপরিমাণ বিস্তৃত রয়েছে। যা আমাদের কাছে অদৃশ্যমান।

এবার আমারা চিন্তা করতে পারি পাহাড় যদি সৃষ্টি না হতো বা যদি পাহাড় না থাকতো তাহলে কি হতো?

পাহাড় সৃষ্টি না হলে একটি সম্পূর্ণ প্লেট এর এক প্রান্ত থাকতো আসমানের দিকে, আর অন্য প্রান্ত গুলো থাকতো ভূগর্ভের ভেতরে। অর্থাৎ তীর্যকভাবে, হেলে পড়া slope হিসেবে থাকতো। এর ফলে জমিনের উপরে মানুষের বসবাস করতে অসুবিধা হতো। আবার এমনও হতে পারতো যে, প্লেট গুলোর মধ্যে ক্রমান্বয়ে সংঘর্ষ হতে থাকত, কোন প্রকার ভারসাম্য থাকতো না। সুতরাং আমরা দেখতে পাই পাহাড় সৃষ্টির মাধ্যমে প্লেট গুলোর মধ্যে ভারসাম্য ও জমিনের উপরে মানুষের বসবাসের অধিকতর সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এমন কোন পাহাড়ের নেই যার শিকড় ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে নেই। বরং আমরা দেখতে পাই যে কোথাও কোথাও পাহাড়ের দৃশ্যমান অংশের দৈর্ঘ্যের দিক থেকে প্রায় সাড়ে চার গুণ লম্বা অংশ মাটির অভ্যন্তরে রয়েছে। সাধারণ ভাবে আমরা যদি চিন্তা করি যে, পেরেক এর কাজ কি? এর কাজ হচ্ছে দুটি সারফেস এর মধ্যে এডজাস্টমেন্ট, সমন্বয় অথবা সাম্য অবস্থা তৈরি করা। একটির সাথে আরেকটির সংযোগ তৈরি করা। পাহাড়ের প্লেট গুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় অথবা সংযোগ তৈরি করে।

পাহাড় গঠন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে মহাদেশ গুলোর যে অংশটা মোটা বা পুরু, সেখানে সারি সারি পাহাড় রয়েছে, এবং ঐ স্থানের ভূপৃষ্ঠের শক্ত স্তর বা ক্রাস্ট ম্যান্টলের ভেতরে গভীরে ঢুকে যায়।

আসলে আধুনিক বিজ্ঞান এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা, মতামত দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। এর হাজার বছর আগেই কোরআন এই বিষয়ে আমাদেরকে জ্ঞান দান করেছে। কোরআনের একটি আয়াতে পাহাড় কে সরাসরি পেরেক এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ‘আমি কি জমিনকে করিনি বিছানাসদৃশ ও পাহাড়গুলোকে পেরেকস্বরূপ?’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ৬-৭)।

সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পাহাড়ের ভূমিকা অপরিসীম। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা সহ পাহাড় ধ্বংস হয় এমন সকল কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখতে হবে। কারণ পাহাড়ের সাথে পরিবেশের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।