SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

পুয়ের্তো রিকো: ক্যারিবিয়ান এলাকায় ইসলামের প্রবেশ

বিশ্ব ২০ জানু. ২০২১
ফোকাস
পুয়ের্তো রিকো
Puerto Rico coast by old San Juan © Thomas Lozinski | Dreamstime.com

১৯৫৮ সাল থেকে পুয়ের্তো রিকো দ্বীপটি প্যালেস্তিনীয় সম্প্রদায় বসবাস করতে শুরু করে। সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া রাজনৈতিক গন্ডগোল এবং ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে বহু প্যালেস্তিনীয় মানুষ  এই ক্যারিবিয়ান দ্বীপে চলে আসেন। এখন পাকিস্তান ও মিশরের মোট বহু ইসলামিক দেশ থেকে জনগণ এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছেন। তবে এই দেশে ইসলামের উত্থান সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে কয়েকশো বছর।

১৪৯৩ সালে স্পেনীয়রা এই দেশটি দখল করেছিল এবং সেই সময় আফ্রিকার ও আরব থেকে ক্রীতদাসদের এই উপনিবেশে কাজ করানোর জন্য নিয়ে আসা হত। এই আফ্রিকান এবং আরব ক্রীতদাসদের কোকো, কফি এবং চিনি শিল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করানোর পাশাপাশি তাদের গৃহকর্মী হিসেবেও ব্যবহার করা হত। পরে, স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের পরে, ১৮৯৮ সালের ২৫ জুলাই, জেনারেল নেলসন এ মাইলসের নেতৃত্বে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পুয়ের্তো রিকো আক্রমণ করেছিল এবং তার দখল নিয়েছিল। এই সময়ে মুসলিম দাস এবং মেস্তিজোদের (ইউরোপীয় এবং আমেরিন্ডিয়ান পটভূমি থেকে আসা মিশ্র সংস্কৃতির ব্যক্তি) নির্দিষ্ট কিছু স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছিল। এই কারণে প্রথম থেকেই এই দ্বীপে মুসলমানদের বসতি তৈরি হয়েছিল। কিছু স্বাধীনতা পাওয়ার ফলে এরা ক্রীতদাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিল, এবং এই মুসলমান ভাইয়েরা এখানে সম্মানের সাথে জীবনযাপন করতে শুরু করেছিলেন।

সর্বশেষ পুয়ের্তোরিকান মুসলিম আদমসুমারি হয়েছিল ২০০৭ সালে, যেখানে দেখা গিয়েছিল, দ্বীপটিতে মোট ৫,০০০ মুসলমান বসবাস করেন। যা বাস্তবে, এই দ্বীপের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।

পুয়ের্তো রিকো-তে মাসজিদসমূহ

বর্তমানে পুয়ের্তো রিকোতে নয়টি মসজিদ রয়েছে। এদের মধ্যে মসজিদ মন্টেইয়েদ্রা এবং মসজিদ ভেগা অল্টা সবথেকে বেশি সক্রিয়। ১৯৮১ সালে পুয়ের্তো রিকোর রিও পিয়েদ্রাস শহরে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ২০০ জন পুরুষ এবং ৪০ জন মহিলার একসাথে নামাজ পড়তে পারতেন। এই মসজিদটির অবস্থান ছিল পুয়ের্তো রিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে, যা ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় মসজিদটি ১৯৯২ সালের খুব বেশি আগে নির্মাণ করা হয়নি। আধুনিকতমটি হল বর্তমানে পুরো দ্বীপের বৃহত্তম মসজিদ এবং এখানে একজন ইমাম-সহ সর্বাধিক ১,২০০ জন পুরুষ এবং ১২০ জন মহিলাকে ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে। এই

দ্বীপের দীর্ঘতম হাইওয়ে থেকে এই মসজিদ ভবনের সৌন্দর্য দেখা যায়। বাইরে থেকে এই মসজিদটি দেখলে কোনও প্রাসাদ বলে ভ্রম হতে পারে।

বেশিরভাগ মসজিদেই পূর্ণ সময়ের জন্য ইমাম রয়েছেন। উত্তর পূর্ব উপকূল যা পর্যটনের জন্য বিখ্যাত, সেই এলাকায় ফাজার্দো শহরে ১৯৯৯ সালে নীল গম্বুজ বিশিষ্ট একটি সোনার মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। এখানে ৫০ জন পুরুষ এবং ১৫ জন মহিলা ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে এবং এই মসজিদ শুধুমাত্র রমজানের সময় পরিচালিত হয়। এই দ্বীপের পোনস এলাকায় পরবর্তী মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে, যেখানে মূলত জুম্মার নামাজের জন্য একসাথে ২০০ জন পুরুষ এবং ৩০ জন মহিলা ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে। এখানে ষষ্ঠ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল ২০০২ সালে, আগুয়াডিলাতে, এখানে সর্বাধিক ৫০ জনকে ধারণ করার মতো জায়গা রয়েছে।

ইসলামী শিক্ষার প্রসার

দ্বীপের অষ্টম ও সর্বাধিক সক্রিয় মসজিদটি ২০০৭ সালে মন্টেইদ্রায় নির্মাণ করা হয়েছিল। এই মসজিদের ৪০০ জন পুরুষ এবং ৫০ জন মহিলা ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে আল-নূর নামের একটি বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে শিশুদের সপ্তাহান্তে ইসলাম এবং আরবী শেখানো হয় এবং রমজানের মাসে প্রতিদিন ইফতারের মতো বহু সংহতিমূলক কাজকর্ম পরিচালনা করা হয়। এই মসজিদটি বর্তমানে পুয়ের্তো রিকোর বৃহত্তম ধর্মান্তরিত জনসংখ্যার অধিকারী। এই মুহুর্তে, এখানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী মহিলাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং তাঁরা এখানে সপ্তাহান্তের ক্লাসের যোগদান করার মাধ্যমে ইসলাম এবং আরবীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

নবম মসজিদটি ২০১১ সালে সান জুয়ানর পূর্ব শহরতলী লোইজাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই এলাকাও পর্যটন এবং ভ্রমণের জন্য বিখ্যাত। এই মসজিদটি আকারে অন্যগুলির তুলনায় ছোট, এর ধারণক্ষমতা মাত্র ২০ জন। বাকি মসজিদগুলির মতো এই মসজিদটি বেশি খ্যাতি লাভ করেনি।

ইসলামোফোবিয়া ও পুয়ের্তো রিকো

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ হয় এই সামগ্রিক অঞ্চলে ইসলাম খুব একটা পরিচিত নয়। ১৯৫০ দশক থেকে এখানে জাগরণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা এখনও পুরোদমে চলছে। যদিও পুয়ের্তো রিকো বর্তমানে প্যালেস্তাইনী, পাকিস্তানি এবং মিশরীয় সম্প্রদায়ভুক্ত বহু মুসমানের বাসস্থান, কিন্তু বর্তমানে একটি নতুন লাতিন ক্যারিবীয় সম্প্রদায় এখানে দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তারাই বর্তমানে সমস্ত আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে, ইতিমধ্যে বহু লাতিনো ইসলাম কবুল করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে স্থানীয়রা ধীরে ধীরে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারছেন, এর ফলে ইসলাম সম্পর্কে জনগণের মধ্যে শিক্ষাও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সৃষ্টি করেছে নবজগরণের। এর মাধ্যমে মিডিয়া এবং শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে ইসলামোফোবিয়া ছড়িয়ে পড়ছে, তা এখানে ঠেকানো গিয়েছে।