পূজার শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারতে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এটি বাণিজ্যিক বা রফতানি নয়, দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা হিসেবে এই ইলিশ পাঠানো হচ্ছে। 

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইলিশ পাঠানোর এ অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন জানান, দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানো হচ্ছে। তবে এটি রফতানির কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের কলকাতায় ইলিশ নিয়ে যাবেন, পরে সেখানকার বাজারে তা বিক্রি করবেন। মূলত কলকাতার বাজারেই এই ইলিশ বিক্রি হবে। এটা শুধু দুর্গাপূজা উপলক্ষে একবারই পাঠানো হবে।

৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ তো অনেক, দেশের বাজারে দাম বেড়ে যাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘কিছু করার নেই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তাদের দিয়েই খেতে হবে। এতে বাজারে দাম বাড়বে না। ইলিশের ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। আর ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বেশি না। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১ অগাস্ট থেকে ইলিশসহ সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা ‍প্রত্যাহার করা হয়।

বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোয় বাকি ইলিশ ধরা পড়ে। বাংলাদেশের জাতীয় এই মাছ ভারতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যায় পদ্মা ও মেঘনার ইলিশের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য বিধানসভায় আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘বাঙালি মাছে-ভাতে থাকতে ভালোবাসে। কিন্তু বাংলাদেশকে আমরা তিস্তার জল দিতে পারিনি। তাই ওরা আমাদের ইলিশ মাছ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।’

উল্লেখ্য, এর আগেও শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতে ইলিশ পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ রয়েছে। এইবছর বাংলাদেশে ৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সরকারিভাবে ইলিশ রফতানি বন্ধ হলেও চোরাচালান হয়ে এখনো পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ যাচ্ছে। যেমন ভারত সরকার গরু রফতানি বন্ধ করলেও চোরাই পথে বাংলাদেশে আসছে।

Source: The Daily Bangladesh 

Photo: Collected