পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট মসজিদ বাংলাদেশেই!

জানলে অবাক হবেন, পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট মসজিদটি বাংলাদেশে?

বগুড়ার প্রাচীনতম জনপদ সান্তাহার। এখানে একটি গ্রামের নাম তারাপুর। এই গ্রাম একসময় রানী ভবনীর শাসনাধীন ছিলো। ধারণা করা হয় তার সময়ে এই মসজিদ নির্মান করা হয়েছে। সে হিসেবে মসজিদের বয়স কমপক্ষে তিনশ বছর। পৃথিবীর অন্যকোনো দেশে তিনজনের নামায পড়া যায় এরকম ছোট মসজিদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়নি। সে হিসেবে ধারণা করা হয় এটাই বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মসজিদ।

বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে মসজিদটি। এখানে আর নামাজ পড়ে না কেউ। শুধুমাত্র কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে এই মসজিদ। ধারণা করা হয় মুসলমানের সংখ্যা কম ছিলো বিধায় এই ছোট মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদ নির্মাণ নিয়ে কয়েকটি মত প্রচলিত আছে।

১৮০০ খৃঃ শেষ ভাগে ভারত উপমহাদেশে যে সামাণ্য কয়েকটি শহর দ্রুত আধুনিক হয়ে ওঠে সান্তাহার তার মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে এটা সান্তাহার নামে পরিচিত হলেও এর পূর্ব নাম সুলতানপুর। মূলত তখন এটি রাজশাহী জেলার অন্তর্গত ছিলো।

সান্তাহার থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে  তারাপুর গ্রাম। গ্রামের আঁকাবাঁকা রাস্তা , ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা শান্ত এক জনপদ যেখানে মাটির সারিসারি এক তলা, দুই তলা বাড়ী পেরিয়ে হেঁটে যেতে হবে।

সুনসান জায়গা। দেড়শ’ বছরের অধিক সময় ধরে এই মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ হয়ে আছে। লম্বায় এই মসজিদের উচ্চতা ১৫ ফুট আর প্রস্থ৮ ফুট, দৈর্ঘ্য ৮ ফুট,, এটা বাইরের দিকে। ভেতরে আরো কম। মসজিদের দরজার উচ্চতা ৪ ফুট আর চওড়া দেড় ফুট। একটি মানুষ অনায়াসে সেখানে ঢুকতে বা বের হতেপারবে। একটি গম্বুজ মসজিদ। জানালা নেই। দরজার উচ্চতা ৪ ফুট, চওড়ায় দেড় ফুট। একসঙ্গে একজন মানুষই ঢুকতে পারবে। ইটের তৈরি দেয়ালের পুরুত্ব দেড় ফুট। ইটগুলোর প্রতিটি অর্ধেকই ভাঙা। মসজিদের দরজায় দুটি রাজকীয় আদলের খিলান আছে। মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন সংবলিত মিনার, খিলান ও মেহরাবই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি ঢুকে মসজিদটির ভিতরে। দুটি রাজকীয় নির্দেশনার নির্মিত খিলান চোখে পড়ে মসজিদের দরজায়। এর মেহরাব থাকলেও সেটিও ঐতিহ্য হারাচ্ছে। যত্নের অভাবে মসজিদটির ওপরে ও চারপাশে গাছপালায় ভরে গেছে। এ কারণেও ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে মসজিদটি। গাছপালার ভিতরে পোকা-মাকড় থাকতে দেখা যায়।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে সান্তাহার যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ট্রেনে যাওয়া। সান্তাহার রেলওয়ে জংশন একটি পরিচিত জায়গা। ট্রেনে ৪০০-৫০০ টাকার মতো।  যেহেতু সান্তাহার উপজেলাটি নওগাঁ জেলা সংলগ্ন। তাই উত্তরবঙ্গের বা নওগাঁর বাসে গিয়ে সান্তাহার নেমে গেলে হবে। বাস ভাড়া ৪৫০ টাকা। সময় লাগে ৬ ঘন্টা। এসি গাড়ির ভাড়া ৯০০ থেকে ১১০০। সান্তাহার থেকে তিন কিলোমিটার যদি ভ্যান ভাড়া করে যান খরচ পড়বে ৩০ টাকা। সময় লাগবে ১৫ মিনিট।

থাকার জন্য: সান্তাহারে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো রয়েছে। টিএনও এর সাথে যোগাযোগ করে গেলে সেখানে থাকতে পারবেন। আর থাকতে পারবেন নওগাঁ শহরে।

Source: The Daily Bangladesh

Photo: Collected