শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

পেঁপে কেন খাবেন?

করোনা ভাইরাসের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়া বিশ্ব অন্যান্য মারনব্যাধিগুলির থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু বর্ষাকাল যে ডেঙ্গুর সময় তা অনেকেই ভুলে গেছেন। প্রতিবছরই ডেঙ্গু ভারতীয় উপমহাদেশের বহু মানুষের প্রান কেড়ে নেয়। জমা জল, নালা নর্দমার জল নিকাশি ব্যাবস্থা ঠিকঠাক না থাকা ও অন্যান্য কারনে ডেঙ্গু মশারা ডিম পাড়ে। শিশু থেকে বয়স্ক কাউকে বাদ দেয়না, ডেঙ্গু জ্বর সবাইকেই কাহিল করে দিতে সক্ষম হয়। আর জ্বরের মুখে ঝাল টক কি মিষ্টি যেকোনো খাবারই মুখে সয় না। কিন্তু রোচে না বললেই তো চলবে না, ক্রমাগত জ্বরের ফলে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই পুষ্টিকর উপাদান খাওয়াটা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত জরুরী। ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াটা জরুরি, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে খুব কষ্ট পায় শিশুরা কারণ  শিশুদের জ্বর হলে তারা খাওয়া একেবারেই ছেড়ে দেয়। তার ফলে থেকে পানির ঘাটতি শরীরে দেখা যায়। শুধু কি তাই! তার সঙ্গে বাড়ে নানান শারীরিক জটিলতা।

পেঁপে পাতায় রয়েছে  ফেনলিক যৌগ, পেপেইন, অলকালয়েড এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান , যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরের কাঠামোকে শক্তপোক্ত করে তোলে। শুধু ফেনলিকই না, পেপেইন এবং অন্য যৌগের সংমিশ্রণ শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনগুলোকে খুব সহজেই হজম করতে সক্ষম করে। ফলে পরিপাক তন্ত্রকে কম ঝঞ্ঝাট পোহাতে হয়, আর যেকোনো হজম বা বদহজম সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা দূর করে।

স্বাস্থ্যকর ফলের দীর্ঘ তালিকার মধ্যে একটা হল পেঁপে। পেঁপে দামে খুব সস্তা তাছাড়া এটা সব জায়গায় খুঁজলেই পাওয়া যায়। সবজি হোক বা ফল, যেকোনো ভাবেই খাওয়া যায়। আবার কাঁচা-পাকা দুরকম অবস্থাতেই খাওয়া যেতে পারে। পেঁপে নানান পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় রোগ নিরাময়ে পেঁপের জুড়ি মেলাও ভার।  অনেকগুলো নিরাময় বৈশিষ্ট্য তো আছেই, এছাড়া পেঁপের পাতাও শরীরে পক্ষে খুব উপকার। পেঁপেতে রয়েছে অ্যান্টি -ম্যালেরিয়াল বৈশিষ্ট্য, যা ডেঙ্গুজ্বরের সাথে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধেও কার্যকারী ভূমিকা রাখে। তাই বলা যেতে পারে শুধু ডেঙ্গুই না ম্যালেরিয়াতেও দারুণ কাজ করে এই পেঁপে।

ডেঙ্গুতে যেসমস্ত ব্যক্তি  আক্রান্ত হয় তাদের  প্লেটলেট সংখ্যা বাড়িয়ে সাহায্য করে এই  পেঁপে পাতার রস। গবেষণা বলছে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ৪০০ রোগীকে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে অর্ধেকের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ছিল, তার কারণ হিসেবে জানা গেছে  সেইসব ব্যক্তিদের ট্যাবলেট আকারে পেঁপে পাতার রসের একটি নির্দিষ্ট ডোজ দেওয়া হয়েছিল। শুধু কি তাই! তাদের শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যারও অস্বাভাবিক উন্নতি ঘটেছিল, একই সঙ্গে ডেঙ্গুতে তাদের রক্ত পরিবর্তন করারও দরকার পরেনি।

পেঁপের কিছু পাতা পিষে রস বার করে দিনে দুবার খেতে পারলে ডেঙ্গু নিরাময় করা যায় আবার ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সম্ভব পেঁপেকে হাতিয়ার করে।

প্রত্যেক দিন পাকা পেঁপে খেতে পারলে খুব ভালো হয়। কেউ চাইলে পাকা পেঁপে রস করেও খেতে পারে, প্রয়োজনে লেবুর রস মিশিয়ে দিলেও খেতে ভালো লাগবে। এটা নিয়মিত কমপক্ষে দু থেকে তিন বার খেতে পারলে ডেঙ্গু থেকে মুক্তি মিলবে।

এছাড়া কিছু পেঁপে পাতা কে আংশিক ভাবে শুকিয়ে নিয়ে, তারপর টুকরো টুকরো করে কেটে নিতে হবে। তারপর সসপ্যানে পানি দিয়ে তার মধ্যে টুকরো করা পেঁপে পাতা দিয়ে ফোটাতে হবে যতক্ষন পানিটা অর্ধেক হয়ে না আসছে। অর্ধেক হয়ে এলেই নামিয়ে নিয়ে খেয়ে নিন। ডেঙ্গু নিরাময় করতে এ পদ্ধতি খুব কার্যকরী।

ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া থেকে সাবধান হন, শরীরে ইমিউনিটি বাড়িয়ে তুলতে পুষ্টিকর খাবার খেতে শুরু করুন। যেখানে বসবাস করছেন তার আশপাশের অঞ্চল পরিষ্কার রাখুন ও সুস্থ থাকুন।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন