SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

পেয়ারায় থাকে কমলালেবুর চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি ভিটামিন সি

শারীরিক স্বাস্থ্য ১৫ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
পেয়ারায়
Photo by Any Lane from Pexels

লেখার বিষয়টি দেখে ছেলেবেলায় পাশের বাড়ির চাচার গাছ থেকে দুপুরবেলা পেয়ারা চুরি করে খাওয়ার কথা আপনার অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে পড়ছে! অনেকসময় স্কুল-কলেজের গেটে ছুটির সময় ঝাল পেয়ারামাখাও পাওয়া যেত। পেয়ারা খেতে সুস্বাদু, দামেও সস্তা। তার উপর পেয়ারায় রয়েছে একগাদা উপকারিতা যার জন্য পেয়ারা আবশ্যিক হিসেবে খাদ্যতালিকায় রাখেন অনেকে। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম সিডিয়াম গুয়াজাভা।

পেয়ারা সম্পর্কে কিছু কথা

পেয়ারা সাধারণত নিরক্ষীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ। মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং উত্তর-দক্ষিণ আফ্রিকায় পেয়ারা উৎপন্ন হলেও ২০১৮ সালের হিসেব অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট পেয়ারা উৎপাদনের হিসেবের ৪৫% উৎপাদিত হয়েছিল ভারতে। পেয়ারার জন্ম সম্ভবত মেক্সিকো বা মধ্য আমেরিকা অঞ্চলেই। পেরুতেও খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৫০০ অব্দের পেয়ারার অস্তিত্বের কথা জানা যায়।

পেয়ারায় রয়েছে খনিজ উপাদান

পেয়ারার পুষ্টিগুণ অনেক। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ডায়েটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ এই ফলে থাকে ফোলিক অ্যাসিড। দিনে একটি করে পেয়ারা খেলেই তা দৈনন্দিন চাহিদার প্রায় ২৫৭% ভিটামিন সি-এর যোগান দেয়। এছাড়া পেয়ারায় ভিটামিন এ, বি১, বি৩, বি৫, বি৬ ইত্যাদিও যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদি অতি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানে ভরপুর পেয়ারা খেলে তা শরীরের নানা রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। আজকের লেখায় আমরা সার্বিকভাবে পেয়ারার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব।

পেয়ারায় কমের রক্তে শর্করার মাত্রা

পেয়ারায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং এর কম গ্লাইসিমিক ইনডেক্স রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করে। ফলে যাদের জিনগত দিক দিয়ে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা রয়েছে বা যারা এই সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা কিন্তু পেয়ারাকে খাদ্যতালিকায় রাখলে উপকার পাবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আপনারা সকলেই জানেন, ভিটামিন সি দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পেয়ারা ভিটামিন সি-র খুব ভাল একটি উৎস। ফলে যারা ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত নানা সমস্যায় ভোগেন, বা ঘনঘন সর্দিকাশির ধাত রয়েছে, তাঁরা নিয়ম করে দিনে একটা পেয়ারা খাওয়া অভ্যেস করুন। সাধারণত কমলালেবুর চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। রোজ একটা করে পেয়ারা খাওয়ার অভ্যেস সর্দিকাশি দূরে রাখতে সাহায্য করে এবং ইনফেকশন ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে।

ক্যানসারের সম্ভাবনা কমায়

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, ভিটামিন সি, কোয়্যারসাটিন, লাইকোপেন ও অন্যান্য পলিফেনল যৌগ শরীরকে ফ্রি র‍্যাডিকালের হাত থেকে রক্ষা করে ও ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি আটকে দেয়। পেয়ারায় এইসমস্ত কিছুই থাকায় পেয়ারা দারুণভাবে এক্ষেত্রে কাজে দেয়। ক্যানসারের সম্ভাবনা, প্রস্টেটের ক্যানসার ইত্যাদি প্রতিরোধে পেয়ারা সক্ষম। পেয়ারায় থাকা লাইকোপেন স্তন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি আটকে দেয়।

হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে

পেয়ারায় থাকে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণভাবে কার্যকরী। ফলে যারা রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন ও নিয়মিত ওষুধ খান, তাঁরা পেয়ারা খান। এছাড়া পেয়ারা রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে হৃদরোগের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। রক্তে ভাল কোলেস্টেরলের যোগান দিতেও পেয়ারার জুড়ি নেই।

পেয়ারা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগলে চোখ বুজে পেয়ারায় ভরসা করতে পারেন। পেয়ারায় থাকা ডায়েটারি ফাইবার এই কাজে সহায়তা করে। দৈনন্দিন চাহিদার প্রায় ১২% ডায়েটারি ফাইবারের চাহিদা পেয়ারা পূরণ করে। এছাড়া পেয়ারার ফাইবার হজমক্ষমতা বাড়ায়। অনেকেই পেয়ারা খাওয়ার সময় বীজগুলি খেতে সমস্যা হয় বলে ফেলে দেন, এটি না করাই ভাল। মনে রাখবেন, পেয়ারার বীজ কিন্তু পরিপাক ক্রিয়া সুস্থ রাখতে দারুণভাবে কার্যকরী।

চোখ ভাল রাখে

পেয়ারায় থাকা ভিটামিন এ চোখ ভাল রাখতে সাহায্য করে। ল্যাপটপ বা মোবাইলে কাজ করে অনেকেই আজকাল ড্রাই আইজের সমস্যায় ভোগেন। তাঁরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পেয়ারা খেতে পারেন। ছানি ইত্যাদিকেও পেয়ারা দূরে রাখে।

গর্ভাবস্থায় পেয়ারা

গর্ভবতী মহিলাদের ফোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। এক্ষেত্রে পেয়ারা ফোলিক অ্যাসিডের খুব ভাল একটি উৎস হতে পারে। পেয়ারায় থাকা ফোলিক অ্যাসিড গর্ভস্থ সন্তানের স্নায়ুতন্ত্র গঠন করতে সাহায্য করে এবং কোনওরকম স্নায়ুতন্ত্রের রোগ বা সমস্যাকে দূরে রাখে।

দাঁতের ব্যথা দূর করে

পেয়ারার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ মুখের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর জীবানু ধ্বংস করে এবং ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। পেয়ারার পাশাপাশি পেয়ারা পাতাও দাঁতের ব্যথার দুর্দান্ত ঘরোয়া টোটকা হিসেবে কাজ করে। এছাড়া মুখের ক্ষত, মাড়ি ফোলার সমস্যার ক্ষেত্রেও পেয়ারা পাতা কাজে দেয়।

স্ট্রেস কমায়

আজ্ঞে হ্যাঁ, প্রাকৃতিক স্ট্রেস বাস্টার হিসেবে আপনারা কিন্তু অনায়াসে পেয়ারা খেয়ে দেখতে পারেন। পেয়ার‍্য থাকা ম্যাগনেসিয়াম পেশির ক্লান্তি দূর করে ও স্নায়ু শিথিল করে। ফলে অফিস থেকে ফিরেই হোক, কি ওয়র্কআউটের ক্লান্তি দূর করতেই হোক, পেয়ারা খান নিশ্চিন্তে। একইসঙ্গে পেয়ারায় থাকা ভিটামিন বি৩, বি৬ মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। আর দ্রুত এনার্জির যোগান পেতেও খেতে পারেন পেয়ারা।

এছাড়াও ওজন কমাতে, ত্বকের বয়স কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পেয়ারার জুড়ি নেই। ফলে এবার থেকে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় নিয়ম করে একটি পেয়ারা রাখতে কিন্তু ভুলবেন না!