প্রতিদিন দই খাওয়ার চেষ্টা করুন

yogurt
ID 90468543 © Elena Veselova | Dreamstime.com

প্রত্যেকেই নিজেদের সুস্থ রাখতে চাওয়ার পাশাপাশি ঔজ্জ্বল্যকেও ধরে রাখতে চাই। পুরুষদের  শারীরিক বৈশিষ্ট্য অনেকটাই কঠিন হয় মেয়েদের থেকে। পুরুষদের চামড়া তুলনায় কম মোলায়েম। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেটাবলিজমের হার কমতে থাকে হাড় দুর্বল হতে থাকে। শরীরের গঠন ভারসাম্য অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করলে শরীর যেমন ধরে রাখা যাবে তেমনিই নিজেদের কর্মক্ষমতা বাড়ানো যাবে অনেকট বেশি বয়স অবধি।

 খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কিছু খাবার যোগ করা প্রয়োজন পুরুষদের শরীর ঠিক রাখার জন্য

টম্যাটো-  টম্যাটো প্রতিদিন যদি আমরা খেতে পারি অনেক কিছু সমস্যা থেকে নিজেদের বাঁচাতে।এই সবজির লাল রঙের জন্য দায়ী লাইকোপিন। লাইকোপিন শরীরে থাকা বিষাক্ত পদার্থকে বের করে দেয়। টম্যাটো ত্বকে কোলাজেন তৈরি করে যা চামড়াকে পুষ্টি সরবরাহ করে। এছাড়াও এতে থাকা ভিটামিনA ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।১০০গ্রাম টম্যাটো থেকে ২০ গ্রাম ক্যালরি পাওয়া যায়। এই সবজির ৯৪%শতাংশই হল জল যার কারণে টম্যাটো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের যোগান দেয় শরীরে। লাইকোপিন শরীরে থাকা খারাপ উপাদান গুলোকে বের করে রাখার পাশাপাশি জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে সম্পূর্নভাবে। এই টম্যাটোকে আমরা স্যালাডে খেতে পারি। আবার সব ধরনের তরকারিতেও টম্যাটো ব্যবহার করা যায়। স্বাদ বাড়ার সাথে সাথে খাবার পুষ্টিগুণকেও অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

মাছের তেল-মাছের তেলে থাকে অফুরন্ত ওমেগা। ওমেগা আমাদের শরীরে কোশের প্রদাহ কমিয়ে দেয় যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর সবথেকে বড়ো কারণ।ত্বকের বলিরেখা বয়স বাড়ার সাথে আসাটা স্বাভাবিক এবং এটা প্রতিরোধ করাটা মানুষের ধর্ম। তাই খাদ্য মাছের তেল রাখুন প্রায় প্রতিদিনই।

 বাদাম-সুস্বাস্থ্যের অধিকারী কোনো মানুষের খাদ্যতালিকা দেখলে একটা জিনিস অবশ্যই চোখে পড়বে তার নাম বাদাম।ভিটামিন পুষ্টিসম্পন্ন এই খাদ্যউপাদানের কাজ বহুমুখী। শরীরে ত্বকের জেল্লা ধরে রাখার পাশাপাশি শরীরের ভিতরের অঙ্গগুলোর খেয়াল রাখে বাদাম। আখরোট, আমন্ড ইত্যাদি বাদাম মেটাবলিজমে ভরপুর।

 বেরি-ব্ল্যাকবেরি, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভানোয়েডের উৎস্য। বেরিতে থাকা কোলাজেন শরীরে পুষ্টি সরবরাহ করায় বলিরেখা আসতে দেয়না চামড়ায়।

 দই দইতে থাকা উপাদানগুলি শরীরের অপ্রয়োজনীয় জীবাণুকে মেরে ফেলে। আমাদের শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা হতে  দেয়না দই। রিফোব্লিন, ফসফরাস উপাদান সমৃদ্ধ দই খাবারের সাথে প্রতিদিন খাওয়া উচিত।

অ্যাভোকাডো পুষ্টিকর ফলগুলোর মধ্যে অ্যাভোকাডো অন্যতম একটি ফল।অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও এটি কাজ করে। এটি খেলে শরীরে থাকা সমস্ত দূষিত পদার্থ বাইরে বেরিয়ে যাবে। এর মধ্যে শুধু পুষ্টি না নানা রকম ঔষধি গুণও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, খনিজ পদার্থ,ভিটামিন-A,ভিটামিন-C,ভিটামিন -E ভিটামিন -K।অ্যাভোকাডো তে আছে প্রচুর পরিমান পটাশিয়াম, কলার চেয়ে অন্তত ৬০ ভাগ বেশি,তার পাশাপাশি  ১৮ ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, ৩৪ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট বিদ্যমান। এই ফলসউল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভালো কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে শরীরকে সুস্থ সুন্দর রাখে। 

গ্রিন টি- ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে অনেক জনপ্রিয় একটি পানীয় হচ্ছে গ্রিন টি বা সবুজ চা। সবুজ চায়ে বর্তমান একাধিক পুষ্টি উপাদান খনিজ পদার্থ, যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ভাঁজহীন ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে।এমনকি যারা ডায়েট করে থাকে তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি থাকেই।তাই ব্যায়ামের পাশাপাশি গ্রিন টি আজই খেতে শুরু করুন।বার্ধক্য লুকাতে এক দারুণ কার্যকর উপায় এই গ্রিন টি।