SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

প্রতিবেশীর সঙ্গে কেমন আচরণ হওয়া উচিত?

পরিবার ০৪ জুন ২০২০
প্রতিবেশীর বন্ধু
© Willy Sebastian | Dreamstime.com

পরিপূর্ণ জীবন বিধান এর নাম হচ্ছে ইসলাম। মানুষ তার জীবনে চলার পথে যত ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না কেন সব গুলোর সমাধান ইসলাম দিয়েছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র গঠনে ইসলামের দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গঠনমূলক ও বিজ্ঞান সম্পন্ন।

যেহেতু মানুষ সামাজিক জীব, তাই সে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। এবং প্রতিবেশী হচ্ছে এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলামে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা প্রতিবেশী ব্যাপারে বেশ উদাসীন।

প্রতিবেশীর সঙ্গে কী ব্যবহার করব?

প্রতিবেশী বলতে মুসলিম, কাফের, নেক বান্দা,ফাসেক, বন্ধু, শত্রু,পরদেশী, স্বদেশী, উপকারী, ক্ষতিসাধনকারী, আত্মীয়, অনাত্মীয়, নিকটতম বা তুলনামূলক একটু দূরের প্রতিবেশী সবাই অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর ও কোনো কিছুকে তার অংশী কর না এবং পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশ, দূর প্রতিবেশী এবং সাথী-সহপাঠী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভূক্ত দাস-দাসীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার(আচরণ প্রকাশ) কর।

নিশ্চয় আল্লাহ আত্মম্ভরী দাম্ভিককে ভালবাসেন না।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৬)।

হাদিসে  সম্মান এবং সদাচারণ কে ঈমানের অঙ্গ বলে সাব্যস্ত করেছে। হজরত আবু শুরাইহ (রা.) বলেন, ‘আমার দুই কান শ্রবণ করেছে, আমার দুই চক্ষু প্রত্যক্ষ করেছে যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং আখেরাতে বিশ্বাস রাখে সে যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে সম্মান করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)

ইসলাম  সদাচারণ এর পাশাপাশি নিয়মিতভাবে তাদের খোঁজ খবর নেয়া, তাদের সুখ দুঃখে, অভাব-অনটনে তাদের পাশে থাকার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছে। যে মুমিন প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে নিজের উদরপূর্তি করে ইসলাম তাকে পরিপূর্ণ মুমিন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ওই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার পাশের প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ১১২)।

এখানে বলে রাখা ভালো যেহেতু প্রতিবেশীর হক রয়েছে, তাই সুপরামর্শ, সদাচারণ , অর্থ , শারীরিক, মানসিক অর্থাৎ যতদূর সম্ভব, যা দিয়ে সম্ভব তা দিয়েই প্রয়োজন অনুসারে এবং নিজের সাধ্যমত প্রতিবেশীর পাশে থেকে তার সাথে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এবং এটাই হচ্ছে প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ। যা সরাসরি ইসলামের নির্দেশ।

প্রতিবেশীর সঙ্গে ব্যবহারে ইসলামের নির্দেশঃ

পাড়া-প্রতিবেশীর অধিকার প্রসঙ্গে এক সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন যে, একজন প্রতিবেশী থেকে অন্য প্রতিবেশী কেমন আচরণ আশা করে? প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে যা বললেন, তাহলো-

>> এক প্রতিবেশী অপর জনের কাছে ধার (কর্জ) চায়, তাহলে তাকে কর্জ দেয়া;

>>  একে অপরকে দাওয়াত করে, তবে তা গ্রহণ করা;

>> প্রতিবেশীর কেউ অসুস্থ হলে তার সেবা করা;

>>  কখনো একে অপরের কাছে কোনো বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে তাকে সহযোগিতা করা;

>> তার দুঃখে সমবেদনা প্রকাশ করা;

>> প্রতিবেশীর আনন্দে তাকে মোবারকবাদ বা অভিনন্দন জানানো;

>> পাশের বাড়ির উপকারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা;

>>  মৃত্যু হলে জানাযায় অংশগ্রহণ করা;

>> প্রতিবেশীর অনুপস্থিতিতে তার সব ধরনের সহায়-সম্পদের হেফাজত করা। এমনকি কোনো প্রতিবেশীর বাড়ির পাশে বাড়ি নির্মাণে অনুমতি ছাড়া তাঁর বাড়ির চেয়ে উঁচু বাড়ি নির্মাণ না করা।

ইসলাম সবসময় মানুষকে ভালো কাজ করতে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছে। এবং এই ভালো কাজ অর্থাৎ এসব কর্মধারায় আখেরাতে ফলাফল নির্ধারিত হবে। আমরা ভালো কাজ করছি না খারাপ কাজ করছি সেটা মাপার মাধ্যম রাসূল (সা) আমাদের দিয়ে গেছেন। এক ব্যক্তি রাসূল (সা) কে জিজ্ঞেস করলেন “ কিভাবে বুঝবো যে, আমি ভালো কাজ করছি না খারাপ কাজ করছি। ” রাসূল (সা) উত্তরে বললেন, “যদি তুমি তোমার প্রতিবেশীদের বলতে শোন যে তুমি ভালো কাজ করছো, তাহলে তুমি ভালো কাজ করছো। আর যদি তাদের বলতে শোন যে তুমি খারাপ কাজ করেছো, তাহলে তুমি খারাপ কাজ করেছো।”

আল্লাহ আমাদের প্রতিবেশীর হক আদায় করার ব্যাপারে সচেতন হওয়ার তৌফিক দান করুন। এবং প্রতিবেশীর সাথে মানবিক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দিক।