প্লাস্টিক কারখানায় দগ্ধ হয়ে মৃত ১৩, ছিল না কোনও অনুমোদন

Uncategorized Tamalika Basu ১২-ডিসে.-২০১৯

ঢাকা: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্য একজন ঘটনাস্থলে আর ১২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, দগ্ধ ৩৪ জনের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের অধিকাংশের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ লোকজনের মৃত্যু ঘটে। অগ্নিদুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবার ১ লাখ টাকা এবং আহত প্রত্যেকের চিকিত্সার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০১৬ সালে এই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয় দফা আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তারপরও কারখানা মালিক খামখেয়ালি করে শুধু একটি গেট থেকে সব কাজ পরিচালনা করে আসছিলেন। এলাকাবাসীর দাবি, কারখানার দুই-তিনটি প্রবেশপথ ও গেট থাকলে এত হতাহতের ঘটনা ঘটত না। শ্রমিকরা আগুনের মধ্যে বের হতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।

এদিকে গতকাল সকালে শ্রম সচিব কে এম আলী আজম ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন শ্রমিকদের দেখতে গিয়ে বলেন, ‘এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এ কারখানাটি কমপ্লাইন্স নয়। এর আগে মালিককে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং শ্রম আইনে মামলাও করা হয়েছে। তারপরও কীভাবে চলছিল কারখানাটি তা অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আগের দিন সন্ধ্যায় দগ্ধ লোকজনকে দেখতে হাসপাতালে যান বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং কেরানীগঞ্জের সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ বিপু। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করে বলেন, কারখানাটির কোনো অনুমোদন ছিল না বলে জানা গেছে। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে থাকা কারখানাগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলেছিলেন। তবুও তাদের সরানো যায়নি।

এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় আগুন লেগে ৭০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর টাম্পাকো প্যাকেজিং ফ্যাক্টরিতে আগুনে নিহত হন ২৪ জন। এর আগে নিমতলীতে মারা যান ১২৪ জন।