মতামত ০৮-মে-২০২০

পড়ুয়ারা বসছে অনলাইন ক্লাসে, কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে বাবা-মাকে

Muhammad Nassar
Fardeen Sheikh

আজকের পৃথিবীতে ই-লার্নিং কতটা প্রাসঙ্গিক

তথ্যপ্রযুক্তি বাইনস্পেটেকএখন নবীন  প্রজন্মের  মুখে মুখে ঘোরে। আজকের দিনে ইন্টারনেট  আর বড়োলোকের বিলাসিতা  নয় বরং জনগণের দৈনন্দিন  জীবনের  অপরিহার্য এক সম্বল। ইন্টারনেট  হল এমন এক প্রক্রিয়া  যার সাহায্যে  বাড়িতে বসেই যে কোনো বিষয়ের  তথ্য সংগ্রহ  করা যায়। www এর দ্বারা সমস্ত  সাইট খুঁজে পাওয়া যাবে । সময় বা সুযোগের অভাবে  যারা পড়াশোনা করতে পারেনা, তাদের কাছে ইন্টারনেট  আজ ত্রাতা হিসাবে উপস্থিত  হয়েছে। যেকোনো কেউ তার নিজের পছন্দের বিষয় তার সময় মতো পড়তে পারছে, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকের সাহায্যে, কিছুক্ষেত্রে একাই। বাড়িতে বসে ডিগ্রি  চলে আসছে হাতের মুঠোয়। বর্তমানে মহামারীর কারণে সারা বিশ্বে পড়ুয়ারা ই লার্নিংয়ের দ্বারস্থ। অনলাইন ক্লাসেই হাতের কাজ বা ক্রাফটের কাজ চলছে। দুনিয়ায় সব বাবা মা এখন হোম এডুকেটরে পরিণত হয়েছেন।

যেসব পরিবারের সন্তান আগেই হোম স্কুলড হত, অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে না গিয়ে বাড়িতেই পড়াশোনা চালাত, তারা অনলাইনের বিস্তার ব্যাপক হওয়ার দরুন অনেক সময় গোপনীয়তার বিষয়টা আপস করতে হয়। অনেক নতুন অনলাইন শিক্ষার্থী জানেন না জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রেও নিজেকে কতটা সুরক্ষিত রাখতে হয়।

ইন্টারনেট প্রজন্ম

ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তে বিশ্বের  এক প্রান্তের খবর মূহুর্তে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। পৃথিবীর কোথায়  কোন চাকরি  পাওয়া যাবে  ইন্টারনেটে  সে খবর দিতে পারে একটা ক্লিকে। এই বিষয়ে পোর্টালের উপযোগিতা বহুমুখি । এতে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মতো সব কিছুই মজুত আছে। অধুনা জীবনযাপনে সর্বত্র এর সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। মুসলিমরা এই অনলাইন  শিক্ষাকে বেছে নিচ্ছে কারণ এই ব্যবস্থা একমুহূর্তে সেই সব  জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে ভৌগোলিক  সীমানা অতিক্রম  করে যেখানে সামাজিক বা রাজনৈতিক কারণে  শিক্ষা এখনও বিলাসিতা। 

তারা নিজেদের জ্ঞানের  পরিধি বাড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে ছলছে নিজ ক্ষেত্রে  প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লক্ষ্য। শিক্ষাক্ষেত্রে  এক অভূতপূর্ব  বিপ্লব  এনেছে এই অনলাইন ক্লাস। সময়ের অপচয় কমিয়ে শিক্ষাকে  আরও সহজলভ্য করে তোলার ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের অবদানটা অসামান্য।

অনলাইন  শিক্ষায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর  উদ্যোগ

আমাদের সবার কাছে  অতিপরিচিত একটি নাম খান অ্যাকাডেমি। পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো অসুবিধায় উপস্থিত  সবসময়। এই খান অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান খান শুরু করেছিলেন  শুধুমাত্র  অঙ্কের ভিডিও নিয়ে। এই প্রতিষ্ঠান  ছাত্রদের বিষয়ভিত্তিক ধারণা সুন্দর ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। তারা এখন অর্থনীতি, বিজনেস, আর্টস সব বিষয়েই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। অনলাইন মুসলিম  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিলাল ফিলিপ  দেখিয়েছেন কীভাবে ঘরে বসেই ব্যাচেলার অব আর্ট এর ডিগ্রি বাড়িতে বসেই হাতে আসছে 

এই ক্ষেত্রে  আর এক উদাহরণ নোয়াম সেখ বাইনআহ ইন্সটিটিউট  এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি Podcastএ থেমে না থেকে তৈরি করে ফেলেছেন একটি টিভি চ্যানেল । যেখানে কোরান  এর শিক্ষাও দেওয়ার পাশাপাশি  অন্য সমস্ত  বিষয় নিয়ে আলোচনা চলে।

সেখ ওমর সুলেমান এর ইয়াকিন বিশ্ববিদ্যালয় এই ক্ষেত্রে  আর একটি বড়ো নাম। তাই একথা মানতেই হবে যে পড়াশোনার পথে বাধা  আর নেই । ইচ্ছাটা থাকলেই আজ বাড়িতে বসেই সব করা যায়। 

লার্নিং  হতে পারে  শিক্ষার  নতুন পথের দিশারী

আজকের দিনে ই-লার্নিং সত্যই একটা উল্লেখযোগ্য বিকল্প, তবে এ বিষয়ে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। কোনো অনলাইন প্রোগ্রাম করতে প্রোগ্রাম এর বিষয়বস্তু, কারা উদ্যোগে আছে, এর খ্যাতি কতদূর বিষয়ে অবগত হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। তার যেকোনো বিষয়বস্তু নিয়ে শিশুর সাথে যথোপযুক্ত পর্যালোচনা, কোনো ফি অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা, সাবস্ক্রিপশন কতটা ব্যায়বহুল সেটা দেখা খুবই জরুরি। আর একটা বিষয় স্পষ্ট করতে হবে, যেই ক্লাস আপনি নিচ্ছেন তা বাইরের দুনিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির বাজারে কতটা গ্রহণযোগ্য। যদি আপনি মনে করেন শুধু নিজের জ্ঞান ভান্ডার প্রশস্ত করায় আপনার পরিকল্পনা তাহলে আলাদা কথা। তাই যে কোনও ক্লাসে সাইন আপ করার পূর্বে নিজের লক্ষ্য স্থির করুন। 

privacy settings কোনো প্রোগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।ওই  প্রোগ্রামটির connectivity কতটা, কতটা privacy আছে সেটা খেয়ালে রাখতে হবে। এই প্রোগ্রামটি কতটা comfortable zone-এর মধ্যে আসে , এতে ক্যামেরার ব্যাবহার কতটা, কী কী সুযোগ সুবিধা আছে one-on-one learning এর ক্ষেত্রে। এই বিষয়গুলি সম্বন্ধে জেনে তবেই ই-লার্নিং-এর পথে যাওয়া উচিত।

 শিক্ষাকে  পুরনো ছাঁচ থেকে বের কর নিয়ে শিক্ষার  অগ্রগতিতে ই-লার্নিং-এর ভুমিকা হবে অনস্বীকার্য। অতীতের ওই সমস্ত শিক্ষাকেন্দ্র গুলোর শিক্ষাব্যবস্থা একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে ছিল তবে এই নতুন ব্যবস্থা আরও বেশি কার্যকরী হবে, এখানে শিক্ষা যেমন বাঁধাধরা গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসবে তেমনই ছাত্রছাত্রীদের কাছেও থাকে শেখার স্বাধীনতা।

শিক্ষা জিনিসটি সর্বস্তরের,এর কোনো  সীমাবদ্ধতা নেই। বর্তমান স্কুলের শিক্ষা যদি homework, কিছু পরীক্ষা নেওয়া, একটা গ্রেড নিয়ে পাস করা হয় –তাহলে সেটা অনলাইন এই হোক, এতে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বাড়তি সময় পাবে; স্কুলের গন্ডির বাইরে নানারকম দিকে আগ্রহী দেখাতে পারবে এবং সময় দিতে পারবে। আগামীর অগ্রগতির এক নতুন সম্ভাবনা এনে দেবে এই ই-লার্নিং। 

প্রাসঙ্গিক নিবন্ধসমূহ
মতামত
মতামত ১৬-এপ্রিল-২০২০
صورة ملف شخصي
Fardeen Sheikh

ভারতের মতো ধর্মপ্রবণ দেশে তাই বজ্র আঁটুনি এর দরকার ছিল আগে থেকেই । করোনা জাত ধর্ম  নির্বিশেষে থাবা বসাচ্ছে ।ধর্মকে দেখাতে গিয়ে যেন পরিজনকে হারাতে হারাতে না হয় সেদিকে আমাদের  নজর রাখা উচিত। ধর্মকে বড়ো করে দেখার থেকে নিজের জীবনকে বড় করে দেখার সময় এটা। নিজেদের মধ্যে বন্ধনটাই  আসল যা মানবতা এর পরিচয় দেয়। ধর্মের কাদা না ছুঁড়ে নিজেদের দেখার সময় আমাদের আরেকবার দিয়েছে পৃথিবী।

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ১০-সেপ্টে.-২০২০
Muhammad Nassar
কাজী একরাম
শিক্ষাথী, মাহাদুল ফিকরি ওয়াদদিরাসাতিল ইসলামিয়াহ, ঢাকা। ধর্মতত্ত্ব ও গবেষণাকেন্দ্র।

একশ্রেণির সেকুলার ও নাস্তিকরা দাবি করে থাকে যে, ইসলামের ইতিহাসের মহান বিজ্ঞানীগণ ছিলেন সেকুলার বা নাস্তিক। অথচ সত্যিকার ইতিহাসের বয়ান এর সম্পূর্ণ বিপরীত

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ২৮-আগস্ট-২০২০
Zeeshan R

সর্বপ্রথম যে মুসলিম দেশ থেকে মুসলমানরা ব্রিটেনে গিয়েছিল সে দেশটি হলো ইয়েমেন। সে সময় ইয়েমেনিরা ব্রিটিশদের বাণিজ্য জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ করতো। সেই সুবাদেই তারা ব্রিটেনে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেছিল। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে তারা ব্রিটেনে সর্বপ্রথম মসজিদ তৈরি করেছিল।

চলবে চলবে
মতামত
মতামত ২৩-জুলাই-২০২০
Zeeshan R

কুরআন শরীফকে যদি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, তাহলে তা ছোটদের বোঝাতে অনেক বেশি সুবিধা হবে বলেই মনে হয়। ছোটবেলা থেকে ধর্ম সম্পর্কে সঠিক এবং সুশিক্ষা তাদের বড় হয়ে সাচ্চা মুসলিম হতে সাহায্য করবে

চলবে চলবে