ফরজ আমলের গুরুত্ব

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“আল্লাহ যদি কারও মঙ্গল কামনা করেন তবে তিনি তাকে ইলম(ফিকাহ) দান করেন”। (বুখারী)

ইলম(ফিকাহ) কেবল আচার-ব্যবহার এবং সামাজিক দিক সম্পর্কিত বিচারব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নীতিগতভাবে, ফিকাহ অর্থ ইসলামী আইন এবং এর বিভিন্ন বিধিবিধানের গভীরতা সম্পর্কে পরিপূর্ণ উপলব্ধি।

অগ্রাধিকারের ফিকহ

ইসলামী আইনে মূল(উসুল) এবং গৌণ(ফুরু) দুটি শাখা রেখেছে। মূল বিষয়গুলির গৌণ বিষয়গুলির উপর অগ্রাধিকার রয়েছে। অবশ্য পালনীয় কাজগুলির ঐচ্ছিক কাজের উপর অগ্রাধিকার রয়েছে।

একজনকে এই পার্থক্যগুলি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে; অন্যথায় না বুঝে তিনি খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন।

হজ বা মসজিদের সাজসজ্জা?

উদাহরণস্বরূপ, আপনার যদি এমন টাকা থাকে যা দিয়ে আপনি হয় হজ্জ করতে পারেন বা মসজিদের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারেন তবে আপনার জন্য উচিত হবে প্রথমে হজ্জ করা।

হজ্জ একটি ফরজ ইবাদত। অন্যদিকে, মসজিদের বিল্ডিংয়ের উন্নতি বা সৌন্দর্য্য বাড়ানো ঐচ্ছিক কাজ। আপনি যদি ফরজের চেয়ে ঐচ্ছিক কাজকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে আপনি আপনার ইচ্ছাকে সঠিক পথে পরিচালিত করছেন না।

তবে, উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার বৃদ্ধ মায়ের ওষুধের জন্য এই পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় তবে আপনার এই অর্থটি তার জন্য ব্যয় করা উচিত এবং হজ্জ সম্পাদনকে বিলম্বিত করা উচিত।

আপনার মায়ের যত্ন নেওয়া তাত্ক্ষণিক ফরজ, আর হজ্জযাত্রা এমন একটি ফরজ যা বিলম্বিত হতে পারে।

ফরজ নাকি নফল?

দুর্ভাগ্যক্রমে, কিছু লোক আছেন যারা ঐচ্ছিক কাজ(নফল) নিয়েই খুব বেশি ব্যস্ত থাকেন কিন্তু প্রয়োজনীয় ঈমান-আক্বিদা সংশোধনের প্রতি তেমন গুরুত্ব নেই।

কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী পিতা-মাতার প্রতি সদয় হওয়া বাধ্যতামূলকঃ

“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে `উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা বলো।” (আল কুরআন-১৭:২৩)

মানুষের আমানত ফিরিয়ে দেওয়াও বাধ্যতামূলকঃ

“যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর!” (আল কুরআন-২:২৮৩)

ঈমানদারকে অভিশাপ না দেওয়াও বাধ্যতামূলক। নবীজি বলেছেনঃ

“অভিশাপী হওয়া ঈমানদারের জন্য উপযুক্ত নয়”। (আদাবুল মুফরাদ)

কীভাবে নবীজীকে অনুসরণ করবেন

দুর্ভাগ্যক্রমে, আমাদের বর্তমান সমাজে আমরা এমন কিছু লোক দেখতে পাই যারা দাবি করেন যে, তারা নবীজির সুন্নাহকে অনুসরণ করেন কিন্তু তারাই তাদের পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার করেন দুর্নীতি করেন বা কাউকে অভিশাপ দেন বা গুনাহের কাজকে সমর্থন জানান।

আরও কিছু মানুষ আছে যারা ফরজ নামাজ তো আদায় করে না কিন্তু কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ঈদের নামাজ ত্যাগ করে না।

আমরা প্রায়শই একটি হাদীস শুনি যার মধ্যে আল্লাহ ঐচ্ছিক নেক আমল সম্পর্কে কথা বলেছেনঃ

“এবং বান্দা নফল ইবাদতের দ্বারা আমার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে থাকে, একপর্যায়ে আমি আল্লাহ স্বয়ং তাকে ভালোবাসতে শুরু করি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে হাঁটে।” (সহীহ বুখারী)

তবে আমরা ভুলে যাই যে “এবং আমার বান্দা” এই হাদীসের শুরু নয়। বরং বিভিন্ন বর্ণনায় হাদীসের শুরুটি এরকমঃ

“আমি বান্দার ওপর যা ফরজ করেছি, তা অপেক্ষা আমার কাছে অধিক প্রিয় কোনো বস্তু নেই, যা দ্বারা আমার বান্দা আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে।”

আমরা যদি নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাত, গোনাহ ত্যাগ, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, যুবক এবং বৃদ্ধদের সাথে নম্র আচরণ এবং এই জাতীয় সকল ফরজগুলি পালন করি তবে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

জান্নাতের পথ

একজন বেদুইন নবীজীর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল! নামাজের ক্ষেত্রে আল্লাহ আমাদের জন্য যা ফরজ করেছেন তা আমাকে অবহিত করুন।”

নবীজী জবাব দিলেনঃ “তোমাকে দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে, যদি না কোনো নফল নামাজ আদায় করতে চাও”।

বেদুইন লোকটি আরও জিজ্ঞাসা করল, “রোজার ক্ষেত্রে আল্লাহ আমাদের জন্য যা ফরজ করেছেন তা আমাকে অবহিত করুন”

নবীজী জবাব দিলেন, “তোমাকে পুরো রমজান মাসে রোজা রাখতে হবে, যদি না কোনো নফল রোজা রাখতে চাও।”

বেদুইন লোকটি আরও জিজ্ঞাসা করল, “আমাকে বলুন যে আল্লাহ আমাকে কতটুকু যাকাত আদায়ের নির্দেশ করেছেন?”

এভাবে নবীজী তাকে ইসলামের সমস্ত মূল বিষয় সম্পর্কে অবহিত করলেন।

বেদুইন লোকটি তখন বলল, “যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম, আমি না কোনো বিকল্প কাজ সম্পাদন করব আর না আল্লাহ আমাকে যে আদেশ দিয়েছেন তা হ্রাস করব।

নবীজি তখন বললেন,

“যদি সে সত্য কথা বলে থাকে তবে সে সফল হবে এবং জান্নাত লাভ করবে”। (আল বুখারী)