ফারওয়া কোট: মধ্যপ্রাচ্যের শীতকাল মাতিয়ে তোলে এই পোশাক

স্টাইল Contributor
জানা-অজানা
ফারওয়া
Photo : Dreamstime

আদতে বালিময় গরম দেশ হলেও, শীতকালে দিব্যি শীত পড়ে আরব আমিরাত সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে। আর সেই শীতে থার্মালওয়্যার বা সোয়েটার যাইই পরা হোক না কেন, বেদুইন ফারওয়া ছাড়া যেন কিছুতেই উত্তাপ পাওয়া যায় না!

কিন্তু কী এই বেদুইন ফারওয়া?

প্রাচীনকালে সিরিয়া ও লেভান্তে তৈরি হত একপ্রকার লম্বা অভিজাত কোট, যা বেদুইনরা শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পরত। এই কোটকেই বলা হয় ফারওয়া। ক্রমে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও পা রাখে এই কোট। ফ্যাশন সচেতন ইসলামী জনতা আপন করে নেয় এককালের মরুভূমির এই শীতবস্ত্রকে।

আর এখন তো সৌদি আরবের ঘরে ঘরে, বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য আরবের প্রায় প্রত্যেকটি বাড়ির পুরুষ শীতকালে বেছে নেন এই কোট। এই অঞ্চলগুলিতে মরুভুমিসদৃশ ঠান্ডা পড়ে বলেই এখানে ফারওয়া এত জনপ্রিয়।

কী দিয়ে তৈরি হয় এই কোট?

এ এমন এক পোশাক যার খরিদ্দার ধনী থেকে দরিদ্র সকলেই। নিজেদের পকেট বুঝে মানুষ কেনে নানা কিসিমের ফারওয়া। কম দামের সিনথেটিক ফার থেকে শুরু করে লিনেন, ভেলভেট, সুতি ও শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ভেড়ার উল দিয়েও বানানো হয় এই কোট।

“আমাদের এলাকায় শীতকালে মাইনাস ৫ ডিগ্রিতে নেমে যায় তাপমাত্রা। তখন ফারওয়াই সম্বল।’ হাসতে হাসতে বললেন আহমদ আলশরিফ। আরব আমিরাতের তুরাইফ প্রদেশে তাঁর বাড়ি।

“শীতকালে আমরা ঘরে বাইরে দুই জায়গাতেই ফারওয়া পরি। আর যেসমস্ত বেদুইনরা এখনও শহরের বাইরে থাকে, তারা সবচেয়ে ভাল বোঝে ফারওয়ার গুরুত্ব। শীতকালে মরুভূমি পুরো বরফ হয়ে যায়।’ আরও জানালেন তিনি।

কত ধরনের ফারওয়া পাওয়া যায়?

আলশরীফ জানালেন, আসল ফার বা পশমের কোট আদতেই ভীষণ মূল্যবান। এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে সম্পদ হিসেবে পরিচিত।

“আপনি পরিবারের বুজুর্গ বা কারোর বিয়েতে উপহার দিতে চান? আসল ফার বা পশমের ফারওয়ার থেকে দামি ও সম্মানজনক আর কিছু হতেই পারে না। এর থেকে একটু কম দামের রয়েছে পার্শিয়ান ফারওয়া। যেটা আসল পশমের থেকে একটু পাতলা।”

আলশরীফের থেকেই জানা গেল, এ ছাড়া ইরাকি ফারওয়া বা মৌসুলিয়া ফারওয়া কোটও বহুল প্রচলিত মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের মধ্যে। কারিগরি অনুসারে এই কোটগুলির এক হাজার ডলার অবধি দাম হতে পারে।

এ ছাড়া পাওয়া যায় সিরিয়ান ফারওয়া। এটি মোটামুটি ৪০০ ডলারের মধ্যেই পাওয়া যায়। এই কোটের বিশেষত্ব হল, অপূর্ব সুন্দর সূচিশিল্প করা থাকে। সুতোর কাজের এরকম সৌন্দর্য খুব কম কোটেই দেখা যায়।

অতীতে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, আদি ফারওয়া কোট কিন্তু সাধারণ পশমের তৈরি কালো বা বাদামি রঙের শীতবস্ত্র। বেদুইনরা যা পরে তাঁবুর সামনে আগুন পোহাতেন।

কিন্তু বর্তমানে, স্টাইলিস্ট ও ডিজাইনরারা নতুন নকশা যুক্ত করে এই কোটের পুরো বাহ্যিক রূপই পরিবর্তন করে দিয়েছেন। লেদার থেকে শুরু করে গয়না ও ট্রিংকেটস, কী নেই এই কোটে। সঙ্গে মানানসই জুতো পরে মধ্য প্রাচ্যের পুরুষরা হয়ে উঠছেন ফ্যাশনিস্তা।

আরব আমিরাতের ডিজাইনারদের মতে, পুরুষের শীতের ফ্যাশনে দুনিয়া মাতাচ্ছে এই কোট। মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বে।

“আমি আর আমার বন্ধুরা শীতকালে ক্যাম্পিং-এ যেতে খুব ভালবাসি। প্রতি সপ্তাহেই কাশ্তা ( সৌদি আরবের ঐতিহ্যময় ক্যাম্পিং) থাকে আমাদের। আর সেখানে আগুনের ধারে ফারওয়া পরে বসে ওম নেওয়ার আলাদা আনন্দ।” জানালেন রিয়াধের কলেজছাত্র ফয়জল আলথুনিয়ান। নিজের ফারওয়ার সংগ্রহ বন্ধুদের দেখাতে বেশ পছন্দ করেন তিনি।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.