ফুলদানির ফুল দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে শিখে নিন ঘরোয়া উপায়

abuzar-xheikh-D1gavA4x1xM-unsplash
Fotoğraf: Abuzar Xheikh-Unsplash

ফুলকে ভালোবাসে না এরকম মানুষ পৃথিবীতে নেই বললেই চলে। ফুলের সৌন্দর্যের কাছে সবাই বশিভূত,  যা এড়িয়ে চলা অসম্ভব। সুন্দর সজীব ফুলের দিকে  বারংবার না তাকিয়ে উপায় নেই। ফুলের সখ আছে কিন্তু দিন ঘুরতে না ঘুরতেই যদি ফুল নেতিয়ে পড়ে, তাহলে মন মেজাজ আর কার ঠিক থাকে? কিংবা কিনে আনা সখের ফুল যদি ঝিমিয়ে পড়ে তবে উপায়? ফুল যাতে অনেকদিন সুন্দর ও সতেজ থাকে তার কিছু কৌশল তো জানতেই হবে।

ফুলের বাগান অনেকেই নিজ হাতে গড়ে তোলে তার ঘর সাজায় আবার কেউ বাজার থেকে কিনে এনে। যখনই আপনারা ফুল বাগান থেকে কাটছেন তখন রোদ ওঠার আগে খুব সকালে ফুলের ডাঁটা শুদ্ধ কেটে ফুলদানিতে সাজান অথবা ডাঁটা শুদ্ধ ফুল কিনুন। প্রতিটা ফুল শুদ্ধ ডাঁটা গুলোকে 45 ডিগ্রী কোন করে কেটে নেবেন।যে গাছ থেকে ফুল কাটবেন সেই গাছে আগের রাতে পানি দিতে কোনোমতেই ভুলবেন না।আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের খুব সমস্যা হয় টাটকা ফুল চিনতে। স্বাভাবিকভাবেই অত ফুলের মাঝে কোনটা সজীব,খুঁজে বের করা মুশকিল।তবে আপনি যে ফুলগুলো কিনতে চাইছেন সেগুলোর বৃতিগুলো ভালো করে লক্ষ্য করুন।বৃতিগুলো টাটকা ও শক্ত ভাবে ফুলগুলোকে ধরে রাখলে বুঝবেন ফুল ঠিকঠাক। সবচেয়ে ভালো হয় বাজারে ফুল কেনার সময় একটা জলভর্তি পাত্র নিয়ে যান;তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কিনেই ওতে দিয়ে বাড়ি আনতে পারবেন।বেশি আধফোঁটা ফুল থাকলে ওই থোকাটাই কিনুন। এছাড়া কিছু শুকনো পাপড়ি থাকে সেগুলো ফেলে দিয়ে ফুলদানিতে সাজান।

সঠিক ফুল যেমন নির্বাচন করা উচিত তেমনি ফুলদানি বা যে পাত্রে রাখছেন সেটাও নির্বাচনযোগ্য। অনেক ফুল আর পানি অল্প ধরবে এরকম ফুলদানি হলে ফুল পানির অভাবে শুকিয়ে যাবে। আবার অল্প ফুল,অনেক পানিসহ ফুলদানিও বড়ো বেমানান দেখায়। শুকনো,ঝিমিয়ে যাওয়া পাপড়ি ফেলে দেবেন আর কোনো পাতা যেন ডাঁটার সাথে জলে ডুবে না থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া প্রতিদিন ফুলের ডাঁটির নীচের অংশ থেকে আধা ইঞ্চি করে  45 ডিগ্রি কোনে কেটে নেবেন তাহলে  অনেকদিন ফুল সুন্দর ও সতেজ থাকবে।আর আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে যেমন সকালে ও বিকেলে ফুলদানিতে ফুল সাজান।

সবথেকে যেটা প্রয়োজন সেটা হল পরিষ্কার পানি। দিনে দুবার জল পাল্টে দিলে ভালো নইলে অন্তত সময় করে একবার পাল্টানো অবশ্যই জরুরি নইলে ওই জলে ব্যাকটিরিয়া জন্মায়। পানি পাল্টালে এই ভয়টা থাকে না।

সারাদিন ধুলোবালি পড়ে পাপড়ির স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।পাপড়িটাও নেতিয়ে পড়ে। তাই পানি  স্প্রে করুন পাপড়ি ও পাতার এক ফুট দূরত্বে নীচের দিক দিয়ে। তবে চুলের স্প্রে এক্ষেত্রে বেশি ভালো।তা বলে বেশি পরিমাণে  পানি নয়,পরিমাণমতো দেবেন।

ফুলের পানি বদলানোর সময় তাতে এক চামচের সিকিভাগ ব্লিচিং মিশিয়ে দিন,তাহলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারবে না।

ফুল যে পানিতে ডুবিয়ে রেখেছেন তাতে একটু মাউথওয়াশ মিশিয়ে দিলে ফুলের কলিগুলো ফুটতে শুরু করবে। এক সপ্তাহ পর্যন্ত সতেজ থাকবে এই ফুলগুলো।

চিনি জিনিসটি ফুলের সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পানিতে এক চা চামচ চিনি মিশিয়ে দিন, ফুল সতেজ থাকবে। বিশেষ করে গোলাপের কলি এতে সুন্দর ফোটে।5/6 দিন অবধি সুন্দর থাকে এই গোলাপ।এছাড়া গ্লুকোজ ও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ফুলের জন্য অ্যাসিড নিউট্রিলাইজার হিসেবে কাজ করে। অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট পানিতে মিশিয়ে দিলে ফুলকে পানি শোষনে সহায়তা করে।

ফুলকে সতেজ রাখায় খাবার সোডার বিশাল ভূমিকা। এক চামচের সিকি ভাগ খাবার সোডা পানিতে মেশালে দীর্ঘদিন সতেজ রাখা যাবে।

ফুলদানিতে দু চামচ ভিনিগার মিশিয়ে দিন। ফলে ব্যাকটিরিয়া জন্মাতে পারে না।

সরাসরি রোদ আসে এমন জায়গা বা জোরে বাতাস বয় এরকম জায়গায় ফুলদানি রাখবেন না। ঘরের ঠান্ডা জায়গায় রাখার চেষ্টা  করুন। সবজি বা পাকা ফল এর কাছাকাছি রাখবেন না।পাকা ফল থেকে বেরোনো ইথিলিন গ্যাস এ ফুল তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। এছাড়া আপনি রাতে ফুল ফ্রিজে রাখুন আর দিনেরবেলা আবার ফুলদানিতে সাজিয়ে ঘরের শোভা বাড়ান।